ঢাকা, শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯ | ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সায়মা হত্যাকারীর দ্রুত ফাঁসি চাই: সায়মার বাবা


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০২:০৯ এএম, ০৮ জুলাই ২০১৯, সোমবার | আপডেট: ০২:০৯ এএম, ০৮ জুলাই ২০১৯, সোমবার
সায়মা হত্যাকারীর দ্রুত ফাঁসি চাই: সায়মার বাবা

সামিয়া আফরিন সায়মাকে ধর্ষণ ও হত্যার মূল আসামি হারুন অর রশিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন সায়মার বাবা আবদুস সালাম। রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে তিনি এ দাবি জানান।

আবদুস সালাম বলেন,‘‘অল্প সময়ের মধ্যে মূল আসামিকে চিহ্নিত করতে পেরেছে পুলিশ। তাকে ধরতে পেরেছে। আমি চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে, তিন মাস থেকে ছয় মাসের মধ্যে তাকে প্রকৃত শাস্তি দেওয়া হোক। সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক। সে যেহেতু আমার মেয়েকে দুই রকম নির্যাতন করে হত্যা করেছে, তাকে ছয় মাসের মধ্যে ফাঁসি দেওয়া হোক। আমি আমার মেয়েকে রক্ষা করতে পারিনি। আমার স্ত্রী আমাকে জানালো, মেয়ে তাকে বলে  ১০ মিনিটের জন্য আমি আটতলার বাচ্চাটার সঙ্গে খেলে এসে আম্মু আমি তোমাকে পড়াগুলো দেবো।’

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে গেলো। আমি নামাজ পড়ে এসে আর মেয়েকে পেলাম না।

পুলিশ হেফাজতে গ্রেফতার হারুন অর রশিদকে রবিবার দুপুরে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ওয়ারী বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার (ডিসি) ইফতেখার আহমেদ এ তথ্য জানান।

এদিকে  হারুন অর রশিদকে গ্রেফতারের পর রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন বলেন,‘এ ধরনের অপরাধীরা সাধারণত ধর্ষণের পর যখন ভাবে এ অপকর্মের কারণে সে বাঁচতে পারবে না তখনই হত্যার মতো ঘটনা ঘটায়। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।’

হারুনের স্বীকারোক্তির বর্ণনা দিয়ে আবদুল বাতেন বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন মাকে বলে শিশু সায়মা ৮ তলায় যায়। সেখানে ফ্ল্যাট মালিক পারভেজের একটি শিশুর সঙ্গে খেলা করতে যায় সায়মা। সেখানে গেলে পারভেজের স্ত্রী জানায় তার মেয়ে ঘুমাচ্ছে। সেখান থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশে লিফটে ওঠে সায়মা। লিফটেই সায়মার সঙ্গে দেখা হয় পারভেজের খালাতো ভাই হারুনের। হারুন সায়মাকে লিফট থেকে ছাদ ঘুরে দেখানোর কথা বলে ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে সায়মাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সায়মা চিৎকার করলে মুখ চেপে ধর্ষণ করে। সায়মাকে নিস্তেজ দেখে গলায় রশি লাগিয়ে টেনে নিয়ে যায় রান্নাঘরে। সেখানে সিঙ্কের নিচে রাখে। এরপর পারভেজের বাসায় না ফিরে হারুন গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস থানার ডাবরডাঙ্গা এলাকায় গিয়ে গা ঢাকা দেয়।’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৫ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ওয়ারীর বনগ্রামের একটি বহুতল ভবনের ৯ তলার খালি ফ্ল্যাটের রান্নাঘরের মেঝে থেকে শিশু সায়মার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সন্ধ্যার পরে তার মাকে খেলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ভবনের নয়তলায় খালি ফ্ল্যাটের ভেতরে মেঝেতে গলায় দড়ি দিয়ে বাঁধা এবং মুখ রক্তাক্ত অবস্থায় সায়মাকে পড়ে থাকতে দেখেন তার পরিবাবের সদস্যরা। বহুতল ভবনটির ছয়তলার একটি ফ্ল্যাটে নিহত শিশুটি পরিবাবের সঙ্গে থাকতো। তার বাবার নাম আবদুস সালাম। চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল সায়মা। সে একটি স্কুলে নার্সারিতে পড়াশোনা করতো।

অমৃতবাজার/এএস