ঢাকা, রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ | ৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যশোরে বিনম্র শ্রদ্ধায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ


যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:৩৬ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
যশোরে বিনম্র শ্রদ্ধায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ

মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের আগমুহূর্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার বুদ্ধিজীবীদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে যশোরবাসী। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৌন পদযাত্রা সহকারে যশোর শংকরপুর বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধাবনত. চিত্তে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এ শহীদদের স্মরণ করেন তারা।

একইসাথে মুক্তিযোদ্ধাসহ শত-শত জনতা মুষ্টিবদ্ধ হাতে দৃপ্ত কন্ঠে শপথ নিয়ে বলেন, শহীদদের রক্তঋণের কিছুটা দায়মুক্তিতে সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং বিচার হওয়া অপরাধীদের দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে।

জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এদিন সকাল থেকেই যশোর শংকরপুর রায়পাড়া বধ্যভূমিতে ভিড় করছে জেলার সর্বস্তরের মানুষ।

শ্রদ্ধা জানান, জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা রাজেক আহম্মেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার, পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি মনোতোষ বসু, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান বকুল, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামান, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু প্রমুখ।

এছাড়া পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, যশোর পৌরসভা, জেলা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সকল সংগঠন, জেলা বিএনপি ও তার সকল সহযোগী সংগঠন, জেলা জাসদ, জেলা বাসদ, জেলা ছাত্রলীগ, জেলা ছাত্রদল, জেলা ছাত্র মৈত্রী, সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী, সুরবিতান, চাঁদের হাট, তির্যক, বিবর্তন, সুরধুনী, শেকড়, স্পন্দন, আইডিইবি, যশোর ফ্লিম সোসাইটি, শিশু একাডেমী যশোর, সরকারি এমএম কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, যশোর আওয়ামী লীগ ও সমর্থক গোষ্ঠী, যবিপ্রবি, জেলা শিক্ষক সমিতি, প্রথম আলো বন্ধুসভা, জেলা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফন্ট্র, ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ, জেলা ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, যশোর কলেজ, ট্রেড ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট, জেলা ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত মুহূর্তে পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশিয় দোসর আলবদর, রাজাকার, আল-শামস ঘাতকরা বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে রাতের অন্ধকারে মেতে ওঠে বুদ্ধিজীবী নিধনযজ্ঞে। তারা হত্যা করে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ১৪ ডিসেম্বর সারা দেশ থেকে সহশ্রাধিক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে পৈশাচিকভাবে হত্যা করে তারা। অনেকের লাশই পাওয়া যায়নি।

হানাদাররা সেদিন কেবল ঢাকাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী, পদস্থ সরকারি- বেসরকারি কর্মকর্তাসহ প্রায় দেড়শ’ বুদ্ধিজীবী-কৃতী সন্তানকে অপহরণ করে মিরপুর ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নিয়ে হত্যা করে। সেই থেকে ১৪ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক শোকাবহ দিন।

অমৃতবাজার/প্রণব/মিঠু