ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চসিক-বিউবো`র চুক্তি


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:২৩ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চসিক-বিউবো`র চুক্তি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অপসারিত বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রোডাকশন (আইপিপি) ভিত্তিতে বর্জ্য থেকে এ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। চসিকের দৈনিক আড়াই হাজার মেট্রিকটন বর্জ্য থেকে প্রায় ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতি এক মেগাওয়াট বিদ্যুতে ৬০ কোটি টাকা ব্যয় হিসাব করে আনুমানিক ১৫০০ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের টিজি সেন্টার হালিশহর অথবা আরেফিন নগর সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ প্ল্যান্টটি নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০ একর জায়গার উপর এই প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে। প্ল্যান্টে বিনামূল্যে বর্জ্য পৌঁছে দেবে। প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পিডিবি। এই প্রতিষ্ঠানটি বিল্ড ওন এন্ড অপারেট (বিউও) পদ্ধতিতে স্পন্সর ঠিক করবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি গড়ে উঠলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুষ্ঠু শৃংখলা ফিরে আসার পাশাপাশি পরিবেশ উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনেও ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

এ লক্ষ্যে রোববার (২১ অক্টোবর) সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন’র (বিউবো) মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিপত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী (প্রাইভেট জেনারেশন) মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষর করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২১ সাল পর্যন্ত। প্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হবে।

এক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষর এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এক বছর। অবশিষ্ট দুই বছর প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রথমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের সাথে দুইটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। প্রথম ক্ষেত্রে,একটি হবে বর্জ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণ চুক্তি এবং অপরটি প্ল্যান্টের জন্য জমি প্রদান চুক্তি। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাথে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের সাথে পাওয়ার প্রসেস চুক্তি সম্পন্ন করা হবে। তৃতীয় মাত্রায় বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের সাথে একটা ইমপ্লিমেন্টেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এই চারটি চুক্তি সম্পন্নের পর প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিউবো’র পক্ষ থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় করবে বিউবো। সিটি কর্পোরশন বিনামূল্যে তাদের জায়গা দেবে। নগরবাসীকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে আবর্জনার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিবেশবান্ধব নগর গড়তে বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের এই উদ্যোগ। এটি স্থাপিত হলে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ঘাটতি দুর হবে।

যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে বায়ু দূষণ, পানি দূষণসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সৃষ্টি করছে নানা রোগ ব্যাধি। পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে ২০১৬ সালের আগে থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। এই বছরই বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগ ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড প্রধান প্রকৌশলী (প্রাইভেট জেনারেশন) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বিশ্বের অন্যান্য দেশে অনেক আগে থেকেই করা হচ্ছে। আমাদের দেশে বর্তমান সরকার এই প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সংগৃহিত বর্জ্য থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়বে ১৬ টাকা। সরকার ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে মাত্র ৪ দশমিক ৮০ টাকা ইউনিটে বিক্রি করবে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ইউনিট প্রতি ১১টাকা রেট নির্ধারণ রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ঠিক করা হবে। স্পন্সর প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট হলে আমরা কাজ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছি। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কাছে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় করে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। তাই প্ল্যান্ট নির্মাণ প্রকল্পের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রিড লাইন যোগাযোগের বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম অঞ্চল প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দীর আহমেদ, সচিব মো.আবুল হোসেন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অমৃতবাজার/দিদারুল/শাওন