ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাবিতে বিসিএস ফরম পূরণে কম্পিউটার দোকানির প্রতারণা, আটক তিন


রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮:২২ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
রাবিতে বিসিএস ফরম পূরণে কম্পিউটার দোকানির প্রতারণা, আটক তিন

বাংলাদেশে কর্ম কমিশন (বিসিএস)-এর ৪০তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফরম পূরণে প্রতারণার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার দোকানের তিন জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের স্পন্দন কম্পিউটারের মালিক মোস্তাক আহমেদ মামুন এবং ভাই ভাই কম্পিউটারের আরিফ হোসেন ও রফিকুল ইসলামকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা নিয়েছে। তিন দোকানিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি আমরা। তাদের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যেটি শিক্ষার্থীদেরকে ফেরত দেওয়া হবে।’

এর আগে সকালে দোকানিদের এ রকম অসততার অভিযোগ সাংবাদিকদের কাছে আসলে সাংবাদিকসহ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরকে আটক করে প্রক্টর দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিবন্ধী না হওয়া স্বত্ত্বেও প্রায় তিন শতাধিক প্রার্থীকে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবন্ধী কোটায় ফরম পূরণ করে দিয়েছে অভিযুক্ত দোকানিরা। যদিও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোটা ব্যতীত কর্ম কমিশন নির্ধারিত ফি ৭০০ টাকা নিয়েছে দোকানি। আর প্রতিবন্ধী কোটায় ১০০ টাকায় ফরম পূরণ করায় তাদের পকেটে গেছে বাকি ৬০০ টাকা।

ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমি স্পন্দন কম্পিউটার দোকান থেকে কয়েকদিন আগে ৪০-তম বিসিএসের ফরম পূরণ করি। তারা তখন আমাকে জানায় যে, আমাদের কাছে অনেকেই ফরম পূরণ করছে, দিনে সময় পাওয়া যাচ্ছে না। তাই রাতে টাকা জমা দেওয়া হবে। আমাকে তখন ওই দোকানি একটি ফরম দেয়। পরের দিন আমাকে আরেকটি ফরম দেওয়া হয়। কিন্তু আগের ফরমের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। তারা আমার এইচএসসি রোল নম্বর ভুল করেছে। আমাকে প্রতিবন্ধী বানিয়ে দিয়েছে। পরে শুনি এ রকম অসংখ্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে এটা করেছে।’

অভিযুক্তদের পুলিশে সোপর্দ করা হলেও বিসিএসে এবারের পরীক্ষায় আদৌ শিক্ষার্থীরা বসতে পারবেন কিনা এ নিয়ে শঙ্কায় আছেন ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের তো ফরম পূরণ হয়ে গেছে ভুলভাবে। যদিও আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরম পূরণের সময় দেওয়া আছে। কিন্তু পিএসসি নিজেদের মতো করে চলে। তারা যদি আমাদেরকে সুযোগ না দেয় বা এর মধ্যে যদি বিষয়টি ঠিক করা না যায় তাহলে পরীক্ষায় বসা অনিশ্চিত হয়ে যাবে।’

তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘পিএসসির কর্মকর্তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের আগের আবেদনের নাম, পাসওয়ার্ড, ইউজার আইডি, রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে পিএসসিকে ই-মেইল পাঠাতে বলেছে।’

তিনি জানান, ‘এই নামের তালিকা দেখে পিএসসি আগের আবেদন বাতিল করবে। পরে তারা এই শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টা সময় দিবে নতুন করে আবেদন করার জন্য।’

কতজন শিক্ষার্থী এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছে, জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, ‘আমার কাছেই তো দুইশোর মতো এসেছিলো। ভুক্তভোগীরা বলেছে, এটা তিনশোর বেশি।’

এ বিষয়ে নগরীর মতিহার থানার ওসি শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুপুরে তিন জন কম্পিউটার দোকানদারকে আটক করে আমাদের হাতে দিয়েছে। এখনো কেউ মামলা করেনি। যদি ভুক্তভোগী কেউ অভিযোগ করে তবে মামলা হবে।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছর ৪০-তম বিসিএসের আবেদন শুরু হয় ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায়। আর সেই আবেদনের সুযোগ শেষ হচ্ছে আজ ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায়।

অমৃতবাজার/শিহাব/শাওন