ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চা স্টলেই সংসার চলে সোহেলের


রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬:১৮ পিএম, ১০ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার
চা স্টলেই সংসার চলে সোহেলের

নিজেকে স্বাবলম্বী করতে মানুষ যে যার মতো ছুটে চলেছে। কেউ লাখ লাখ টাকা খরচ করে বড় শো-রুম দিয়ে বসে রয়েছেন, আবার কেউ ফুটপাতে সামান্য কিছু পুঁজি দিয়ে ব্যবসার পসরা সাজিয়ে বসেছেন।

এমনই একজন সোহেল। তার বাড়ি তানোর উপজেলায়। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর আগে রাজশাহী শহরে সে পা রাখে। নিজ এলাকায় কর্ম না পেয়ে তার এই রাজশাহী শহরে আসা।

তবে রাজশাহী তাকে নিরাশ করেনি। বাবা বৃদ্ধ ও পঙ্গু হবার কারণে কিশোর বয়সেই সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে সোহেলের কাঁধে। গ্রামে যে কাজ ছিল তা দিয়ে সংসার চলছিল না। উপায় না দেখে এই শহরে পা রাখলেন সোহেল। হাতে তেমন অর্থ না থাকায় শুরুতে অন্যের দোকানে কাজ করতে হয়।

সময়ের সঙ্গে কর্মঠ সোহেল সামান্য কিছু অর্থ জমিয়ে এই নগরে নিজের চায়ের একটি স্টল সাজিয়ে বসে। শুরুতে বেচা-বিক্রি কম থাকায় বিচলিত হয়ে পড়ে সোহেল। তবে সময়ের পরিক্রমায় এই নগরে এখন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তাতেই ধিরে ধিরে ভাগ্য পাল্টাতে শুরু করে সোহেলের।

নগরীর প্রাণকেন্দ্র আলুপট্টির মোড়ে অবস্থিত দৈনিক বার্তা কমপ্লেক্সের গ্রামীণ ফোন সেন্টারের সামনে সোহেলের চায়ের স্টল। সুন্দর পরিপাটি স্টলটিতে সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত ভিড় জমে থাকে ক্রেতাদের। চায়ের পাশাপাশি এখানে রয়েছে হালকা নাস্তার ব্যবস্থা। স্থানটি খোলামেলা হবার কারণে বিকেলে অনেকেই এখানে আসে আড্ডা দিতে। সেই সঙ্গে এলাকাটিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে কর্মরতরাও আসে সোহেলে দোকানে।

দীর্ঘ প্রায় আট বছর থেকে এখানেই সোহেল তার ব্যবসার পসরা সাজিয়ে বসে রয়েছে। ফলে স্থানীয়দের সাথে তার রয়েছে সুসম্পর্ক। কাথা-বার্তা ও আচার-আচরণে আন্তরিক হবার কারণে তাকে সকলেই স্নেহ করে।

এখানেই শেষ নয়; সোহেল তার স্টলে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সাগর নামের ওই কিশোরটি দিনমান কাজ যাই করুক না কেন তার স্টলটি মজিয়ে রাখে। সোহেল যা খায় সাগরকে নিয়েই খায়। সেই সঙ্গে বেলা শেষে সাগরের পরিবারকে তার আয়ের একটি অংশ তুলে দেয় সোহেল।

সোহেল রজাশাহী নহরীর সিরোইল কলোনীতে স্বাপরিবারের বসবাস করছে। চায়ের স্টলের আয় দিয়ে পঙ্গু বাবা, বয়স্ক মা ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখন তার সংসার দিব্বি চলে যাচ্ছে।

সোহেল বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কারও ওপর নির্ভরশীল না থেকে এভাবেই কর্মঠ জীবনযাপন করতে চাই।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/মিঠু