ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ | ৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে শুটিংয়ের আড়ালে মাদক ব্যবসা


রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:৩০ পিএম, ২৪ মে ২০১৮, বৃহস্পতিবার
রাজশাহীতে শুটিংয়ের আড়ালে মাদক ব্যবসা

বছর কয়েক আগে টেলিফোন ও ফটোকপির দোকানের কর্মচারি ছিলেন আসলাম সরকার। সেখান থেকেই পরিচয় ঘটে কয়েকজন কলাকুশলীর সঙ্গে। এরপর নিজেই গড়ে তোলেন রাজশাহীর ‘সরকার প্রোডাকশন হাউস’।

এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে আসলাম সরকার গড়ে তোলেন বিশাল অপরাধ জগত। নারীদের দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড আর মাদক ব্যবসার কারবারে কয়েক বছরের মধ্যেই বনে যান কোটিপতি।

শুটিং করার নামে কক্সবাজার গিয়ে এক লাখ আট হাজার ইয়াবা নিয়ে আসার পথে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে রাজশাহীর মাদক চক্রের অন্যতম হোতা আসলাম সরকার (৪০)। বুধবার সকালে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে র‌্যাব-৭ এর সদস্যরা তাকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে উদ্ধার ইয়াবার মূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। তাকে গ্রেফতারের সময় প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের যে মাইক্রোবাসটি র‌্যাব জব্দ করে সেটিও ছিল আসলাম সরকারের।

র‌্যাব-৭ কক্সবাজারের কোম্পানি কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন জানান, আসলাম সরকার বহুদিন থেকে মিউজিক ভিডিও ও সুটিংয়ের নাম করে কক্সবাজারে আসা যাওয়া করে। কক্সবাজার থেকে যাওয়ার সময় সে ইয়াবা নিয়ে গিয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে। এমন তথ্য তাদের কাছে আগে থেকেই ছিল। এর আগে এক বার র‌্যাবের জল থেকে বেরিয়ে যায়।

র‌্যাব কর্মকর্তা মেজর রুহুল আমিন জানান, সপ্তাহখানেক আগে শুটিং এর টিম নিয়ে কক্সবাজারে ঢুকে রাজশাহী অঞ্চলের মাদকচক্রের অন্যতম হোতা আসলাম সরকার। ওই টিমে আসলাম ও তার মাইক্রোবাসের চালকসহ ছিল ১০ জন। পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে মাইক্রোবাসের তেলের টেংকির ভিতর করে সে ইয়াবা নিয়ে যাচ্ছিলো রাজশাহীতে। আসলাম ও তার ড্রাইভারকে গ্রেফতার দেখানো হলেও তার টিমের আট শিল্পিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা।

স্থানীয়রা জানায়, রাজশাহীর ‘সরকার প্রোডাকশন হাউস’ ও ‘ব্লাক ক্যাফে’ এর সত্বাধিকারী আসলাম সরকার। তিনি নগরীর রজপাড়া থানাধীন ডিঙ্গাডোবা এলাকার আজিজুল আলমের ছেলে। এই আসলাম সরকার কর্মজীবনের শুরুতে একটি টেলিফোন ও ফটোকপির দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো। প্রায় ছয় থেকে সাতটি বিয়ে করেছে সে। বিভিন্ন থানায় নারী ঘটিত মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মাদকসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবসা করে এখন তিনি কোটিপতি।

নগরীর ঘোষপাড়া মেডিকেল অডিটরিয়ামের পূর্বে অবস্থিত ‘ব্ল্যাক ক্যাফে’ নামে প্রতিষ্ঠানটিতে সে গড়ে তোলে অপরাদ জগত। তিনতলার ওই ভবনটি পুরোটাই ভাড়া নিয়ে সেখানে মাদকসহ নারীদের দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালায়।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/শাওন