ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বাঁচতে চান ডা. মো. নুরুল ইসলাম


গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪:৩৭ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, শনিবার
বাঁচতে চান ডা. মো. নুরুল ইসলাম

ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ডা. মো. নুরুল ইসলাম (২৮) সুস্থ হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ইউরোপ, আমেরিকা অথবা জাপানে নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানে নিয়ে চিকিৎসা করালে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে চিকিৎসকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
 
ডা. মো. নুরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে গত ডিসেম্বর থেকে শয্যাশায়ী। বর্তমানে তিনি অচল হয়ে পড়েছেন। চলাফেরা করতে পারছেন না। ঘরের বিছানায় শুয়েই তার দিন কাটছে। সুস্থ হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার প্রহর গুনছেন তিনি।

ডা. মো. নুরুল ইসলাম গোপালগঞ্জ শহরের চৌরঙ্গী রোডের ব্যবসায়ী মতিনুর রহমানের একমাত্র ছেলে। তার মা শহরের আলীয়া মাদরাসা সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাছিমা খানম। তারা একমাত্র ছেলের চিকিৎসায় পরম মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০১২ সালে বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ থেকে পাশ করার পর মো. নুরুল ইসলাম ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজে চাকরি শুরু করেন। ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে তার শরীরে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। প্রথমে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে ৬ মাস চিকিৎসা করা হয়। পরে ভারতের কোলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টার থেকে ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়। পরে তাকে নিয়মিত চেকআপ করানো হয়। কিন্তু, গত ডিসেম্বরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেলের হেমাটোলজি বিভাগে প্রফেসর ডা. এমএ খালেকের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়। তিনি চিকিৎসার পর তাকে জাপান নেয়ার পরামর্শ দেন। পরে তাকে কোলকাতা নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ইউরোপ, আমেরিকা অথবা জাপান নিয়ে চিকিৎসা করালে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান।

নুরুল ইসলামের ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় পরিবারের পক্ষ থেকে স্বজনদের সহায়তায় অন্তত ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এতে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে এখনো ইউরোপ, আমেরিকা বা জাপান নেয়া সম্ভব হয়নি।

ডা. নুরুল ইসলামের পিতা মতিনুর রহমান বলেন, ছেলের চিকিৎসা করিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। স্ত্রীর আয়ের টাকা দিয়ে কোন রকম সংসার চলছে। মানবতাবাদী প্রধানমন্ত্রী আমার ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে সে সুস্থ হয়ে আবার চিকিৎসা সেবায় ফিরতে পারবে।

ডা. নুরুল ইসলামের মা নাছিমা খানম বলেন, একমাত্র ছেলেকে অনেক আশা নিয়ে বেসরকারি মেডিকেলে ডাক্তারি পড়িয়েছি। অনেক টাকা ব্যয় করেছি। পরে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ায় হতাশ হয়ে পড়েছি। চিকিৎসায় সহায় সম্বল সব খুঁইয়েছি। এখন তার চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী শেখ হাসিনার সাহায়তা কামনা করছি। তিনিই আমাদের এ সংকট থেকে রক্ষা করতে পারেন।

গোপালগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির সহসভাপতি আলহাজ্ব মো. মোশারফ হোসেন বলেন, মেধাবী এ চিকিৎসককে বাঁচাতে সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তবেই ডা. নুরুল ইসলাম সুস্থ হয়ে আবার মানব সেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারবেন।
 
গোপালগঞ্জ আড়াই’শ বেড জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক চৌধুরী ফরিদুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ডা. নুরুল ইসলামকে বিদেশে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিদেশে তাকে উন্নত চিকিৎসা করা হলে সুস্থ হয়ে ফিরবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এ ব্যাপারে সবাইকে সাহায্য ও সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ করছি।

অমৃতবাজার/রাজীব/রেজওয়ান

Loading...