ঢাকা, রোববার, ২১ অক্টোবর ২০১৮ | ৬ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ধানের ক্রয়মূল্য পনেরশ’ টাকা নির্ধারণের দাবি


যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪:০০ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৮, শুক্রবার
ধানের ক্রয়মূল্য পনেরশ’ টাকা নির্ধারণের দাবি

ধানের ক্রয়মূল্য পনেরশ’ টাকা নির্ধারণেরসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন জাতীয় কৃষক সমিতি যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোরের নীলরতন ধর রোডস্থ জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ১০ দফা দাবিতে বলা হয়েছে সরকারকে ধানের নির্ধারিত মূল্য সংশোধন করতে হবে এবং মূল্য নির্ধারণের নীতি প্রশ্নে উৎপাদন খরচের ৫০ ভাগ সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিমন ধান ১৫০০ টাকা ক্রয় মূল্য দিতে হবে।

চালের বদলে সরকারকে পুরটাই ধান ক্রয় করতে হবে এবং কৃষককে ব্লক সুপারভাইজারের মাধ্যমে আগাম পুর্জি দিতে হবে এবং ইউনিয়নে ইউনিয়নে ক্রয়কেন্দ্র খুলতে হবে। কৃষিতে যে সকল ভর্তুকি প্রদান করা হয় তা প্রতিটি চাষে সার, বীজ, সেচ ও যন্ত্রপাতি বাবদ সরাসরি কৃষককে দিতে হবে। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে কৃষকের হ্রাস মূল্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুযোগ দিতে হবে। সারক্রয়ের পুজি দিতে হবে যাতে নির্দিষ্ট দোকানে কৃষক কম মূল্যে সার কিনতে পারেন। সেচের ক্ষেত্রেও অনুরূপ সুযোগ উৎপাদক কৃষককে দিতে হবে। ক্রয়কেন্দ্রগুলিতে সিন্ডিকেট ও দলীয় ক্যাডারদের অবৈধ নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে। ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রির সময় বিভিন্ন অজুহাতে কৃষকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। খেতমুজুর, দিনমুজুর, গরীব কৃষক, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। কৃষকের জন্য শস্যবীমা চালু করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু বক্কার সিদ্দিকী। বক্তব্য পাঠ করেন, জেলা সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির পলিট ব্যুরো সদস্য জেলা সভাপতি ইকবাল কবির জাইিদ, জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অনিল বিশ্বাস ও  জাকির হোসেন হবি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হাফিজুর রহমান বুলু, আজাহার আলী ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা সভাপতি নাজিম উদ্দিন প্রমুখ। সম্মেলনে আগামী ২৬ এপ্রিল দুপুর ১২টায় যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে খাদ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং উপজেলা ও হাটবাজারে কৃষক সভা ও সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এমনই এক মুহূর্তে সরকারের ধান ও চালক্রয় নীতির ওপর কথা বলার জন্য এই সংবাদ সম্মেলনে মিলিত হয়েছি যখন এবারের ইরি-বোরো মরশুমে পাকা ধানে কেবল পোচ লেগেছে। আর মাত্র দেড়-দু’সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে এবং শুরু হবে গরিব কৃষকের সস্তায় আগাম অভাবি বিক্রি ও দেনা শোধের পালা। দরিদ্র কৃষক, বর্গাচাষী, লিজি ও চুক্তিকৃষকেরা লাভজনক মূল্যে ধান বিক্রি করার লক্ষ্যে কিছু দিনের জন্য ঘরে ধান আটকে রাখতে পারেন না। তাদের অধিকাংশ জনই ধারে বাকিতে সার, কীটনাশক, ডিজেল কিনে দোকানে দোকানে বাধা পড়ে আছেন। তাই ইতোমধ্যে তাদের নামে মহাজন-দোকানিদের হালখাতার নোটিশ আসতে শুরু করেছে। সরকার ইতোমধ্যে দায়সারা গোছের চাল ও ধান ক্রয়ের মূল্য নির্ধারণ করে ৯ লাখ টন চাল ও মাত্র দেড় লাখ টন ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছে। ধান ২৬ টাকা ও চাল ৩৮ টাকা কেজি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, কৃষক ধান উৎপাদন করেন ঠিকই, কিন্তু তারা এখন আর আগের মতো বাজারে চাল বিক্রি করেন না। চাল উৎপাদিত হয় মহাজনের চাতালে। তাই, চালের মালিক চাতালের মালিক ও পুঁজির মালিক আড়তদার। সরকার হিমঘরে থাকে; আর বাজারে ধানের দামও ঠিক করে পুজিঁপতিরা। এ ব্যাপারে সরকার প্রকারান্তরে পুঁজিপতিদের সেবা  করে চলেছে। এবারও সুকৌশলে কাজটি সরকার করেই দিয়েছে। সরকার ঘোষণায় বলেছে, ৯ লাখ টন চাল ও মাত্র দেড় লাখ টন ধান কেনা হবে। চাল তো আর কৃষক দিতে পারবেন না। ধান দেড় লাখ টন কী ভাবে কেনা হবে তা অতীতের মতোই সরকারদলীয় প্রভাবশালীরা স্লিপ পেয়ে গোডাউনে বিক্রি করবেন। কৃষক অতীতেও সরাসরি সরকারের কাছ থেকে ধানবিক্রির ঐ স্লিপ হাতে পান নি; এবারও তার ব্যবস্থা হয়নি।

জাতীয় কৃষক সমিতি যশোর জেলার কেশবপুর, বাঘারপাড়া ও সদর উপজেলার এবারের ইরি-বোরো মরশুমের খরচের কয়েকটি স্যাম্পেল হাতে পেয়েছে। তাতে দেখা যায়, বীজ, সার, সেচ, নিড়ানি, পরিবহণ, কাটা-বাঁধা, ঝাড়া বাবদ প্রতিমণ ধানের দাম আসে ৮০৪ থেকে ৯২৪ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়েছে, জেলায় আগের তুলনায় অনুপস্থিত জমি-মালিকানার হার বেড়েছে। সর্বত্র আগের তুলনায় বর্গচাষও কমেছে। এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিঘাতে ৮ থেকে ১০ মণ ধানের চুক্তিতে অথবা বিঘা প্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লিজে গরীব ভূমিহীন কৃষকেরা চাষ করেন।’

এ থেকে পরিত্রাণে অবিলম্বে কৃষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়।

অমৃতবাজার/প্রণব/শাওন