ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: তদন্তে কমিটি ও বিক্ষোভ


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:১৫ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: তদন্তে কমিটি ও বিক্ষোভ

শিক্ষকের কাছে বাবার অপমান সইতে না পেরে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় স্কুলের সামনে বিক্ষোভ করছেন অভিভাবকরা। মঙ্গলবার পরীক্ষা বর্জন করেছে স্কুলটির শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে বেইলী রোডে ওই স্কুলের গেটের সামনে জড়ো হতে থাকেন অভিভাবকরা। এ সময় তারা দোষী শিক্ষক ও স্কুলটির অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করেন। এ ঘটনার তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্কুল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।

এ আত্মহত্যার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক মো. ইউসুফকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্কুলটির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের পৃথক কমিটি গঠন করেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষও। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে সবসময়েই এ ধরণের বাজে আচরণ করে যাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অরিত্রির মৃত্যুর ঘটনায় যা সামনে এসেছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির কাছে অভিযোগ করার পরও কোনো সমাধান মেলেনি। স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল নাজনীন ফেরদৌস বলেন, স্কুলের আজকের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা চাইলে পরীক্ষা দিতে পারে। না দিলে পরীক্ষাটি পরে নেওয়া হবে। এর আগে সোমবার ক্লাস পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে বাবাকে ডেকে অপমান করায় তা সহ্য করতে না পেরে অরিত্রি অধিকারী (১৫) নামে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেন। অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারী জানান, অরিত্রি ক্লাস পরীক্ষায় মোবাইলে উত্তর লিখে নিয়ে গিয়েছিল। সে ধরা পড়ায় তাকে আর পরীক্ষায় অংশ নিতে না দিয়ে স্কুল থেকে অভিভাবককে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, সোমবার সকালে আমি স্কুলের প্রিন্সিপালের রুমে দুঃখ প্রকাশ করতে গেলে তারা অরিত্রিকে টিসি দিয়ে দেবে বলে জানায় এবং আমাকে অনেক কথা শোনায়।

তিনি আরো বলেন, এ সময় আমি মেয়ের সামনেই কেঁদে ফেলি। অরিত্রি হয়তো আমার ওই কান্না-অপমান মেনে নিতে পারেনি। বাসায় ফিরে সে তার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে। অরিত্রির বাবা আরও বলেন, বাহির থেকে অনেক ডাকাডাকি করেও দরজা খুলেনি, দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক আমার মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন।

অমৃতবাজার/মেহেদী