ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কুবিতে কর্মচারী নিয়োগের আসন বিন্যাসে অসঙ্গতির অভিযোগ


মাহফুজ কিশোর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ১০:১১ পিএম, ১১ মার্চ ২০২০, বুধবার
কুবিতে কর্মচারী নিয়োগের আসন বিন্যাসে অসঙ্গতির অভিযোগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার আসন বিন্যাসে অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠেছে।  গত সোমবার (০৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত তিন ধরনের কর্মচারী নিয়োগের ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আসন বিন্যাসের সাথে মিল ছিলো না অনুষ্ঠিত পরীক্ষার আসন বিন্যাসের। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আসন বিন্যাসে উল্লেখ নেই এমন রোলধারীর রোল খুঁজে পাওয়া গেছে প্রকাশিত ফলাফলে।

জানা যায়, পূর্বে পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে ০৯ মার্চ সকাল ১০টা থেকে বেলা ১:৩০ পর্যন্ত যথাক্রমে কম্পিউটার অপারেটর, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট পদগুলোর কম্পিউটার দক্ষতা মূল্যায়ন (ব্যবহারিক) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসহ বেশ কয়েকটি অনুষদের কম্পিউটার ল্যাবে এই পরীক্ষাসমূহের আসন বিন্যাস করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো: দলিলুর রহমান সাক্ষরিত স্মারকসূত্রে (০৪ মার্চ) দেখা যায়, কম্পিউটার অপারেটর পদের জন্য প্রার্থীদের জন্য  ১ থেকে ১০৫ পর্যন্ত রোলধারীর বিপরীতে আসন বিন্যাস করা হয়েছে, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে করা হয়েছে ১ থেকে ৩৪ পর্যন্ত এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট পদের জন্য আসন বিন্যস্ত হয়েছে ১ থেকে ৩০৫ পর্যন্ত।

কিন্তু, এই পরীক্ষার পরদিন (১০ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো: আবু তাহের সাক্ষরিত ভাইবার জন্য প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় কম্পিউটার অপারেটর পদে সর্বশেষ উত্তীর্ণ প্রার্থীর রোল নম্বর ১১৩।  একইভাবে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট পদে সর্বশেষ উত্তীর্ণ প্রার্থীর রোল নম্বর ৩২০।  কিন্তু ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আসন বিন্যাস অনুযায়ী ফলাফলে উত্তীর্ণ ১১৩ ও ৩২০ এই দুই রোল ছিলই না।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ৪ মার্চ প্রকাশিত আসন বিন্যাসটি ছিলো প্রাথমিক বাছাইয়ের। এরপরে কিছু প্রার্থীর ছোটখাটো অসঙ্গতির আবেদনপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করে ‘উপাচার্যের প্রশাসনিক নির্বাহী ক্ষমতাবলেথ নতুন আরো ৪০ জনকে যুক্ত করে পরীক্ষার আগের দিন (০৮ মার্চ) আবার আসন বিন্যাস নোটিশ আকারে দেওয়া হয়েছে।

তবে এই আসন বিন্যাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়নি এবং পূর্বের আসন বিন্যাসটিও পরিবর্তিত হয়নি।

বরং গত ৪ মার্চ প্রকাশিত পূর্বের আসন বিন্যাসটি বুধবার (১১ মার্চ) সকাল সাড়ে নয়টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা গেলেও বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে প্রশাসনের কথা হওয়ার পর সেটি এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

আসন বিন্যাস প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো: দলিলুর রহমান জানান, `আমাকে প্রশাসনিকভাবে যখন যেভাবে আসন বিন্যাস দিতে বলা হয়েছে আমি দিয়েছি। ০৪ তারিখের পর আসন বিন্যাসে আরও কেউ যুক্ত হয়েছে কিনা তা আমি বলতে পারবো না।`

আসন বিন্যাসের ব্যাপারে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো: আবু তাহেরের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথম ৪ মার্চে প্রকাশিত আসন বিন্যাসের কথা অস্বীকার করেন। পরে আসন বিন্যাসের কপি দেখানো হলে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক বাছাইয়ে আমরা যাদের নির্বাচিত করেছি তাদের আসন বিন্যাস ৪ মার্চ প্রকাশিত হয়েছিলো।  কিন্তু পরবর্তীতে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর আবেদনপত্রের কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি আমরা সহনীয় ধরে নিয়ে তাদের পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করি। যা পরীক্ষার আগেরদিন ৮ মার্চের নোটিশকৃত আসন বিন্যাসে দেখানো হয়েছে।‘

তবে ৮ মার্চ প্রকাশিত আসন বিন্যাসের কপি কেন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়নি জানতে চাইলে তিনি এটি স্বীকার করে এর নির্দিষ্ট কোনও উত্তর দেননি।  সাথে যুক্ত করেন, `এখনকার এই নিয়োগগুলো অন্য যেকোন নিয়োগের তুলনায় প্রশ্নের ঊর্ধ্বে।  কেউ এটা নিয়ে কথা বলার অবকাশ নেই।`

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী জানান, ‘আবেদনপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে আমরা পরবর্তীকালে কিছু পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছি এবং পরীক্ষার আগেরদিন তাদের আসন বিন্যাস নোটিশ বোর্ডে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ও নিয়োগ বোর্ড তাদের নির্বাহী ক্ষমতাবলে এতটুকু ছাড় দিতে পারেন।`

আসন বিন্যাসের এমন অসংলগ্নতা নিয়োগ পরীক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কিনা- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, `কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা সব ধরনের নিয়ম-নীতি মেনেই হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।`

উল্লেখ্য, বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর ২টায় এবং আগামী রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টায় কর্মচারী নিয়োগের সংশ্লিষ্ট তিন পদের ভাইবা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অমৃতবাজার/এমএএন