ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জবি’তে খেলার মাঠ একটি মাত্র, তাতেই বেহাল দশা


মিজানুর রহমান, জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার | আপডেট: ০৪:৩৫ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার
জবি’তে খেলার মাঠ একটি মাত্র, তাতেই বেহাল দশা ছবি-অমৃতবাজার ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য খেলাধুলা বিনোদনের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ক্যাম্পাসের ভিতর ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা থাকলেও হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া বাকি সবাই দর্শকের ভূমিকায় থাকতে হয়।

ক্যাম্পাস থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ধুপখোলায় আছে জবির একমাত্র খেলার মাঠ। ইট, সুরকি, কংক্রিটে ভরা এই অসমতল মাঠ এখন খেলাধুলার উপযোগী নয়। ময়লা-আবর্জনা ও কংক্রিট পড়ে থাকায় মাঠে খেলতে গিয়ে আহত হয় শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন সময় ওয়াজ মাহফিল, মেলা এবং গরুর হাটের কারণে খেলার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে মাঠটি।এতে খেলতে গিয়ে বিভিন্ন সময় গুরুতর আহত হন শিক্ষার্থীরা। আহত শিক্ষার্থীদের খরচও বিশ্ববিদ্যালয় বহন করে না।

স্থান স্বল্পতার অজুহাতে অনেক উন্নয়নমুখী কাজ করতে না পারলেও যে সব কাজ করা সম্ভব তাও করছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটাতে প্রতি ধাপে ধাপে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

জানা যায়, ধুপখোলার খেলার মাঠ সারাবছরই বহিরাগতদের দখলে থাকে। বছরে হাতেগোনা কয়েকবারের ব্যবহারের সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। অন্য সময়ে স্থানীয়দের দখলে থাকে এটি। কার্যত মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যায় আন্তরিক নয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা সিটি করপোরেশন। তারপরও ঝুঁকিপূর্ণ এ মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন টুর্নামেন্ট।

মাঠের বেহাল দশার কারণে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রাকটিস করে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পার্শ্ববর্তী মিলব্যারাক খেলার মাঠ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাঠ ব্যবহার করে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় ৩২টি বিভাগে আয়োজন করা হয় খেলাধুলার।

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্ট শুরু হলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ খুঁজে বেড়ায় অনুশীলনের মাঠ। কিন্তু যথাযথ পরিচর্যার অভাবে মাঠটি খেলাধুলার জন্য অনুপযুক্ত। এ পরিস্থিতির অবসান চায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটের অন্ত নেই। প্রশাসন আন্তরিক হলে এ সব সংকটের অনেকগুলোরই সমাধান সম্ভব। কিন্তু এ বিষয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে শিক্ষার্থীদের নানা চাহিদা দাবি আকারেই থেকে যাচ্ছে।

ভূগোল ও পরিবেশের ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি বলেন, `বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধুমাত্র একটি খেলার মাঠ, বর্তমানে সেটিও খেলার অনুপযোগী ৷ এর আগেও একবার মাঠ সংস্কার করার কথা উঠলেও তা এখনো ঠিক করা হয়নি!`

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আলী নূর বলেন, `মাঠটি আসলে খেলার উপযুক্ত নয়। সেখানে সংস্কার কাজ করা হবে। সমস্যার সমাধানে কমিটি কাজ করছে। অতি দ্রুত মাঠের সংস্কার কাজ করা হবে।`

অমৃতবাজার/এসএস