ঢাকা, বুধবার, ২৮ জুন ২০১৭ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

গলার কাটা ধানমন্ডির বেটার সুইট ও ফর্ক নাইফ


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৪:২০ পিএম, ১৮ জুন ২০১৭, রোববার | আপডেট: ০১:১৭ এএম, ১৯ জুন ২০১৭, সোমবার
গলার কাটা ধানমন্ডির বেটার সুইট ও ফর্ক নাইফ

বাড়ী মালিকের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ধানমন্ডির বেটার সুইট ও ফর্ক নাইফ রেস্টুরেন্ট। কিছুতেই সরাতে পারছে না রেস্টুরেন্ট। একদিকে রাজউক ও আদালতের আবাসিকে রেস্টুরেন্ট না রাখার নির্দেশনা। অন্যদিকে রেস্টুরেন্ট টিকিয়ে রাখতে ভাড়াটিয়া রেস্টুরেন্ট মালিকের ভয় প্রদর্শন। ভয় উপেক্ষা করে রেস্টুরেন্ট সরাতে থানায় জিডি ও রাজউকের সরনাপন্ন হয়েও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না বাড়ী মালিকরা।

অভিযোগ উঠেছে, অযৌক্তিক দাবি ও প্রভাব খাটিয়ে রেস্টুরেন্ট মালিক থাকছেন বহাল তবিয়তে। এমনকি সন্ধ্যার পরেই রেস্টুরেন্টের আড়ালে চালােনা হচ্ছে অসামাজিক কার্যক্রম। আর এ কাজে প্রতিদিনই গভীর রাত পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন চেহারার লোকের আনা গোনা দেখা যাচ্ছে এলাকাটিতে। বিব্রতকর এ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে ভাড়াটিয়া রেস্টুরেন্ট মালিকদের একাধিকবার বাড়ী ছেড়ে দিতে বললেও কানে তুলছে না। যা এলাকাবাসীর আবাসিক জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। আর নিরুপায় বাড়ী মালিকদের উৎকণ্ঠা ও ভীতি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এ পরিস্থিতে গত ৬ জুন আবাসিক এলাকায় আবাসিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের রায় অমান্য করায় রেস্টুরেন্টের মালিকের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে এ সংক্রান্ত আবেদনের পক্ষে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। মনজিল মোরসেদ জানান, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকার কারণে সেখানে বসবাসকারীদের স্বাভাবিক জীবন-যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১২ সালে হাইকোর্ট এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ধানমন্ডির আবাসিক এলাকা থেকে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরানোর নির্দেশ দেন। আদালতের উক্ত আদেশ অমান্য করে ব্যবসা পরিচালনা করা এমনকি গত ১ জানুয়ারি তারিখে আইনী নোটিশ পাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠান সরানোর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই বিষয়টির উপর শুনানি শেষে আদালত এ রুল জারি করেন। আদালতের এ রায়ে রেস্টুরেন্ট মালিকরা নিশ্চুপ থাকলেও চরম ভাবনায় পড়েছেন  নিরুপায় বাড়ীর মালিকরা।



এ বিষয়ে বাড়ীর মালিক ও ফর্ক নাইফ রেস্টুরেন্টের ভাড়াদানকারী মোহাম্মদ মারুফ ফিরোজ আক্ষেপ করে বলেন, জায়গা আমার, বাড়ী আমার, আমি চাইছি, সরকার, আদালত এমনকি রাজউক চাইছে, আবাসিক এলাকায় রেস্টুরেন্ট না রাখতে। অথচ ভাড়া নেওয়া রেস্টুরেন্ট মালিকরা অহেতুক যুক্তি ও প্রভাব  খাটিয়ে রেস্টুরেন্ট সরাচ্ছে না। আমি একাধিকবার ফর্ক নাইফ রেস্টুরেন্টের মালিক শাহজামাল সজলকে বাড়ী ছাড়তে বলেছি। এমনকি গত ১৮ ফেব্রুয়ারী এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে ধানমন্ডি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। যার জিডি নম্বর ৯০৪। আজও কোন সমাধান  পায়নি। আমিও চাই আমার এলাকায় কােন রেস্টুরেন্ট না থাক। কিন্তু রেস্টুরেন্ট মালিকরা আমাদের কোন তোয়াক্কা তো করছেই না, উল্টাে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে।

মোহাম্মদ মারুফ ফিরোজ এর মতো একই বিপদের কথা জানিয়ে বেটার সুইট রেস্টুরেন্ট বাড়ীর মালিক সেগুপ্তা হাসান বলেন, আমি গত ১৫ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে আমার বাড়ীতে রেস্টুরেন্ট না রাখতে রাজউককে অঙ্গিকার নামা দিয়েছিলাম। সে অনুযায়ী এরই মধ্যে আমার বাড়ীর ওই ফ্লাট অন্যত্র ভাড়াও দিয়েছি। কিন্তু রেস্টুরেন্ট মালিক ফ্লাট না ছাড়াই তারা উঠতে পারছে না। এ অবস্থায় আমি খুব শঙ্কায় আছি। রাজউক উচ্ছেদ করলে আমার বাড়ীর ক্ষয়-ক্ষতি বেড়ে যাবে। কিন্তু আমি কি করতে পারি ?। ভাড়াটিয়াকে বার বার বলার পরেও সে বাসা ছাড়ছে না।

জানতে চাইলে ফর্ক নাইফ রেস্টুরেন্টের মালিক শাহজামাল সজল বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে আপনার কাছে বাধ্য নয়। আর আমি বাড়ীর মালিকের ইচ্ছা স্বত্বেও ফ্লাট ছাড়ছি না এ অভিযোগ কে করল? তিনি উত্তেজিত হয়ে অমৃত বাজার পত্রিকা অফিসের ঠিকানা জানতে চাইলেন। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে বাড়ীর মালিকের সঙ্গে আদালতে মামলা চলছে বলেও জানান।

উল্লেখ্য গত ১৮ নভেম্বর ২০১৫ রাজউক কর্মকর্তা শফিউল হান্নানের নেতৃত্বে একটি দল ধানমন্ডি এলাকার ফর্ক নাইফ রেস্টুরেন্ট উচ্ছেদে অভিযান চালায়। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে কিছু সময় চেয়ে রেস্টুরেন্ট উচ্ছেদ বন্ধ রাখে রেস্টুরেন্টের মালিক পক্ষ। কিন্তু ২ বছরেরর অধিক সময় পার হলেও তা উচ্ছেদ হয়নি। 

Loading...