ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে ২শ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা প্রতারক ইব্রাহিম


রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:৪৫ পিএম, ২০ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার
রাজশাহীতে ২শ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা প্রতারক ইব্রাহিম

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ভুয়া কোম্পানির নামে ২শ কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে ইব্রাহিম আলী নামের এক প্রতারক।

স্থানীয় ও প্রতারণার শিকার লোকজন জানান, কিছুদিন আগে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মৃত ওমর আলীর ছেলে ইব্রাহিম আলী সিদ্দীক স্টোর নামে একটি কোম্পানি খুলে। সিদ্দিক স্টোর নামের কোম্পানিটির সরকারি কোন অনুমোদন না থাকলেও সিদ্দিক স্টোরের নামে ইব্রাহিম আলী এলাকার লোকজনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে।

এক লাখ টাকায় প্রতি মাসে ১৩ হাজার টাকা লাভ দিবে সিদ্দিক স্টোর এমন প্রচারণা চালায়। প্রথম দিকে সিদ্দীক স্টোর কয়েকজন আমানতকারীকে চুক্তি মোতাবেক লাভের অংশের টাকা পরিশোধ করলে শত শত ব্যক্তি অধিক লাভের আসায় সিদ্দীক স্টোরের মালিক ইব্রাহিম আলীর কাছে টাকা জমা দেন।

প্রতারণার শিকার বারুইপাড়া আলীপুরের তোজাম্মেল হক জানান, জমি বিক্রি করে ২৭ লাখ টাকা আমানত হিসেবে সিদ্দীক স্টোরে জমা করেন। এর বিপরীতে তিনশত টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত ও সোনালী ব্যাংক গোদাগাড়ী শাখার একটি চেক প্রদান করে সিদ্দিক স্টোর। চুক্তি অনুয়ায়ী লাভের অংশের প্রতি মাসে ১৩ হাজার টাকা করে একলাখ টাকার বিপরীতে ৩৯ হাজার টাকা তিনমাস পর আমানতকারীকে দেয়ার কথা রয়েছে। লাভের অংশেরসহ আমানতের টাকা ফেরত না দিয়ে গত ১০ জুলাই স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে ইব্রাহিম আলী। গত দশদিন ধরে ইব্রাহিম আলীর মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে।

উপজেলার দিয়াড় মানিক চকের কৃষক গিয়াসউদ্দীন ও তার ছেলে মিনারুল ৬ লাখ টাকা, গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মহিশালবাড়ী গ্রামের জরিনা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে জমানো ৫০ হাজার টাকা সিদ্দিক স্টোরে জমা রেখেছিলেন। তোজাম্মেল, গিয়াসউদ্দীন ও জরিনার মতো উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৫ শতাধিক ব্যক্তি সিদ্দীক স্টোরের স্বত্তাধিকারী ইব্রাহিমের কাছে প্রায় ২শ কোটি টাকা আমানত হিসেবে জমা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ইব্রাহিম আলী একদিনেই ১৩টি ট্রাক ক্রয় করে সড়কে নামিয়েছে। প্রতারণার শিকারদের মধ্য রয়েছে চা বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা, রিক্সা চালক, কৃষক, হুডি ও মাদক ব্যবসায়ী।

এদের মধ্যে বারুইপাড়ার ইলিয়াস আলী ৫০ লাখ টাকা, দিয়াড় মানিক চকের জহুরুল মেম্বারের ৩০ লাখ, শরিফুল মেম্বারের ২৫ লাখ, মহিশালবাড়ীর মহিউদ্দীন কলেজ পাড়ার জমিরউদ্দীনের ২৫ লাখ ও লোকমানের ৩০ লাখ টাকা রয়েছে। আমানত জমাদানকারীরা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য ইব্রাহিম আলীর মহিশালবাড়ির বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে। বাড়িতে শুধুমাত্র তার মা ছাড়া কেউ নেই।

ইব্রাহিম আলীর মা হাজেরা বেগম বলেন, তার ছেলে ইব্রাহিম আলী কোথায় গেছে তা জানা নেই। তবে এলাকার লোকজন জানান ইব্রাহিম বর্তমানে রাজশাহী শহরে কোথাও অবস্থান করছে। সে থাইল্যান্ড চলে যাবে এমনটাই এলাকাবাসী জানতে পেরেছে।

ইব্রাহিম আলীর বাড়িতে অবস্থান নেয়া আমানতকারীরা জানান, ইব্রাহিম আলী ঢাকার নামিদামি কয়েকটি কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রফতানি করে বলে আমানতকারীদেরকে কাগজপত্র দেখিয়ে আস্থা অর্জন করে। পরে আমানতকারীরা জানতে পেরেছে কোম্পানির সব কাগজপত্র ভুয়া। ইব্রাহিম আলী প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে কয়েক জনকে লাভের অংশের টাকা প্রদান করে ও কোম্পানির সঙ্গে জড়িত থাকার কাগজপত্র দেখায়।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আমানতকারীদের কাছ থেকে পুলিশ অবহিত হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/মিঠু