ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

যশোরে বাবাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে ছেলে


যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭:৫৪ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৮:১৩ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার
যশোরে বাবাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে ছেলে

পুকুরের এক পাড়ে দালান ঘরে শান্তিতে ঘুমান পুত্র, পুত্রবধূ ও স্ত্রী। অন্য পাড়ে কাঁঠাল গাছের নিচে শিকলে বাঁধা রয়েছেন ইউনুস আলী। যশোরের মণিরামপুরের মাছনা গ্রামে এই ব্যক্তিকে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ৪ থেকে ৫ মাস এভাবেই দিনরাত পার করতে হচ্ছে। ছেলে ইয়াকুব বিল্লাহ’র দাবি পিতা মানসিক রোগী। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছে।

তাবে ইউনুস আলীর ভাষ্য, ছেলে ইয়াকুব ও স্ত্রী আকলিমা তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিয়েছে। নিজের লাগানো গাছ বিক্রি করে দিয়েছে। অথচ তার চিকিৎসা না করিয়ে এভাবে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে বেঁধে রেখেছে। প্রতিবেশীরা বিষয়টিকে নিদারুন অমানবিক বলছেন। ইউনুস আলীকে চিকিৎসা করালে সুস্থ্য হয়ে উঠতেন বলে তাদের ধারণা।

সরেজমিন মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে গিয়ে গেলে দেখা যায় পুকুরপাড়ের কাঁঠাল গাছের নিচে সিমেন্টের কাগজের উপর শুয়ে আছেন ইউনুস আলী। কাছে যেতেই উঠে বসেন তিনি। নাম জিজ্ঞাসা করতেই বলেন, তিনি ইউনুস আলী। তার পিতার নাম মৃত ফজলুর রহমান। তাকে ৪/৫ মাস ধরে এখানে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। তার ছেলে ইয়াকুব বিল্লাহ ও তার (ইউনুস) স্ত্রী আকলিমা। তাকে খেতেও দেয় না তারা। মাঝে মধ্যে বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগম তাকে খাবার দিয়ে যায়। ছেলে ইয়াকুব ও স্ত্রী আকলিমা তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিয়েছে। নিজের লাগানো গাছ বিক্রি করে দিয়েছে। অথচ তার চিকিৎসা না করিয়ে এভাবে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে বেঁধে রাখা হয়েছে বলে ইউনুস আলী এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন। ইউনুস আলীর কথা শুনে মনেই হচ্ছিল না তিনি মানসিক রোগী।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ইউনুসের প্রতিবেশী কওছার আলী বলেন, আট বছর আগে হঠাৎ ইউনুস আলী মানসিক ভারসাম্যহীন হলে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। কিন্তু ইউনুসের তেমন কিছু হয়নি জানিয়ে চিকিৎসকরা ওষুধ দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন। তারপর মাঝেমধ্যে অসুস্থ্য হন আবার চিকিৎসা দিলে সুস্থ হয়ে যায় ইউনুস আলী।

প্রতিবেশী আব্দুল গনি বলেন, গেল বড় বৃষ্টি-কাদার মধ্যে ওই পুকুর পাড়েই শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় খেয়ে না-খেয়ে দিন-রাত কেটেছে ইউনুস আলীর। অথচ কোন চিকিৎসাই করাচ্ছে না ইউনুসের ছেলে ইয়াকুব। কথা হয় ইউনুস আলীর বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ছেলেকে এভাবে মাসের পর মাস গাছে বেঁধে  রেখে খেতেও দেয় না ইউনুসের ছেলে ও স্ত্রী। তিনি মাঝেমধ্যে খাবার দিয়ে আসেন। এ সময় ইয়াকুবের বাড়ি গেলে পুত্রবধূ আসমা ছাড়া কেউ বাড়িতে ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, তার শ্বশুরকে তারা খাবার দিলেও তিনি তা খান না। এ সময় মুঠোফোনে ছেলে ইয়াকুব বিল্লাহ’র সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, টাকা পয়সার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

অমৃতবাজার/প্রণব/ইকরামুল

Loading...