ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আবরারকে হত্যায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলা


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৭:১৯ এএম, ০৮ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার
আবরারকে হত্যায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার।

এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় ১৪ জন জড়িত বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায়।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বুয়েট শাখার সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তাকে মারধরের সময় ২০১১ নম্বর কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু।

তিনি জানান, ফাহাদকে শিবির সন্দেহে রাত ৮টার দিকে ডেকে আনা হয়। সেখানে তার মোবাইলে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার চেক করে ফেসবুকে বিতর্কিত কিছু পেজে লাইক দেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে তার শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে আবরারকে পিটিয়ে খুনের খবর কুষ্টিয়ায় পৌঁছলে তার মাসহ আত্মীয়স্বজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিশেষ করে মায়ের আহাজারি আর বিলাপে ভারি হয়ে ওঠে সেখানকার পরিবেশ। এ ঘটনায় বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষুব্ধ আবরারের সহপাঠীরা দিনভর বুয়েটের শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট অফিস ঘেরাও করে রাখেন। ওই অফিসের ভেতরে হলের প্রভোস্ট ও হাউস টিউটররা ছিলেন। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা প্রবেশ করলে তারাও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

সারা দিনের মতো সোমবার সন্ধ্যায়ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা শেরেবাংলা হলের প্রাধ্যক্ষের রুমের সামনে অবস্থান নেন। তাদের দাবি ছিল, প্রশাসন যেন শিক্ষার্থীদের ভিডিও ফুটেজ দেখায়। পরে প্রশাসন এক মিনিটের একটি ফুটেজ দেখায়।

যেখানে আবরারকে মারধরের পর চ্যাংদোলা করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তখন শিক্ষার্থীরা রাত ৮টা থেকে ২টা পর্যন্ত যে রুমে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে সেই রুমের সিসিটিভির সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজ দাবিতে অবস্থান অব্যাহত রাখেন।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ সদস্যরা শিক্ষার্থী বিক্ষোভের মুখে হলের বাইরে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। ফলে প্রশাসন প্রথমে ভিডিও দিতে অস্বীকৃতি জানালেও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পুরো ভিডিও দিতে বাধ্য হয়।

ভিডিও ফুটেজের ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসন আমাদের কাছে ভিডিওটি দিয়েছে। আমরা ভিডিও থেকে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দেব এবং তারা এর মাধ্যমে তদন্ত করে সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনবে।

রাত পৌনে ১০টার দিকে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে আবরারের জানাজা হয়। এরপর সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় এসে শেষ হয়। এ সময় তাদের স্লোগান ছিল ‘আমার ভাইকে মারল কেন, জবাব চাই দিতে হবে,’ ‘খুনিদের ঠিকানা এই বুয়েটে না’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই’।

বিক্ষোভ থেকে তারা বেশ কিছু দাবি ও প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এর মধ্যে ছিল- খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি আজীবন বহিষ্কার করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরেও কেন ক্যাম্পাসে আসেননি তার জবাব দিতে হবে, আবাসিক হলগুলোতে ভিন্নমতাবলম্বীদের শারীরিক নির্যাতন ও র‌্যাগিং বন্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং পূর্বে ঘটনাগুলোর বিচার করতে হবে, রাতের বেলা আবাসিক হলে পুলিশ কেন এলো তার জবাব দিতে হবে, মামলার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দিতে হবে। রাত ১১টার দিকে আজ সকাল ৯টায় ফের আন্দোলনের ডাক দিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে পিটিয়ে বুয়েট ছাত্র হত্যার ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারের ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরাও ক্ষুব্ধ। এ ঘটনা অনলাইন পত্রিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। তাতে সাধারণ মানুষকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন। তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের যেন কোনো ছাড় দেয়া না হয়, সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বুয়েট পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পিটিয়ে শিক্ষার্থী মেরে ফেলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরা। সার্বিক পরিস্থিতি ভারতে অবস্থানরত শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে সার্বক্ষণিক অবহিত করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজ রাখছেন উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী।

বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বুয়েট ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। পরে তিনি যুগান্তরকে বলেন, পরিস্থিতির ওপর আমরা নজর রাখছি। ঘটনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নিতে বুয়েট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থী, পুলিশ ও ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, শনিবার বাংলাদেশ-ভারতে হওয়া চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার। পরে সেটি শাখা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্নার নজরে আসে।

