ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হত্যা করে ট্রলারডুবির নাটক, অবশেষে ধরা পড়লো


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:২৪ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার
হত্যা করে ট্রলারডুবির নাটক, অবশেষে ধরা পড়লো

মেয়ের প্রেমিককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ট্রলারডুবির ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার দেড় মাস পর মূল হোতা কামাল হোসেন (৫০) পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। বুকে আঘাতের কারণে যুবক রবিন সিকদারের মৃত্যু হয়েছে- ময়নাতদন্তে এমন তথ্য আসার পর তদন্তে নামে পুলিশ।


মেয়ের প্রেমিককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ট্রলারডুবির ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার দেড় মাস পর মূল হোতা কামাল হোসেন (৫০) পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। বুকে আঘাতের কারণে যুবক রবিন সিকদারের মৃত্যু হয়েছে- ময়নাতদন্তে এমন তথ্য আসার পর তদন্তে নামে পুলিশ।


ট্রলারের দুই যাত্রীকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে রবিন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালতেও তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

৮ সেপ্টেম্বর রাতে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদী থেকে নবাবগঞ্জের বাসিন্দা রবিনের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়।

রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কলাতিয়া ফাঁড়ির এসআই মো. চুন্নু মিয়া জানান, ঘটনাটি খুনিরা এমনভাবে সাজিয়েছিল যে, তারাও (পুলিশ) প্রথমে মনে করেছিলেন নৌদুর্ঘটনায় রবিনের মৃত্যু হয়েছে।

রবিনের সঙ্গে মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পারায় কামাল পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ঘটনার আগের দিন কয়েকজন সহযোগী নিয়ে কামাল বৈঠক করে খুনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে রবিনকে নিয়ে কামাল ও তার সহযোগীরা ট্রলারযোগে মানিকগঞ্জের বালিয়াটেক নৌকাবাইচ দেখতে যায়।

নৌকাবাইচ শেষে নবাবগঞ্জের পাড়াগ্রাম ফিরে ট্রলার থেকে অন্য যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে এবং রবিনকে নিয়ে তারা কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর চরচামারদহ তীরে যায়। তীরে নামার পর কামাল লোহার রড দিয়ে রবিনের বুকে আঘাত করে তাকে হত্যা করে।

এরপর লাশ ট্রলারে রেখে অর্ধেক পানি দিয়ে ট্রলাটি ভরে তারা চালানো শুরু করে। কিছু দূর যাওয়ার পর খাড়াকান্দি এলাকায় ইচ্ছা করে তারা অন্য একটি ট্রলারের সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে ট্রলারটি ডুবিয়ে দেয়। খুনিরা সাঁতরে তীরে উঠলেও ট্রলারসহ রবিনের লাশ পানিতে তলিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাটিকে ট্রলারডুবি মনে করে। পরদিন রবিনের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। কামাল রবিনের প্রতিবেশী ও দূর সম্পর্কের চাচা।

এ ঘটনায় রবিনের বাবা মোস্তফা শিকদার কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নৌদুর্ঘটনার বিষয়টি উঠে আসে। অন্য যাত্রীরাও ট্রলারডুবির কথাই বলে। দুর্ঘটনার সময় তীরে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্র্শীও একই কথা বলে।

ট্রলারডুবির ঘটনায় রবিনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশও নিশ্চিত হয়। কিন্তু মানতে নারাজ ছিল রবিনের পরিবার। তাদের অভিযোগ ছিল, রবিনকে খুন করা হয়েছে। এভাবেই এক মাস কেটে যায়।

তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বুকে ধারালো কিছু দিয়ে আঘাতে রবিনের মৃত্যুর বিষয়টি উঠে এলে পুলিশ নড়েচড়ে বসে। পুলিশের দেড় মাসের তদন্তে বেরিয়ে আসে- ট্রলারডুবি নয়, রবিনকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাকের মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থেকে দুর্ঘটনার সময় ট্রলারে থাকা বিপ্লব (৩০) ও মিরাজকে (২০) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে বিস্তারিত জানায়।

বৃহস্পতিবার আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ওইদিন রাতে ঘটনার মূলহোতা কামাল হোসেনকে রাজধানীর হাজারীবাগের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। ওসি যোবায়ের আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

অমৃতবাজার/ কেএসএস