ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০ | ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দেশে চাঁদাবাজদেরও নেতা হতে দেখা যায়: সিইসি


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৩:৩৮ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, রোববার | আপডেট: ০৩:৩৯ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, রোববার
দেশে চাঁদাবাজদেরও নেতা হতে দেখা যায়: সিইসি ছবি- প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘আমাদের দেশে দেখা গেলো, একবার গুলিস্তান মহল্লায় হকারদের কাছ থেকে কেউ টাকা(চাঁদা) নেয়। কিছুদিন পর হয়তো তাকে দেখা গেলো নেতা, পাতি নেতা, উপ-নেতা তারপর পূর্ণ নেতা হতেও। তারপর কমিশনার হতে। এগুলোও তো আমাদের দেখতে হয়। কে জানেন, তিনি একদিন এমপি হবেন না? সুতরাং সেই ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়।’ 

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ৪৯ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার যোগদান উপলক্ষে ১২ দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক সময় বলা হয়, আমেরিকা এমন করে, সুইজারল্যান্ড, জার্মানিতে এ রকম হয়, আমাদের এখানে হয় না কেন? সেদিন একটা পলিটিক্যাল পার্টি এসে একথা বলেছিল। আমি অত্যন্ত নিচু গলায় বললাম কানে কানে, আগে সুইজারল্যান্ড হতে হবে, তারপর। ইউ মাস্ট থিংক গ্লোবালি, বাট অ্যাক্ট লোকালি। তবে সেটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।’

বিশ্বের অন্যান্য দেশের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কাজের তুলনা করে বলেন, ‘লন্ডনে কেউ ছয় মাস থাকলে নির্বাচনের আগে তাদের নিবন্ধন দিয়ে দেয়। ভুয়া ভোটার নেই বলেই তারা ধরে নেয়। আর আমাদের দেশে নির্বাচন কমিশনকে মলম পার্টি, পকেটমার, ব্যাগ টানা পার্টি ও ক্যাসিনো মেম্বার নিয়ে কাজ করতে হয়।’

নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সামাল দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের। এই দায়িত্ব আর কারও ওপর দেওয়া হয়নি। তার মানে সমাজের সর্বস্তরের সংমিশ্রণগুলো আপনারা একসঙ্গে পেয়ে যাচ্ছেন। এটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জের বিষয়। সেই চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবিলা করার বিষয় হলো—চেষ্টা, দক্ষতা ও একাগ্রতা। আর আপনাদের ব্যক্তিত্ব। নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত রাখুন।’ তিনি বলেন, ‘অনেক দেশে ৪০ লাখ ভোটার নিয়ে জাতীয় নির্বাচন হয়। অথচ আমাদের এক ঢাকা সিটিতেই ৫৪ লাখ ভোটারের ভোট হয়ে গেছে।’

ইসি সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অমৃতবাজার/এমআর