তিনি একই হলের শিক্ষার্থী বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মেজবাউল ইসলাম জিয়ন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকারকে বিষয়টি জানান।

এরপর সিদ্ধান্ত হয় আবরারকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করা হবে। সে অনুযায়ী শনিবার রাত ৮টার দিকে ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে আবরারকে ডেকে আনার নির্দেশ দেন বুয়েট ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল।

এ সময় তার সঙ্গে উল্লিখিত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরা সবাই ১৬ ও ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে দু’জন রোববার রাত ৮টার দিকে আবরারকে ডেকে ২০১১ নং কক্ষে নিয়ে যান।

সূত্র আরও জানায়, সেখানে নেয়ার পর আবরারের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়। তার ফেসবুক মেসেঞ্জার চেক করাসহ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আগে থেকেই ওই রুমে ক্রিকেটের স্টাম্প, হকিস্টিক, বাঁশের লাঠি, চাপাতি রাখা ছিল।

তা দিয়েই জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শুরু হয় মারধর। একপর্যায়ে আবরার অচেতন হয়ে পড়লে কোলে করে মুন্নার কক্ষে (২০০৫ নং) নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে দোতলা ও নিচতলার সিঁড়ির মধ্যবর্তী জায়গায় অচেতন আবরারকে নিয়ে যায় তারা।

যাতে শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা না যায় সে জন্য কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয় তার দেহ। এরপর হল প্রভোস্ট ও চিকিৎসককে খবর দেয়া হয়। চিকিৎসক এসে আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়।

পুলিশ এসে আবরারকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে একটি তোশকের ওপর রাখে। এরপর তাকে নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আবরারকে পেটানো সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজের একটি অংশ সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

বুয়েট শেরেবাংলা হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, আবরারকে জেরা ও পেটানোর সময় ওই কক্ষে সমাজসেবাবিষয়ক উপ-সম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশাররফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফা আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পেটানোর পর আবরারের মৃত্যু হলে রাতে তারা সহপাঠীদের ডেকে লাশ নিচতলার সিঁড়ির সামনে রাখে।

হল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরে ঘটনাস্থলে আসেন নিহত আবরারের মামাতো ভাই আবু তালহা রাসেল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আবরারের বিরুদ্ধে শিবির সমর্থনের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা একদমই সত্য নয়। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নে। আওয়ামী লীগের পাঁচজন সমর্থক থাকলে তার বাবা বরকতউল্লাহ তাদের একজন। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’

ঘটনার বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ জাফর ইকবাল খান বলেন, ‘রাত পৌনে ৩টার দিকে খবর পাই যে এক শিক্ষার্থী হলের সামনে পড়ে আছে। কেন সে বাইরে গিয়েছিল, কী হয়েছিল, তা এখনও জানা যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে বুয়েটের চিকিৎসক দিয়ে তাকে পরীক্ষা করা হয়। ওই চিকিৎসক জানান সে বেঁচে নেই। পরে পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ এসে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

বুয়েটের চিকিৎসক মাশরুক এলাহী বলেন, ‘খবর পেয়ে ৩টায় ঘটনাস্থলে আসি। একতলা ও দোতলার মাঝামাঝি জায়গায় আবরারকে পড়ে থাকতে দেখি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বুঝতে পারি ছেলেটি বেঁচে নেই।’

চকবাজার থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন জানান, রাত পৌনে ৩টার দিকে তারা খবর পান শেরেবাংলা হলের বাইরে নিচতলায় একটি ছেলে পড়ে আছে। হল কর্তৃপক্ষই পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে যান তারা। ছেলেটির পরনে ছিল ট্রাউজার ও শার্ট।

সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ভোঁতা কিছু দিয়ে পিটিয়ে আবরারকে মারা হয়েছে। ফরেনসিকের ভাষায় এটিকে বলে ‘ব্লান্ট ফোর্সেস ইনজুরি’, বাংলায়- পিটিয়ে মারা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিহত তরুণের হাতে, পায়ে ও পিঠে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন আছে। ইন্টার্নাল (অভ্যন্তরীণ) রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আর প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আবরারের পুরো শরীরে নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে পিটুনির কালো জখম নেই।

