ঢাকা, রোববার, ২৬ মে ২০১৯ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বেরোবি শিক্ষক সমিতির স্মারকলিপি এগার শিক্ষকের প্রত্যাখান


বেরোবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:২৭ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৯, বুধবার
বেরোবি শিক্ষক সমিতির স্মারকলিপি এগার শিক্ষকের প্রত্যাখান

বিভিন্ন দাবিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দেয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য বরাবর দেয়া স্মারকলিপি প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষক সমিতির কার্যকরী সংসদের ১৫ জন সদস্যের ১১ জন সদস্য। তারা উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে ওই স্মারকলিপি প্রত্যাখান করে ব্যবস্থাগ্রহণের অনুরোধ করেন।

সমিতির সভাপতি প্রফেসর গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক খায়রুল কবির সুমন ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার জন্য এই স্মারকলিপি দিয়েছেন বলেও তারা ওই চিঠিতে উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বেশ কিছু দাবিতে স্মারকলিপি দেয়ার পরেই কার্যকরী সংসদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপাচার্য বরাবর এই চিঠি দেন।

উক্ত চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন, সমিতির সহসভাপতি ফেরদৌস রহমান, কোষাধ্যক্ষ নুর আলম সিদ্দিক, সদস্য প্রফেসর আর এম হাফিজুর রহমান, জাহিদ হোসেন, নজরুল ইসলাম, প্রদীপ কুমার সরকার, সাইদুর রহমান, প্রফেসর সরিফা সালোয়া ডিনা, আতিউর রহমান।

এছাড়াও ক্যাম্পাসে না থাকায় টেলিফোনে ওই চিঠিতে সমর্থন জানিয়েছেন অপর দুই সদস্য প্রফেসর পরিমল চন্দ্র বর্মণ এবং আলী রায়হান সরকার।

কার্যকরী সংসদের সদস্যবৃন্দ তাদের চিঠিতে অভিযোগ করেন, গত ০৫-০৩-১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভার উদ্বৃতি দিয়ে প্রদান করা ওই স্মারকলিপির সঙ্গে তারা একমত নন। কারণ ওই সভা সমিতির গঠনতন্ত্র বৈধ ছিল না।

তারা জানান, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে বর্তমান সমিতি দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে ডাকা কার্যকরী সংসদের সভা কোরাম সংকটের কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি। সমিতির গঠনতন্ত্রের ৮ এর ক-ধারা অনুযায়ী কার্যকরী সংসদের পর পর তিনটি সভা আহবান করার কথা।

তার পরেও সভা অনুষ্ঠিত না হলে সাধারণ সভা আহবান করতে হয়। কিন্তু সেটা না করে কার্যকরী সংসদের কোনো সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ না করেই ০৫ মার্চ ২০১৯ তারিখে সভা আহবান করেন সাধারণ সম্পাদক।

এ বিষয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিধি অনুযায়ী সভা আহবানের জন্য বারবার তাগাদা দেয়া হলেও তারা তা করেন নি। বরং সমিতির সম্মানিত সাধারণ সদস্যবৃন্দকে বিভ্রান্ত করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে সভা আহবান করলে অভিযোগকারী সদস্যবৃন্দ কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

অথচ ওই সভার উদ্বৃতি দিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। উপাচার্যকে দেয়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্মারকলিপির সঙ্গে সমিতির কার্যকরী সংসদের সদস্যবৃন্দের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই উল্লেখ করে তারা জানান, স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত একান্তই দুই জনের।

তারা বলেন, প্রায় দেড় মাস আগের সাধারণ সভা দেখানোর পর কার্যকরী সংসদের কোনো সদস্যের মতামত না নিয়ে শিক্ষক সমিতির নাম ব্যবহার করে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে যাতে আমরা বিব্রত বোধ করছি।

কারণ, গত প্রায় আড়াই মাস আগে বর্তমান সমিতি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে উপাচার্য মহোদয়ের সাথে আলোচনা করার বিষয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বারবার আহবান জানানো হলেও তারা তাতে সাড়া না দিয়ে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার জন্য স্মারকলিপি দিয়েছেন।

কার্যকরী সংসদের ১১ জন সদস্যের স্মারকলিপি প্রত্যাখান করার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

অমৃতবাজার/আরএইচ