ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

৩৫ কিলোমিটার হেঁটে সেই হানিফ বাংলাদেশি জাবিতে


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:৪৪ এএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
৩৫ কিলোমিটার হেঁটে সেই হানিফ বাংলাদেশি জাবিতে

দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন সেই হানিফ বাংলাদেশি।


জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে ৩৫ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বৃহস্পতিবার বিকালে জাবি ক্যাম্পাসে যান তিনি।

এসময় পদযাত্রায় হানিফ বাংলাদেশির সঙ্গে ছিলেন সাখাওয়াত হেসেন, আল আমিন রাজু, ফেরদৌস জিন্নাহ লেলিন।

স্মারকলিপি দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্ররা। ভিসির পক্ষে স্বাকলিপি গ্রহণ করেন জেবরুল হাসান।

স্মারকলিপিতে হানিফ বাংলাদেশি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলো যে যখন ক্ষমতায় এসেছে, সে দলই ঘুষ-দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত ছিল। যা আজ চরম আকার ধারণ করেছে। সমাজ রাষ্ট্র সর্বত্রই ঘুষ-দুর্নীতি, সামাজিক-মানবিক-পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় চলছে।

তিনি বলেন, পরস্পর দোষারোপ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি অবক্ষয়কে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যে দল যখন ক্ষমতায় আসে তারা দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নিজেদের আজ্ঞাবহ লোকদের বিভিন্ন পদে পদায়ন করে। এতে সর্বত্রই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। হানিফ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি একটি সম্মানজনক, মর্যাদাশীল ও আদর্শিক পদ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা দীর্ঘদিন যাবত ভিসির বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগের ভিত্তিতে আন্দোলন করছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। যা কারোই কাম্য নয়।

‘আমরা আশা করি ভিসি তার ওপর আনিত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করুন। না হলে সম্মানের সহিত পদত্যাগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দর-সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে এনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে আহ্বান জানাচ্ছি।’

এর আগে সমাজ ও রাষ্ট্রে ঘুষ, দুর্নীতি, নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিবাদে এবং প্রতিরোধে হানিফ বাংলাদেশি দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি শুরু করেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়ে তার সফর শুরু করে ২০ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়ে তার সেই সফর শেষ করেন।

হানিফ বাংলাদেশি ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে গত ১৪ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ১০০৪ কিলোমিটার একক পদযাত্রা করেন। গত ৬ মে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে পচা আপেল নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এ ছাড়া ভোটাধিকারের দাবিতে সংসদ ভবনের সামনেও অবস্থান নিয়েছিলেন হানিফ বাংলাদেশি।

নোয়াখালী সদর উপজেলার নিয়াজপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের আবদুল মান্নান রেনু মিয়ার একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ হানিফ। দেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কাজ করায় বন্ধুরা তাকে ‘হানিফ বাংলাদেশি’ বলে ডাকেন। বর্তমানে তিনি এ নামেই পরিচিত।

গত ১৯৯৯ সালে নোয়াখালীর বুলুয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। এরপর চট্টগ্রাম ওমর গণি এমএস কলেজে স্নাতকে ভর্তি হন। রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় লেখাপড়া ছেড়ে চট্টগ্রামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানে কমিশন এজেন্টের কাজ নেন।

সাত বছর আগে রংপুরের পীরগঞ্জের শিল্পী আকতারকে বিয়ে করেছেন। গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী ও শিহাব (৬) ও সায়মা (২) নামে দুই সন্তান রয়েছে।

অমৃতবাজার/ কেএসএস