ঢাকা, রোববার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সহপাঠীরা পরীক্ষার হলে, বাবলি না ফেরার দেশে


মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:০৮ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৬:৩৩ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বৃহস্পতিবার
সহপাঠীরা পরীক্ষার হলে, বাবলি না ফেরার দেশে

সহপাঠীরা যখন পরীক্ষার হলে তখন মেহিয়া আক্তার বাবলি নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী না ফেরার দেশে চলে গেছে। বুধবার রাতে বাবলি সদরের বাইমহাটি গ্রামের লোকমান মিয়ার ভাড়া বাসার একটি কক্ষে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে। তার বাবার নাম বখতিয়ার রানা ও মাতার নাম পারুল বেগম। বাড়ি ঢাকার সায়দাবাদ এলাকায়।

পুলিশ ও জয়ার মা ফাতেমা বেগম জানান, মেহিয়া আক্তার বাবলি ও তার সহপাঠী আছিয়া খাতুন জয়া ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রী। জয়ার বাড়ি বিক্রমপুরের লৌহজং এলাকার কলাপাড়া গ্রামে। পিতার নাম রফিক মিয়া। মেহিয়া আক্তার বাবলির মা পারুল বেগম ঢাকায় পার্লারের ব্যবসা করেন। স্বামী পরিত্যাক্তা পারুল দ্বিতীয় স্বামী নিয়ে ঢাকার সায়দাবাদ এলাকায় বসবাস করেন।

বাবলি ও জয়া ভারতেশ্বরী হোমসের নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে হোস্টেলে রান্না করছিল এবং প্রায়ই তারা অসুস্থ থাকতো। এ বিষয়টি নজরে আসলে মেহিয়া আক্তার বাবলিকে গত রমজান মাসে হোস্টেল থেকে বের করে দেয় হোমস কর্তৃপক্ষ। ২৪ অক্টোবর আছিয়া খাতুন জয়াকেও বাহির থেকে লেখাপড়ার সুযোগ দিয়ে হোস্টেল থেকে বের করে দেয়া হয়। একই প্রতিষ্ঠানে একই শ্রেণিতে লেখাপড়া করার সুবাদে দুই পরিবারের সাথে যোগাযোগ ছিল। এসএসসি ফরম পূরণের আগে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পায়। এসএসসি পরীক্ষার আগের দিন ৩০ জানুয়ারি মেহিয়া আক্তার বাবলির মা মির্জাপুর সদরের বাইমহাটী গ্রামের লোকমান হোসেনের বিল্ডিংয়ের একটি ফ্লাট ভাড়া নেন। ভাড়া বেশি হওয়ায় জয়ার মা ফাতেমা আক্তার সুমির সঙ্গে যোগাযোগ করে দুইজনে মিলে বাসাটি ভাড়া নেন। বাবলি প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনে কথা বলতেন। গত মঙ্গলবার বাবলির মা ফোনে জয়ার মা ফাতেমাকে ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে ঢাকায় তার কাছে পাঠাতে বলেন। পরে ফাতেমা বাবলিকে ১৫০ টাকা দিলে বাবলি বিকেল তিনটায় ঢাকার উদ্দেশে চলে যায়। বুধবার সন্ধ্যায় বাবলি মির্জাপুরের ভাড়া বাসায় ফিরে এবং ড্রেস পরিবর্তনের কথা বলে তার কক্ষ আটকিয়ে দেয়। সময় বেশি নেয়ায় ফাতেমা ও তার মেয়ে জয়ার সন্দেহ হয়। পরে তারা বাসার মালিকদের খবর দিলে তারা দরজা ভেঙ্গে বাবলির ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পায়। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ বাবলির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে।

মেহিয়া আক্তার বাবলির মায়ের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ প্রতিভা হালদারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, মেহিয়া আক্তার বাবলি ও আছিয়া খাতুন জয়ার বিরুদ্ধে হোমস হোস্টেলের নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ থাকায় প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার সুযোগ রেখে হোস্টেল থেকে বের করে দেয়া হয়।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হকের সঙ্গে কথা হলে বলেন, বাবলির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অমৃতবাজার/এরশাদ