ঢাকা, রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯ | ১০ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

৬৪০ স্কুল-মাদরাসায় ভোকেশনাল কোর্স


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৭ পিএম, ১৯ মে ২০১৯, রোববার
৬৪০ স্কুল-মাদরাসায় ভোকেশনাল কোর্স

দেশের ৬৪০ স্কুল-মাদরাসায় ভোকেশনাল কোর্স চালু হবে। ২০২১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে চালু হবে প্রাক-বৃত্তিমূলক (প্রি-ভোকেশনাল) শিক্ষা। পর্যায়ক্রমে তা দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। রোববার (১৯ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, সভায় সাধারণ ধারার মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় প্রি-ভোকেশনাল ও ভোকশেনাল কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে দেশের ৬৪০ বিদ্যালয় ও মাদসারায় দুটি করে ট্রেড কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত হয়। পর্যায়ক্রমে মাধ্যমিকের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বৃত্তিমূলক’ কোর্স চালু করা হবে।

তবে মাধ্যমিকের সব প্রতিষ্ঠানে (৩০ হাজার) একটি করে বৃত্তিমূলক কোর্স চালুর লক্ষ্যে কমিটি গঠন করে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২৭ মে একটি সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভায় এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হবে।

সূত্র জানায়, মাধ্যমিক শিক্ষাখাত বিনিয়োগ কর্মসূচি (সেসিপ) থেকে নতুন এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে। লক্ষ্য অনুযায়ী প্রাক-বৃত্তিমূলক স্তরের প্রতিটি শ্রেণিতে একটি করে ট্রেড থাকবে।

এগুলো হচ্ছে প্রকৌশল-১ (ষষ্ঠ শ্রেণি), প্রকৌশল-২ (সপ্তম) এবং প্রকৌশল-৩ (অষ্টম)।

জানা গেছে, ৬৪০ প্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শাখা খোলার লক্ষ্যে বিস্তারিত রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় নবম-দশম শ্রেণিতে এসএসসি/দাখিল ভোকেশনাল কোর্স চালু হবে। ইতিমধ্যে ১২টি ট্রেড চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে পছন্দ অনুসারে দুইটি ট্রেড চালু করা যাবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দু’টি ট্রেডে মোট (প্রতি ট্রেডে ৪০ জন করে) ৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নির্বাচিত ৬৪০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল কোর্স চালুর লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬১৪ প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত তিনটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আসছে নভেম্বরে মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে দুইটি ট্রেড কোর্স চালুর লক্ষ্যে এক বছরের পাঠদান অনুমতি দিয়েছে কারিগারি বোর্ড। শিক্ষার্থী ভর্তি করলে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন দেবে। সেসিপ প্রোগ্রাম দলিলের সংস্থান অনুসারে প্রতি ট্রেডের জন্য একজন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর (শিক্ষক) নিয়োগ করবে এনটিআরসিএ।

সূত্র জানায়, ভোকেশনাল কোর্স চালু করতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দু’জন ট্রেড ইন্সপেক্টর, একজন করে বাংলা, ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান, গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিষয়ের সহকারী শিক্ষক এবং একজন করে কম্পিউটার প্রদর্শক ও ল্যাপ সহকারী নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মাধ্যমিকের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রি-ভোকেশনাল ও ভোকেশনাল কোর্স চালু সংক্রান্ত সেসিপের এক প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে সাধারণ শিক্ষা ধারার মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৩ হাজার ৮২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত রয়েছে। এরমধ্যে ইতিপূর্বে এক হাজার ৯৯৩টি প্রতিষ্ঠানে এসএসসি/দাখিল ভোকেশনাল কোর্স চালু হয়েছে। সেসিপ প্রকল্পের আওতাভুক্ত ৬৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ শিক্ষা ধারার মাধ্যমিক পর্যায়ের মোট দুই হাজার ৬৩৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতাভুক্ত হবে।

মাধ্যমিক পর্যায়ের এমপিওভুক্ত অবশিষ্ট ২১ হাজার ১৮৭টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নবম-দশম শ্রেণিতে বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালুর লক্ষ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুটি ট্রেড চালু করলে ন্যূনতম দুইজন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, একজন কম্পিউটার প্রদর্শক এবং একজন ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট/শপ অ্যাসিসটেন্ট/কম্পিউটার ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট প্রয়োজন হবে। এ বিবেচনায় ২১ হাজার ১৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যূনতম ৪২ হাজার ৩৭৪ জন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, ২১ হাজার ১৮৭টি কম্পিউটার প্রদর্শক এবং ২১ হাজার ১৮৭ জন ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট/শপ অ্যাসিসটেন্ট/কম্পিউটার ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট নিয়োগ প্রয়োজন হবে। এসব শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওভুক্তির জন্য সরকারের ব্যয় হবে এক হাজার ৪৫৬ কোটি ৮১ লাখ ৮১ হাজার টাকা। তবে এসব কোর্স চালুর পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

অমৃতবাজার/অনি