ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ | ১২ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধুর ‘হৈমন্তি’ বাঁচাতে আট সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল নাটোরে


রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:২২ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার
বঙ্গবন্ধুর ‘হৈমন্তি’ বাঁচাতে আট সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল নাটোরে

নাটোরের উত্তরা গণভবনে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে লাগানো ৪৬ বছরের ‘হৈমন্তি’ গাছ বাঁচাতে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। গাছটি বাঁচাতে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের একদল বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা গাছটি পর্যবেক্ষণ করে পরিদর্শন করেন।

আট সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সিটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নাজিরুল ইসলাম।

এসময় নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজ্জাকুল ইসলাম, নেজারত ডেপুটি কালেকক্টরেট (এনডিসি) অনিন্দ মন্ডল উপস্থিত ছিলেন।

নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজ্জাকুল ইসলাম জানান, জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর থেকে গ্রান্ডমাদার হাউস জঙ্গলে ভরপুর ছিল। পরে বর্তমান জেলা প্রশাসক গণভবন দর্শনার্থীদের উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে। সে সময় পরিষ্কার করতে গিয়ে গাছটি বঙ্গবন্ধুর স্ব-হস্তে রোপণ করার বিষয়টি ধরা পরে। ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্তরা গণভবনে এক সফরকালে তার স্ব-হস্তে একটি ‘হৈমন্তি’ গাছ রোপণ করেছিলেন। কিন্তু গাছটির চার দিকে ঝোপ-জঙ্গলে ভরা ছিল। পরে পরিষ্কার করে গোড়া বেধে দেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন অবহেলায় থাকার কারণে পোকার আক্রমণে গাছটি মরে যাওয়ার পথে।

এ অবস্থায় নাটোরের জেলা প্রশাসন ঐতিহ্যবাহী গাছটি রক্ষার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের একদল উদ্যান বিশেষজ্ঞ গাছটি সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নাজিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি দল গণভবনে গাছটি পর্যবেক্ষণ করেছেন।

এসময় গাছটি বাঁচাতে বেশ কয়েকটি সুপারিশমালা দিয়েছে বিশেষজ্ঞ দলটি। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শাহাদৎ হোসেন, ড. কবিতা আঞ্জুমান আরা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হর্টিকালচার বিভাগের পরিচালক কুদরতি গণি, ঊর্দ্ধতন বৈজ্ঞনিক কর্মকর্তা এএসএম মেজবা উদ্দিন, ঊর্দ্ধতন বৈজ্ঞনিক কর্মকর্তা মাফরুহা আফরোজ, সেচ ভবনের মার্কেটিং এক্সপার্ট বজলুর রহমান, নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম, উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তার উপপরিচালক মেফতাহুল বারী।

প্রতিনিধি দলের প্রধান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নাজিরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্ব-হস্তে লাগানো গাছ অনেক ঐতিহ্য বহন করে। বর্তমানে গাছটির বয়স ৪৬ বছর হয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে গাছটি অযত্ন অবহেলায় থাকার কারণে পোকার আক্রমণে গাছটি নষ্ট হয়ে গেছে। তবে পুরোপুরিভাবে রিকভার করা সম্ভব না হলেও দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখতে বেশ কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিছু উদ্যোগ নিলে গাছটি বাঁচানো সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/শাওন