ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পুরো মাসের রেশন দিয়ে ৫শ’ পরিবারকে সহায়তা করল বাড্ডা থানা পুলিশ


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৬:১৪ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০২০, রোববার
পুরো মাসের রেশন দিয়ে ৫শ’ পরিবারকে সহায়তা করল বাড্ডা থানা পুলিশ

‘পুলিশ জনগণের সেবক’ কথাটি আরও একবার প্রমাণ করলো রাজধানীর বাড্ডা থানা পুলিশ। দেশে উদ্ভূত করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে থানার পুলিশ সদস্যরা নিজেদের চলতি মাসের পুরো রেশন দিয়ে ৫০০ পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে থানা চত্বরে অসহায়-দরিদ্র পরিবারের মাঝে তারা এসব খাদ্যসামগ্রী প্রদান করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।  

গণজমায়েত এড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে থানার পুলিশ সদস্যরা আন্তরিকতার সঙ্গে এসব সহায়তা সামগ্রী প্রদান করে। এ সময় বিভিন্ন ধর্মের যেমন-মসজিদে কর্মরত মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবায় নিয়োজিত পুরোহিত, গির্জায় কাজ করা কর্মীসহ প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতীকী হিসেবে উক্ত শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিদের সহায়তা দেয়ার পর বাকীদের নিজেদের গাড়ি দিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে বাড্ডা থানা পুলিশ।

এই কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী (বিপিএম)। তিনি বলেন, বাড্ডা থানা পুলিশ একটি মহতী উদ্যোগ নিয়েছে। তারা দেশের এই দুর্যোগময় মুহুর্তে নিজেদের পুরো মাসের রেশনকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তথা বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রদান করেছে। তাদের কৃতকর্মের জন্য একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে আমার গর্ব হচ্ছে। সার্বক্ষণিক এমন কাজে আমি পাশেই থাকবো। চেষ্টা করবো নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে মানুষের সেবা করার।  

তিনি আরো বলেন, পুলিশ বাহিনী আপনাদের সেবায় সব সময় পাশেই আছে। তাই আপনারা চিন্তিত হবেন না। যে কোন প্রয়োজনে আমাদেরকে ফোন/ফেসবুকে অবহিত করুন। আমরা আপনাদের ২৪ ঘন্টা সেবাদানে প্রস্তুত। তারপরেও আপনারা একান্ত প্রয়োজন ছাড়া করোনাভাইরাসের এই সময়ে বাইরে বের হবেন না।
খাদ্য সহায়তা প্রদানকালে অন্যান্যের মধ্যে অতি: উপ-পুলিশ কমিশনার হুমায়ূন কবির, সহকারী পুলিশ কমিশনার আলিম চৌধুরী, দেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে কর্মরত প্রতিষ্ঠান ফিফোটেক এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তৌহিদ হোসেন বলেন, নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ চেষ্টা করছি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে। যারই প্রেক্ষিতে বাড্ডা পুলিশের সঙ্গে মিলে এই কাজে অংশ নিয়েছি। যতটুকু পেরেছি তাদের সঙ্গে শরীক হয়ে সহায়তা করেছি। আগামীতেও এই প্রচেষ্টা আন্তরিকভাবে অব্যাহত থাকবে।