হলের যে কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ, সেই ২০১১ নম্বর কক্ষ ছেড়ে শিক্ষার্থীরা পালিয়েছে। পুলিশ ২০১১ নম্বরসহ কয়েকটি কক্ষ সকালে ঘুরে দেখে।

সেসব কক্ষ থেকে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা আলামত সংগ্রহ করেছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় জানান।

তিনি সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘বুয়েট শিক্ষার্থী ফাহাদ হত্যার ঘটনায় শনাক্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছি। সেটা পর্যালোচনা করছি।’

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আবরারকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে মারধর করা হয়। মারধর শেষে ছাত্রলীগ নেতারা সেখান থেকে এক এক করে বের হয়ে আসে। ভিডিও ফুটেজে এমন দেখে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করার পর গ্রেফতার করা হয়।

আসামি ১৯ : সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ওসি সোহরাব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আবরার হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মেশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মাজেদুল ইসলাম, মো. মুজাহিদুল. মো. তানভীর আহমেদ, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. জিশান, মো. শামিম বিল্লাহ ও মো. শাদাত হোসেন, মো. তানিম, মো. মোর্শেদ, মো. মোয়াজ, জেমি ও মো. আকাশ।

গ্রেফতার ১০ : আবরার হত্যার ঘটনায় যে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগ সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, উপ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান রবিন (২২), মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মুনতাসির আলম জেমি (২১), মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির (২১), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (২১) ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না (২১)।

পুরো শরীরে জখমের চিহ্ন : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে (২১) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সোহেল মাহমুদ ময়নাতদন্তের পর সোমবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে একথা জানান। সোহেল মাহমুদ বলেন, ময়নাতদন্তে আবরারের পুরো শরীরে আমরা জখমের চিহ্ন পেয়েছি।

মারধরের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, আঘাতের চিহ্ন দেখে মনে হয়েছে, তাকে ভোঁতা কিছু দিয়ে আঘাত করে মারা হয়েছে। হতে পারে সেটা বাঁশ, ক্রিকেট খেলার স্টাম্প। তিনি আরও বলেন, তার মাথায় কোনো আঘাতের চিহ্ন পাইনি।

রক্তমাখা স্টাম্প, লাঠি, চাপাতি উদ্ধার : বুয়েটের শেরেবাংলা হলের যে রুমটিতে আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছিল সেখান থেকে লাঠি, ক্রিকেট খেলার স্টাম্প, চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট, মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ, চকবাজার থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। সোমবার দুপুরে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমটি পরিদর্শন করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, আবরারকে পিটিয়ে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্তে ডিবি, থানা পুলিশ কাজ করছে। যারা জড়িত তারা অবশ্যই আইনের আওতায় আসবে। তিনি বলেন, যে রুমে ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা শুনেছি, সে রুমটি ভিজিট করেছি।

আলামত সংগ্রহ করেছি। সেগুলো পর্যালোচনা করছি। যারা জড়িত তাদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী তদন্তে চলে আসবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, তদন্তে রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে না।

পুলিশ জানায়, ২০১১ নম্বর রুম থেকে পুলিশ তিনটি খালি মদের বোতল, একটি অর্ধেক ভরা মদের বোতল (পানি নাকি মদ নিশ্চিত নয়), চারটি ক্রিকেট খেলার স্টাম্প, একটি চাপাতি, দুটি লাঠি উদ্ধার করেছে।

স্টাম্পগুলোর মধ্যে একটিতে লালচে দাগ রয়েছে। এটি শুকনা রক্তের দাগ হতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।

ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ১১ : আবরার ফাহাদকে হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্তে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন- সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিওন, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপদফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, সদস্য মুনতাসির আল জেমি, সদস্য এহতেমামুল রাব্বি তানিম, সদস্য মুজাহিদুর রহমান।

যা বললেন ওবায়দুল কাদের : শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেছেন, ভিন্নমতের জন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলা হবে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

যারা এটি করেছে, তাদের কোনো ছাড় নেই। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে কথা বলেছি। কারা এবং কোন হুজুগে এ কাজটি করেছে, তা খুঁজে বের করতে বলেছি।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের যেন কোনো ছাড় দেয়া না হয়, তার নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি বলেন, আমি যতটুকু বুঝি, এখানে ভিন্নমতের জন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলার কোনো অধিকার কারও নেই।

