ঢাকা, রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পায়ের দাম ৮০ হাজার টাকা!


চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৯:১৫ এএম, ২৭ মে ২০১৮, রোববার
পায়ের দাম ৮০ হাজার টাকা!

কিছুদিন আগেও টিটু বড়ূয়ার সুস্থ সবল দুটি পা ছিল আর দশজন স্বাভাবিক মানুষের মতো। গত ৫ এপ্রিল নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকের চাপায় ঊরু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তার বাঁ পা। এক পা হারিয়ে ট্রাক মালিকের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন টিটুর অবস্থা এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। অবস্থার অবনতি হলে ৫ মে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। ড্রেসিং, কেবিন ভাড়া, রক্ত ও ওষুধ বাবদ প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকা খরচ হয় তার চিকিৎসায়।

শিগগির অস্ত্রোপচার করতে হবে পায়ের কাটা জায়গায়। কৃত্রিম পা লাগাতে হবে। এর জন্য দরকার কয়েক লাখ টাকা। কিন্তু এত টাকা ব্যয় করার সামর্থ্য নেই টিটুর পরিবারের।

বিএসএমএমইউর সহযোগী অধ্যাপক কৃষ্ণপ্রিয় দাসের অধীনে চিকিৎসাধীন টিটু। কৃষ্ণপ্রিয়  বলেন, টিটুর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও এখনও শঙ্কামুক্ত নন। পা হারানো ছাড়াও টিটুর শরীরের একটি অংশের চামড়া উঠে এসেছে। তা সারাতে অস্ত্রোপচার করতে হবে।

টিটু বড়ূয়ার বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। তার বাবা সুবিমল বড়ূয়া খৈয়াছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। সুবিমল ও শিখা রানী বড়ূয়া দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট টিটু। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। টিটুই বৃদ্ধ বাবা-মায়ের একমাত্র অবলম্বন। এইসএসসি পাস টিটু চট্টগ্রাম ইপিজেডে আজিম গ্রুপে চাকরি করতেন।

হাসপাতালে টিটুর শয্যা পাশে কথা হয় তার মা শিখা রানী বড়ূয়া ও বোন শর্মী বড়ূয়ার সঙ্গে। কান্নায় বারবার কথা আটকে যাচ্ছিল শিখা রানীর। তাই প্রশ্নের উত্তরগুলো শর্মী বড়ূয়াই দিলেন। তিনি জানালেন, টিটুকে চাপা দেওয়া ট্রাকটির ব্রেক ফেল ছিল। চালক চলতি ট্রাক থেকে নেমে যান। নিয়ন্ত্রণ হারানো চলন্ত ট্রাক টিটুকে চাপা দিয়ে রাস্তার পাশে একটি বাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়।

এক পা বিচ্ছিন্ন হলেও মামলা করেনি টিটুর পরিবার। তার বাবা সুবিমল বড়ূয়া বলেন, মামলা চালানোর মতো সামর্থ্য তাদের নেই। পুলিশ তাদের বলেছে, মামলা করে ক্ষতিপূরণ পেতে অনেক সময় লাগবে। তার চেয়ে `নগদ যা পাওয়া যায়` তাই নিয়ে নেওয়া ভালো। তিনি জানান, স্থানীয় পরিবহন নেতা জাহাঙ্গীর আলম এবং আকবর শাহ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন ডেকে নিয়ে তাকে ৮০ হাজার টাকা দেন। তারা বলেন, `৮০ হাজার নিলে নাও, নইলে এক টাকাও পাবে না।`

আকবর শাহ থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, তিনি চলতি মাসে থানায় যোগ দিয়েছেন। এপ্রিল মাসের ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না। তিনি বলেন, আগে কী হয়েছে জানি না, তবে টিটু বড়ূয়া বা তার পরিবার যদি এখনও মামলা করে চায়, মামলা নেওয়া হবে।

অমৃতবাজার/জয়