ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষকরাই দুর্নীতিগ্রস্থ


রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার
দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষকরাই দুর্নীতিগ্রস্থ ছবি- সংগৃহীত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই এবার দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে আন্দোলনকারীদেরই একাংশ। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের দলের একাংশকেই দুর্নীতিগ্রস্থ বলে দাবি করে অন্য অংশ ।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রশাসনের অপসারণ দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক সমাজের একাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এসব দুর্নীতিকে আড়াল করতেই ওই শিক্ষকরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছেন বলে সম্মেলনে আিভযোগ করা হয়।

এসময় লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বেশিরভাগই গত প্রশাসনের নানা প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজাউদ্দিনের আমলে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন। তাদের সাথে যুক্ত আরও অনেকের বিরুদ্ধে নানা একাডেমিক অনিয়ম-দুর্নীতিরও তদন্ত চলছে।

ঢাকায় অতিথি নিবাস কেনার একটি ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও বড় দুর্নীতির ঘটনা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, রাবি কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে অতিথি নিবাস ক্রয়ের ঘটনায় বিপুল অংকের অর্থ লোপাটের ঘটনাটি প্রমাণিত হয়েছে। সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রনালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়।

প্রশাসনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের নির্মিত হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণের সময় দুর্নীতির অভিযোগ আনেন সম্মেলনকারী শিক্ষকরা। এই স্মৃতিফলক নির্মাণ কমিটি আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম নিজেই ১৯টি চেকের মাধ্যমে ৭৬লক্ষ ৪৮হাজার ৪১৫ টাকা উত্তোলন করে নির্মাণকাজ সম্পাদন করেছেন। স্মৃতিফলকে ১হাজার চারশ কেজি তামা ব্যবহার করার কথা থাকলেও মাত্র ৪৯২ কেজি তামা ব্যবহার করা হয়েছে। এই দুর্নীতির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭৩তম সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে সুলতান-উল-ইসলাম ব্যাংক থেকে যে অগ্রিম টাকা উত্তোলন করেছেন তার ব্যয়ের কোনও হিসাব তদন্ত কমিটিকে দেখাতে পারেননি।

প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী আরেক শিক্ষক বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদী কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক থাকাকালীন বিভিন্ন দুর্নীতি-অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অবকাঠামোগত ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাংক ‘হেকেপ’ (হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট) ইউজিসির মাধ্যমে তিন কোটি ২৯ লাখ ৪১ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেয়। কিন্তু প্রকল্পের টাকায় ট্রেনিংয়ের নামে অধ্যাপক সামদী বিদেশ ভ্রমণ করেন। এছাড়াও বরাদ্দকৃত টাকায় তিনি গ্রন্থাগারের বাইরে বিভিন্ন কাজে ব্যয় করেন।

তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, যখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি, তখনই আমাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মানকাজের খরচের হিসাব তো আমরা দেখাতে চাই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক তদন্ত কমিটি করে তিন বছর ধরে আমাদের হয়রানি করে যাচ্ছে।

এদিকে অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে উদ্দেশ্যমূলক ও ভিত্তিহীন আখ্যায়িত করে বলেন, ‘আমাকে মূলত হয়রানি করার জন্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন শিক্ষকের মাধ্যমে এই মিথ্যা অভিযোগগুলো করা হচ্ছে।’

অমৃতবাজার/মিনহাজ/এসএইচএম