ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণ রোধে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার আহ্বান রাবি অধ্যাপকের


রাবি প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ০৯:৫৮ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৯, রোববার
ধর্ষণ রোধে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার আহ্বান রাবি অধ্যাপকের

 

ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে মানুষের মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আয়োজিত মানবন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক পাণ্ডে বলেন, আমাদের সমাজের বহু স্তরে এটা ছেয়ে গেছে। অনেক নারী আছেন, যারা ধর্ষিতা হচ্ছেন, কিন্তু তারা সমাজের ভয়ে, অর্থনৈতিক দূর্বলতা বা সামাজিক অবস্থান শক্তিশালী না হওয়ার কারণে এগুলো হয়তো কখনো কখনো চেপেই যাচ্ছেন। এগুলো অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে। যেগুলো আমরা পত্রিকায় দেখতে পাচ্ছি সেগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাত্র। গত কয়েকদিনের পত্রিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, গত তিন মাসে যে পরিমাণ ধর্ষণ এবং নির্যাতন হয়েছে শিশুদের প্রতি, এটা সর্বকালের রেকর্ডকে ছাড়িয়েছে!

তিনি আরো বলেন, ধর্ষণ শুধুমাত্র সরকারের কাছে দাবি করে রোধ করার ব্যাপার নয়। সরকার, পুলিশ যে যার কাজ করবে। কিন্তু সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, আমাদের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আপনাদের মতো গণমাধ্যম কর্মী, সবাইকে সম্মিলিতভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমরা দোষীদের শাস্তি দাবি করছি। এবং সাথে সাথে এই সামাজিক আন্দোলনে সবাই শরিক হবেন। এবং মানুষের মানবিক মূল্যবোধটা জাগ্রত হবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

মানববন্ধনে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিহুর রহমান বলেন, আমরা পত্রিকা খুললেই একাধিক ধর্ষণের খবর পাই। আর এই ধর্ষনের সাথে জড়িতদের বেশির ভাগই প্রভাবশালী গোষ্ঠী। ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হবার পরেও তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। আর এ কারণেই ধর্ষকরা বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে। ধর্ষণ করেও তারা সবসময় লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যাচ্ছে। আমাদের সমাজ আজ বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে পরিনিত হয়েছে। এই বিচারহীতনার সংকৃতি এ ধরণের কাজকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আলী ইউনুস হৃদয়ের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল, নাজিয়াত হোসেন চৌধুরী, মাহাববুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক দিল আফরোজা খাতুন, মাহাবুর রহমান, আমেনা খাতুন, বিভাগের শিক্ষার্থীসহ অন্য বিভাগের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

অমৃতবাজার/ফরিদ/এএস