ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইবিতে বর্ষবরণ : তিনদিনব্যাপি বৈশাখী মেলা শুরু


অনি আতিকুর রহমান, ইবি

প্রকাশিত: ০৪:১৭ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৯, রোববার
ইবিতে বর্ষবরণ : তিনদিনব্যাপি বৈশাখী মেলা শুরু প্রতিনিধির পাঠানো ছবি।

নববর্ষ বাঙালিদের প্রাণের উৎসব। প্রতি বছরের ১লা বৈশাখ জাকজমকপূর্ণভাবে এটি পালন করে বাঙালিরা। বিগত এক বছরের গ্লানি, ক্ষোভ কিংবা দুঃখ ভুলে জাতি, ধর্ম, গোত্র, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মেতে উঠে শিকড়ের সন্ধানের আনন্দে। আর এই আনন্দ মেতে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও। এ উপলক্ষে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গনে তিনদিনব্যাপি বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সকালে বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্ভোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী। এসময় তাঁর সাথে উপ-উপচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা উপস্থিত ছিলেন। মেলায় রকমারি পণ্যের ৮৪টি স্টল রয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, আয়োজনের প্রথম দিনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক রাশিদ আসকারী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ হচ্ছে বাঙালী সংস্কৃতির প্রাণের উৎসব। যেখানে নেই কোন ভেদাভেদ ও বিভাজন। সকল ধর্ম, বর্ণ, পেশার মানুষ এই দিনে সম্প্রতির বন্ধনে মেতে উঠে। সমাজ ও সভ্যতার বিনাশ সৃষ্ঠিকারী অপ-সংস্কৃতির কারণে যেন আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির চরম ক্ষতি সাধন না হয় সেদিকটিতে আমাদের সকলকেই খেয়াল রাখতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালীয়ানার বন্ধন, প্রেমের বন্ধন, নিজেকে নতুন করে সাজাবার বন্ধন। আমরা বাংলায় কথা বলি, বাংলায় গান শুনে আত্মিক শান্তি পায়। যা অন্য কোন বিজাতীয় ভাষায় সম্ভব নয়।’

অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ বলেন, ‘বাঙালীরা সব সময় সংস্কৃতির শিকড়ের সন্ধান করে। আমরা বাস করি সুন্দরকে ঘিরে। তাই সকল অসুন্দরকে ভেদ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এই হোক আমাদের পহেলা বৈশাখের অঙ্গীকার।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আনিছুর রহমান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আবদুল লতিফ, অধ্যাপক ড. জাকারিয়া রহমান, অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, অধ্যাপক ড. আহসানুল হক আম্বিয়া, অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন, অধ্যাপক ড. মেহের আলী প্রমুখ। আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক বনানী আফরিন।

এদিকে এর আগে রোববার সকাল সাড়ে নয়টায় প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন হল, বিভাগ, দফতর, সমিতি, পরিষদ, ফোরাম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যবৃন্দ স্ব-স্ব ব্যানারসহ অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেলা প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানস্থল বাংলা মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে তিনদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দুপুর ৩টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। পহেলা বৈশাখে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান চলাকালে কোন বিভাগ, হল ও সাং¯কৃতিক সংগঠনকে অনুষ্ঠান না করার জন্য অনুরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অমৃতবাজার/অনি