কাজেই এখানে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তদন্ত চলছে। তদন্তে যারাই অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে, পারসোনালি আমি বলেছি- এখানে আমার কোনো ভিন্ন মত নেই।

রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না আবরার ও তার পরিবারের : কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থিত। আবরার নিজেও শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়।

সে নিয়মিত নামাজ পড়ত এবং তাবলিগ জামায়াতের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে চিল্লা ও সময় লাগিয়েছে। এসব কথা জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, আবরারের আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের বাসার পেছনের বাড়িটিই তাদের। সেই সূত্র ধরে আবরারের পরিবারের লোকজন সবসময় সেখানে বিভিন্ন মিটিংয়ে যোগ দেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

গ্রামের বাড়ি কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে। আবরারের বাবা-চাচারা ৫ ভাই। ৫ জনের মধ্যে ৪ জনই সরকারি চাকরি করেন। আর আবরারের পিতা বরকতুল্লাহ ব্র্যাকের অডিটর ছিলেন।

চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। মা রোকেয়া খাতুন সোনামনি নামে কিন্ডারগার্ডেনের শিক্ষক। সীমিত আয় দিয়ে দুই ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার প্রাণপণ চেষ্টা ছিল তাদের।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও কয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক বলেন, এলাকার শিক্ষিত পরিবার হিসেবে পরিচিত আবরার ফাহাদের দাদার পরিবার। তার সব চাচাই উচ্চ শিক্ষিত এবং সরকারি চাকরিজীবী।

এলাকার সব মানুষের সঙ্গেই এ পরিবারটির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এরা কোনো দিনই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। এ পরিবারের অনেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং আওয়ামী লীগের যে কোনো অনুষ্ঠানে তাদের সরব উপস্থিতি এলাকাবাসীর জানা রয়েছে।

ক্লাসে প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হননি আবরার : ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন। ক্লাসে প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হননি। ফাহাদ ২০১৫ সালে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

পরে এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন ঢাকা নটর ডেম কলেজে। সেখান থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষাতেও গোল্ডেন এ প্লাসসহ উত্তীর্ণ হন। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। ফাহাদ সেখানে শেরেবাংলা হলের ১০১১নং কক্ষের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।

অষ্টম ও দশম শ্রেণিতেও বিশেষ বৃত্তি পেয়েছিলেন আবরার। এরপর ইলেকট্রিক্যাল প্রকৌশল হওয়ার স্বপ্নে ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। ইতিমধ্যে অনেকটা পথ পাড়িও দিয়েছেন। তবে তরী তীরে ভেড়ানোর আগেই আবরার চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

আবরার ফাহাদের ছোটভাই আবরার ফাইয়াজ জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভাইয়ার এক বন্ধু বুয়েট থেকে প্রথমে খবর দিয়ে বলেন, সে মারাত্মক অসুস্থ। কিছুক্ষণ পর আবার খবর পেলাম ভাইয়া মারা গেছে। মারা যাওয়ার খবরে পুরো পরিবারের অবস্থা কী হতে পারে?

সে জানায়, ভাইয়ার সেমিস্টার পরীক্ষার কারণে বাসায় ছুটি না কাটিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় কুষ্টিয়া থেকে বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। বিকাল ৫টায় পৌঁছানোর পর সে মোবাইলে জানায়। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি আমার সঙ্গে।

সে জানায়, ভাইয়ার মোবাইলে একাধিকবার রিং দিলেও সে ধরেনি। পরে ভাইয়ার মেসেঞ্জার অন থাকলেও সেখানে রিং হলেও ভাইয়া ধরেনি। ফলে আমরা চিন্তিত হয়ে পড়ি।

স্ট্যাটাসে যা ছিল : আবরার শনিবার বিকালে তার ফেসবুক ওয়ালে যে স্ট্যাটাসটি দিয়েছিলেন, সেটি হল-

১) ৪৭-এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোন সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিল। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

২) কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েক বছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চায় না, সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড় লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব।

৩) কয়েক বছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তর ভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব। হয়তো এ সুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন- “পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি/এ জীবন মন সকলি দাও/তার মত সুখ কোথাও কি আছে/আপনার কথা ভুলিয়া যাও।”

অমৃতবাজার/ কেএসএস