ঢাকা, রোববার, ২৬ মে ২০১৯ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বেতন ফি কমানোর দাবিতে উত্তাল ইবি


ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:২৯ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, বুধবার
বেতন ফি কমানোর দাবিতে উত্তাল ইবি ইবি ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি : অমৃতবাজার

বর্ধিত বেতন ফি কমানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯ টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে মানবন্ধন শুরু করে। পরে সেখান থেকে মিছিল বের করে তারা। মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুণরায় প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পরে সেখান থেকে তারা প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ করে। অবরোধের একপর্যায়ে কয়েকজন শির্ক্ষার্থী ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ ম্যুরালের পাদদেশে অনশন শুরু করে। ৫ ঘণ্টা অনশনের পর তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়।

পরে বিকেলে স্মারকলিপি গ্রহণের মাধ্যমে লিখিতে আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে শিক্ষার্থীরা। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন আগামীকাল ১২টা পর্যন্ত ক্লাস বর্জন অব্যাহত থাকবে। এক্ষেত্রে আশানুরুপ আশ্বাস না পেলে পুণরায় আন্দোলন শুরু হবে। এসময় পরীক্ষা ও ফরম ফিল-আপ বর্জনেরও ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধন চলাকালে দুজন শিক্ষার্থী গায়ে কেরোসিন ঢেলে তাদের গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য ছাত্র উপদেষ্টার হাতে দিয়াশলায় তুলে দেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘বাবার টাকায় প্রশাসন চললে সরকারের টাকা গেল কই?’, ইবি কি পাবলিক না প্রাইভেট?, হই হই রই রই আমার টাকা গুলো গেলো কই?, আবাসিক ও অনাবাসিক পরিবহন ফি এক কেনো?, ওরা কারা যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের শোষণ করে?, প্রশাসন কি দেখেনা গরীব শিক্ষার্থীদের কান্না? প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি ও অন্যান্য ফি বৃদ্ধি করে প্রশাসন। এতে কলা ও সমাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগ সমুহের জন্য ভর্তি ও অন্যান্য ফি ১৪০১৫ টাকা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত বিভাগ সমূহের জন্য ১৪৬১৫ টাকা, বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগ সমুহের জন্য ১৫৫১৫ টাকা করা হয়। যা পূর্বের ভর্তি ফি ও অন্যান্য ফির তুলিনায় তিনগুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে পূর্বের ১৯ টি খাত থেকে ৩৬ টি করা হয়েছে।

আন্দোলন চলাকালীন অবস্থায় বিকাল সাড়ে ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর আনিছুর রহমানের কাছে স্বারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন, ইইই বিভাগের প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান প্রমুখ।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভিসি স্যার ক্যাম্পাসে আসলে আগামীকাল আমরা বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের চেয়ারম্যানদের নিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা করব।’

অমৃতবাজার/অনি