ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শার্শায় সড়ক গুলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ট্রাক্টর


বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫:৪০ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০১৮, বুধবার
শার্শায় সড়ক গুলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ট্রাক্টর

শার্শার মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মরণ যান ট্রাক্টর, আলমসাধু, নছিমন, ইঞ্জিন ভ্যান। মরছে নিরহ মানুষ। পকেট ভারি করছে প্রভাবশালী ও প্রশাসনের অসাধু ব্যক্তিরা। প্রতিবাদ করলেই জীবন নাশের হুমকি। শার্শার গ্রাম গঞ্জ থেকে শুরু করে শহর বাজারের সকল স্থানে এখন যন্ত্রদানব ট্রাক্টর, নম্বর বিহীন হুইলার, মান্ধ্যাত্মা আমলের ট্রাক, ট্রলি, আলম সাধু ও নছিমন। যা রয়েছে প্রভাবশালীদের কব্জায়। চালকের লাইসেন্স তো দুরের কথা চালানোর নেই কোনো অভিজ্ঞতা। ট্রাকের ফিটনেস না থাকলেও চলছে হুড়মুড়িয়ে।

গ্রামের রাস্তা গুলি চিকন তাই কি হয়েছে ? দানবের মত চলছেই ও চালাচ্ছে। কাঁচা রাস্তুা গুলি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে দেদার্ছে করছে মাটি-বালু বহন। যার ফলে কাঁচা রাস্তা গুলি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা এ সকল সড়ক গুলিতে চললেও তাদের থামানোর ব্যবস্থা নিচ্ছেই না বলে অভিযোগ উঠেছে।

আবার অনেকে অভিযোগ করে বলছে, প্রশাসনের দারে ঘুরেও কোনো ফল হয়নি। বরং প্রভাবশালীদের হুমকিতে চুপসে যেতে হয়েছে। তবে কোনো কোনো স্থানে প্রশাসন কতৃক জরিমানার কথা শোনা গেলেও মাটি বালি উত্তোলন বন্ধ হয়নি। বরং প্রভাবশালীরা বীর দর্পে আগের চেয়ে বহু গুনে এ সব মরণ যান সড়কে নামিয়ে মাটি বালি তুলে ভূমীর শ্রেণী পরিবর্তন করে চলেছে। ফলে ভুমীর নব্যতা বৃদ্ধি পেয়ে ফসল ফলানোর ক্ষমতা হারাচ্ছে চাষী জমি। চাষী জমির পাশ দিয়ে বালি মাটি বহনের ফলে ধুলা মাটি উড়ে পড়ছে ফসলের উপর। যার ফলে জমির ফলন ব্যাপকহারে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভূমীর শ্রেণী পরিবর্তনে সরকারী নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কে শোনে কার কথা। আর কেই বা করে তদারকি। এ যেন মঘের মুলুকে পরিণত হয়েছে।

ট্রাক্টর-ট্রলি, হুইলার, আলমসাধু মহাসড়কে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এ যন্ত্রদানব গুলির চালকরা তা মানছেই না। বরং নতুন করে বিষ ফোড়া হয়ে দেখা দিয়েছে ইঞ্জিন চালিত ভ্যান। তিন চাকার এ ইঞ্জিন চালিত ভ্যান গুলির দ্রুত গতির ফলে মহা সড়ক গুলিতে প্রতিদিন দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে।

এ দিকে মহা সড়কের পার্শবর্তী এলাকা গুলিতে গড়ে উঠছে ইটের ভাটা সহ মিল কারখানা। সড়কের পাশে গর্ত খানা বুজিয়ে করা হচ্ছে রাস্তা নির্মাণ। মাটি বালি বহনের ফলে সড়কে পড়ছে তা। যার ফলে সড়কের প্রতিদিন রাস্তায় ধুলার স্তর জমছে। যান চলাচলের সময় ধুলা ওড়ে। একটু বৃষ্টি হলেই দুর্ঘটনা বেড়ে যায় বহুগুণে। তখন মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হয় সড়ক গুলো। যার ইতিহাস জন্ম দিয়েছিল ২০১৭ সালের গ্রীস্ম মৌসুমে। এক রাতে গুটি গুটি বৃষ্টির ফলে নাভারণ-সাতক্ষিরা সড়কের কুচেমুড়া নামক স্থানে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায়। সে রাতে ৬ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল কর্দময় পিচ্ছিল এ সড়ক।

নাভারণ-বেনাপোল ও নাভারণ-বাগআঁচড়া মহা সড়কে প্রতিদিন ২শতাধিক ট্রাক্টর, হুইলার, পুরাতন ট্রাক চলছে। যাদের চালক গুলির নেই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স। এ সব যন্ত্রদানবের নেই কোনো রেজিট্রেশন। ফলে আনাড়ী চালকারা প্রতিদিনই ঘটাচ্ছে দুর্ঘটনা। মরছে নিরীহ মানুষ, হচ্ছে পঙ্গু।

গত ১০ মার্চ এ বালি বহনকারী ট্রাকের দুর্ঘটনার শিকার হয়ে জীবন দিতে হল বাগআঁচড়ার দুই স্কুল ছাত্রীকে। প্রতিবাদ করতে পারেনি কেউ। কারণ ট্রাকটি ছিল প্রভাবশালীদের এবং আর তাদের সঙ্গেই মাসিক চুক্তিতেই এ ট্রাক গুলিকে সড়কে দাপিয়ে বেড়ানোর ইজারা দিয়েছে বলে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

এখনই যদি এ যন্ত্রদানবকে থামানো না যায় তাহলে মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হবে এ দুটি মহাসড়ক। সন্তান হারাবে পিতা-মাতা। মেধাবী শিক্ষার্থী হারা হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি। শোকের মিছিলে পরিণত হবে সড়ক গুলি। চাষী তার ভূমীতে ফসল ফলানোর ক্ষমতা হারাবে। ভূমীতে ঘটবে শ্রেণী পরিবর্তন।

অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের সঙ্গে বিশেষ চুক্তির ফলে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ট্রাক্টর সমিতির কাছ থেকে মাসিক ১২শ’ টাকার বিনিময়ে মাসোহারা নিয়ে প্রভাবশালীরা প্রশাসনের মুখে কুলুপ এটে দিচ্ছে। যার ফলে সড়ক গুলিতে মৃত্যুর মিছিল বাড়তে আছেই।

অমৃতবাজার/রাসেল/সবুজ