ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার


রাজশাহী সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১১:৪৫ পিএম, ০৯ জুন ২০১৭, শুক্রবার
মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার

দুর্গাপুর উপজেলার হাটকানপাড়া এলাকায় মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত শিক্ষক আরিফুল ইসলাম উপজেলার নান্দীগ্রামের আফছার আলীর ছেলে।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসাটি ঘিরে রেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন বাদী হয়ে শুক্রবার বিকেলেই দুর্গাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার হাট কানপাড়া কলেজ মোড়ে অবস্থিত তানজীমূল কুরআন নুরানী অ্যান্ড মডেল একাডেমি মাদ্রাসার মক্তব ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩০) মাদ্রাসার এক ছাত্রকে (৯) টয়লেটে নিয়ে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরে মাদ্রাসার অন্য ছাত্ররা বিষয়টি বুঝতে পেরে টয়লেটের দরজায় ধাক্কা দিলে দরজা খুলে ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে বেরিয়ে আসে শিক্ষক আরিফুল। তাৎক্ষণিক বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে মাদ্রাসাটি ঘিরে রাখে। পরে থানা পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা জেবারুল ইসলাম জানান, তার ছেলে ওই মাদ্রাসায় দুই বছর ধরে আছে। মাদ্রাসার শিক্ষকরাই এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে তিনি কখনো কল্পনাই করেন নি। তিনি ওই মাদ্রাসায় আর তার ছেলেকে পড়াবেন না বলেও জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্র জানান, শিক্ষক আরিফুল ইসলাম দুই মাস আগে ওই মাদ্রাসায় যোগদান করেছেন। ১৫-১৬ দিন আগেও এক ছাত্রকে এভাবে বলাৎকার করে শিক্ষক আরিফুল। লোকলজ্জার ভয়ে ওই ছাত্র মাদ্রাসা ছেড়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে গেছে। পরে তার অভিভাকরাও আর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেন নি।

হাটকানপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আহসান হাবীব জানান, তিন বছর আগে তার ফ্ল্যাট বাড়িটি ভাড়া নিয়ে সেখানে মাদ্রাসা গড়ে তোলা হয়। বিভিন্ন এলাকার ছাত্র ওই মাদ্রাসায় থেকে পড়াশুনা করে। কিন্তু মাদ্রাসার মতো জায়গায় এ ধরনের জঘন্য ঘটনা ঘটবে তা বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি। তার বাড়িটিতে আর মাদ্রাসা রাখবেন না বলেও জানান তিনি।

জানতে চাইলে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন জানান, মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বেশ সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু একজন শিক্ষকের দ্বারা এ ধরনের ঘটনা ঘটবে এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তিনি আরো জানান, বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে ৪৫ জন ছাত্র পড়াশুনা করে। একজন লম্পট শিক্ষকের কারণে অন্য ছাত্রগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে চললো।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার এসআই মজিবুর রহমান জানান, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে ঘটনা শুনেই সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এরপর মাদ্রাসায় গিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্র ও তার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। এ  ব্যাপারে মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন বাদী ভুক্তভোগী ছাত্রকে বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগ এনে অভিযুক্ত শিক্ষক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/রেজওয়ান