ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ | ১২ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যশোরে বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপিত


যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:৪৮ পিএম, ১৭ মার্চ ২০১৮, শনিবার
যশোরে বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপিত

যশোরে ব্যাপক উচ্ছাস-উদ্দিপনার সাথে যথাযোগ্য মর্যাদায় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপিত হয়েছে।  ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন: রঙ ছড়ানো আলো, লাল- সবুজের বাংলাদেশে থাকবে শিশু ভাল’ এমন দৃপ্ত অঙ্গিকারে সারা দেশের সাথে একযোগে শনিবার এ দিবস উদযাপিত হয়।

এ দিবসকে সামনে রেখে দিনব্যাপী জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচির ছিল সকালে আনন্দ শোভাযাত্রা, বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা, ৭ মার্চের ভাষণ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে মিলাদ ও প্রার্থনা অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কর্মসূচির শুরুতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৮টায় কালেক্টরেট চত্বরে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল। শোভাযাত্রা করে বকুলতলাস্থ বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শোভাযাত্রা জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন যবিপ্রবির ভিসি প্রফেসর ডক্টর আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম রফিকুন্নবী, সিভিল সার্জন দিলীপ কুমার রায়, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।

শোভাযাত্রা শেষে জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে সমবেত শিশুদের উদ্দেশ্যে প্রদর্শিত হয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল। স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হুসাইন শওকত।  অতিথি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান আলী হোসেন মণি, যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ও প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু জীবনীর ওপর আলোচনা করে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ইফফাত জাহান।

সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল আওয়াল বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ-চিন্তা চেতনা ধারণ করতে পারলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশ গড়ার নেতৃত্ব দিতে হবে আজকের শিশুদেরই। তাই শিশুরা যেন সৃজনশীল মুক্তমনের মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে-বঙ্গবন্ধু সব সময়ই সেটা চাইতেন। তাই জাতির জনকের জন্মদিনকে শিশু দিবস হিসেবে পালন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই মহান নেতার জীবন ও আদর্শ অনুসরণে এ দেশের শিশুরা যথাযোগ্য সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। বাংলাদেশকে সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষে তাঁর দেশপ্রেম ও আদর্শকে মনেপ্রাণে ধারণ ও লালন করতে শিশুসহ সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।

শেষে জেলা শিশু একাডেমী, জেলা শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশকে জানুন’ শীর্ষক কুইজ  বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃৃন্দ।

শেষে সাধন কুমার দাসের রচনায় ‘হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক গীতি আলেখ্য পরিবেশন করে জেলা শিশু একাডেমির শিক্ষার্থী শিশুরা।

অমৃতবাজার/প্রণব/শাওন