ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮ | ৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা, স্বামী আটক


রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫:১৩ পিএম, ১৩ জুন ২০১৮, বুধবার
রাজশাহীতে গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা, স্বামী আটক

রাজশাহীতে গলায় ফাঁস দিয়ে শিউলী খাতুন (১৬) নামের এক গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী সামিউল বাসার জয়কে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে নগরীর শালবাগান এলাকায় এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

শিউলী খাতুন নগরীর শালবাগান এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে সামিউল বাসার জয়ের স্ত্রী এবং নওদাপাড়া এলাকার মকলেসুর রহমানের মেয়ে।

নিহত গৃহবধূর স্বামী সামিউল বাসার জয় জানায়, তার স্ত্রী শিউলী মাঝে-মধ্যেই বলতো আমি তোর ভাত খাবো না। এনিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার মতো ঘটনা ঘটতো। মঙ্গলবার ঠিক এমনটিই ঘটেছিলো।

এদিকে শিউলীর মা চায়না বেগম জানান, মঙ্গলবার বিকেলে জামাই জয়ের বাড়িতে ঈদের সেমাই-চিনি দিতে গিয়েছেলেন তিনি। এসময় বাসায় গিয়ে দেখেন জামাই ও মেয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ড চলছে। পরে তিনি তাদের বুঝিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসতে চাইলে জয় বাধা দেয়।

তিনি বলেন, তখনি শিউলী আমাকে বলেছিল ‘তুই আমাকে নিয়ে যা। না হলে আমি কোন কিছু করে ফেলবো।’ এরপর শিউলী ঘরের দরজা লাগিয়ে দিলে আমি চলে আসি। পরে রাত ৮টার দিকে শিউলীর বাবাকে দিয়ে ফোন করা হলে জয়ের পরিবার থেকে বলা হয় শিউলী ভালো আছে। এরও পরে রাত ১১টার দিকে পুলিশ তাদের ফোন দিয়ে বলে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে ৮ মাস আগে জয়ের নানা বাড়ি পালিয়ে গিয়ে তারা দুই জন বিয়ে করে বলে জানান শিউলীর বোন মৌসুমি। তিনি বলেন, এসময় শিউলী নিখোঁজ হয়েছে এমন অভিযোগে পরিবার থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়।

তিনি আরো বলেন, এর তিন মাস পরে জানা যায়, শিউলী বিয়ে করেছে। এরপর তারা শিউলী ও জয়কে মেনেও নেন। এনিয়ে নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবিারিকভাবে যাওয়া আসার সম্পর্কও গড়ে উঠে। তবে শিউলীকে জয় মাঝে মধ্যেই সন্দেহ করতো কারো সঙ্গে কথা বলছে কিনা। তাই তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে দিতো না জয়। এ নিয়ে কয়েকবার মারধরও করেছে সে।

এ বিষয়ে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ওই ঘটনায় স্বামীকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া নিহত শিউলীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/সুজন