ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

দেশে পর্যাপ্ত থাকলেও ভারত থেকে আসছে গরু


রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:৩১ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৮, মঙ্গলবার
দেশে পর্যাপ্ত থাকলেও ভারত থেকে আসছে গরু

রাজশাহী সীমান্ত পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে আনা হচ্ছে ভারতীয় গরু-মহিষ। ঈদুল আযহাকে সামনে করে ভারতীয় গরু-মহিষগুলো রাজশাহীর পশুহাটে বিক্রি করা হচ্ছে।

হাট কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতীয় গরুর চেয়ে বেশি আসছে মহিষ। ভারতীয় গরু-মহিষ আসায় লোকসানের শঙ্কায় রাজশাহীর খামারিরা।

রাজশাহীর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতরের সহকারী পরিচালক ডাক্তার হুমায়ন কবীর জানান, এবার রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় খামারি পর্যায়ে প্রায় ১৮ লাখ গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগল পালন করা হয়েছে। এই বিভাগে কোরবানির জন্য ষাড় গরু পালন হয়েছে চার লাখ ৩৫ হাজার ৮৪৭টি, বলদ জাতের গরু পালন হয়েছে ৮৮ হাজার ৮৫১টি, গাভী জাতের এক লাখ ৩১ হাজার ৪৪টি গরু পালন হয়েছে।

এছাড়াও মহিষ পালন হয়েছে ১৩ হাজার ৭৯টি। ছাগল পালন হয়েছে আট লাখ ৯৮ হাজার ৬৭টি এবং ভেড়া পালন হয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ২০৩টি। এই গরুগুলো রাজশাহীর চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসায়ী ও খামারিরা নিয়ে যায়।

নগরীর শ্রীরামপুর, নবগঙ্গা, কাশিয়াডাঙ্গা, হরিপুর এলাকার পদ্মা নদী দিয়ে ভাসিয়ে ভারতীয় সিন্ধু, আন্ধা, নেপালি, বল্ডার জাতের গরু আনা হচ্ছে। সঙ্গে মহিষও। তবে বাছুর গরু ও মহিষের সংখ্যা বেশি। গত কয়েক দিন থেকে নদীতে ভাসিয়ে এবং নৌকায় করে গরুগুলো নদী পার করে এপারে আনতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, কোরবানি উপলক্ষে কিছুদিন থেকে গরু ও মহিষ আসছিলো। গত কয়েকদিন থেকে গরু বেশি আসছে। সেই পশুগুলো সরাসরি নেয়া হচ্ছে হাটে। অনেক সময় অসুস্থ পশু হাটে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। কথা হয় পশু চিকিৎসক সেলিনা ও জাহিদের সঙ্গে। তারা বলেন, ভারত থেকে আসা গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা দরকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী বলেন, সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়েই তারা গবাদি পশু নিয়ে আনছেন হাটগুলোতে। এবার গরুর চেয়ে মহিষ আসছে বেশি। ভারত থেকে গবাদিপশু আসার জন্য দেশের বাজারে তেমন দাম বাড়েনি। গবাদিপশু বেশি এলে কোরবানিতে এবার বাজার নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এছাড়া পশুর সংকট হলে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পবার যোগিপাড়ার খামারি মজিবুর রহমান জানান, গত বছর তার ১৫টা গরু ছিলো। ভারত থেকে গরু আসার জন্য দাম পড়ে যায়। এর ফলে প্রায় লাখ টাকার লোকসান হয় তার। সেই জন্য এ বছর তিনি গরু পালন করেনি।

সোমবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালীহাটে কথা হয় খামারি আসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, তার খামারে ১২টি গরু রয়েছে। বাড়ি থেকে দুইটি বিক্রি করেছেন। হাটে চারটা নিয়ে এসেছেন। গত বছর ১৫টা গরু ছিলো। প্রথম দিকে দাম পেয়েছিলাম। পরে গ্রাহক দাম বলে না। তাই হাট থেকে গরু ফিরিয়ে নিয়েছিলাম। পরে বাধ্য হয়ে লোকসানে বিক্রি করতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে গরু আসলে আমাদের লোকসান হয়। সরকার যদি বন্ধ করে দেয়। তাহলে দেশের গরুতেই কোরবানি সম্ভব। দেশের স্বার্থেই ভারতীয় পশু আসা বন্ধ করা উচিত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিমেল হাজবেন্ড্রি অ্যান্ড ভেটেরিনারি সায়েন্স বিভিাগের অধ্যাপক প্রফসের ড. জালাল উদ্দনি সরদার বলেন, রোগাক্রান্ত গরু-মহিষও ঢুকছে হাটগুলোতে। ভারত অসুস্থ পশুগুলো আমাদের দেয়। এই পশুগুলো বেশিরভাগ খুড়া রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। জেলায় এক লাখ ৭৫ হাজার গরু রয়েছে কোরবানি উপযোগী।

তিনি বলেন, দেশে যে পরিমাণ গবাদিপশু আছে তাতে ভারত থেকে গরু আমদানির প্রয়োজন নেই। গবাদি পশুপালন করে দেশের অনেক বেকার যুবক আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এই শিল্পকে ধরে রাখতে হবে। গবাদি পশুপালনকারীদের হতাশ করা যাবে না।

এ বিষয়ে হাটের ইজারাদার ডাবলু জানান, কোরবানি উপলক্ষে প্রতিদিনই হাট বসছে। গত কয়েকদিনে হাটে বেচাকেনাও বেড়েছে। হাটের দিন গড়ে ৩০-৪০ হাজার পশু আসছে এই হাটে। অন্যান্য দিনও আসছে ১৫-২০ হাজার করে পশু। এসব পশুর মধ্যে রাজশাহী এবং রাজশাহীর আশেপাশের জেলাগুলোর খামারে পালন করা গরু এবং মহিষই আসছে বেশি।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/মিঠু