ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কাগজ ব্যবসায়ীদের অবস্থান ধর্মঘটের চতুর্থ দিন


অমৃবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার
কাগজ ব্যবসায়ীদের অবস্থান ধর্মঘটের চতুর্থ দিন

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধের দাবি এবং কাগজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ মহলের মিথ্যা অপপ্রচার, হয়রানি ও মামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী অবস্থান ধর্মঘট পালন করছে বাংলাদেশ পেপার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। একইসঙ্গে মিথ্যা মামলায় আটক নিরীহ ব্যবসায়ীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াবাজারে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে কাগজ ব্যবসায়ীরা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়।

এ সময় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা বন্ড কমিশনার বেআইনিভাবে অভিযানের নামে মালামাল লুট করেছে। গণমাধ্যমের ওপর হামলা করে আমাদের ওপর দায় চাপানো হয়েছে। আমরা গণমাধ্যমের ওপর হামলার সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্ত চাই। হামলাকারী যেই হোক তার কঠোর শাস্তি দাবি করছি একইসঙ্গে যারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের টার্গেটে সাধারণ ব্যবসায়ীদেরকে মিথ্যা মামলায় আটক ও হয়রানি করছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের শাস্তি দাবি করছি।

বাংলাদেশ পেপার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী সদস্য অনীল বাবু বলেন, ঐতিহাসিক নয়াবাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের রুটি-রুজি বন্ধ করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। সরকারের কাছে অনুরোধ এই চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করুন।

তিনি আরো বলেন, বন্ডের নামে অবৈধ অভিযান পরিচালনা, গুদাম থেকে মালামাল নিয়ে যাওয়া, সুপরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের আঘাত এবং মামলা করা একইসূত্রে গাঁথা। এসব কিছুর সঠিক তদন্ত দাবি করছি। আমাদের কেউ এর সঙ্গে জড়িত নয়, জড়িত থাকলে তার কঠোর বিচার চাই। একই অভিমত ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ পেপার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি আবুল মতিন জুয়েল ও বাংলাদেশ পেপার ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হক।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে আরো বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে নিজেরাই ব্যবসা করে এখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে। গত ৩১ অক্টোবরে দেশের একটি শীর্ষ পত্রিকায় এ নিয়ে খবর প্রকাশ হয়। খবরে বলা হয়, ঢাকার বন্ড কমিশনার এসএম হুমায়ুন কবিরের আত্মীয়স্বজনের নামে-বেনামে ৬টি বন্ড ও সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স রয়েছে। এসব লাইসেন্সের আওতাধীন গুদাম বা কারখানায় কোনো অভিযান হয় না। চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেটের অধীন কুমিল্লা ইপিজেডে গ্রিন স্টার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, চট্টগ্রাম কাস্টমসের অধীন মেসার্স সার্ভিস লাইনস লিমিটেড (সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট), ঢাকা বন্ড কাস্টমসের অধীন পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে ফুজিয়ান এক্সপোর্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ময়মনসিংহের ভালুকায় আইডিয়াল প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে), মোংলা ইপিজেডে হ্যাংসাং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে একটি কারখানার প্রাপ্যতাই রয়েছে ৫০ হাজার টন।

ব্যবসায়ীরা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে চীন থেকে আমদানিতে অসুবিধা হওয়ায় বন্ড কমশিনারেট সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মালামালের দাম বাড়িয়ে একচেটিয়া ব্যবসা করার পাঁয়তারা চালায়। এ লক্ষ্যে গত ৯ ও ১১ তারিখে বেআইনিভাবে অভিযানের নামে গুদামের তালা ভেঙে লুটপাট করে কাগজ ব্যবসায়ীদেরকে ঢালাওভাবে চোরাইকারবারী আখ্যা দিয়েছে।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন মনিরুল ইসলাম, মোহাম্মত খোরশেদ, আব্দুর রহিম, আব্দুল হাই, বিল্লাল হোসেন, সাইদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইলিয়াস, জাহাঙ্গীর শিকদার, মোস্তাফিজসহ শতশত সাধারণ ব্যাসায়ী।