ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ছিনতাইয়ে বাঁধা দেয়ায় সাংবাদিকসহ চার জনকে জাবি ছাত্রলীগের মারধর


জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
ছিনতাইয়ে বাঁধা দেয়ায় সাংবাদিকসহ চার জনকে জাবি ছাত্রলীগের মারধর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনদুপুরে ছিনতাই কাজে বাধা দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত চ্যানেল আই অনলাইন প্রতিনিধিকে বেধরক মারধর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী। এসময় হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অপর এক প্রতিবাদী ছাত্রী’সহ দুই বহিরাগতকে জখম ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সামনে এই ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার সাংবাদিক মাহমুদুল হক সোহাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ৪৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী,শহীদ সালাম-বরকত আবাসিক ছাত্র হলে থাকেন।

মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা, নেজামউদ্দিন নিলয়(নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ, ৪২ব্যাচ), রাফিউল সিকদার আপন (লোক প্রশাসন বিভাগ, ৪৭ ব্যাচ), সোহেল রানা (লোক প্রশাসন বিভাগ, ৪৭ ব্যাচ), শুভাশিষ শুভ(বাংলা ৪৫ ব্যাচ)।

নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী এবং রফিক-জব্বার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। সংশ্লিষ্ট অপ্রকাশিত মাধ্যমে খোঁজে জানা গেছে, আসন্ন জাবি হল কমিটিতে নেজামউদ্দিন নিলয়ের সাধারণ সম্পাদক পদের নিশ্চিত প্রচারণাও রয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুলের কাছেই ঘুরতে যান দুই যুবক-যুবতী বহিরাগত। এসময় বহিরাগতরা মানি ব্যাগ,মোবাইল না দেওয়ায় ঘটনার অভিযুক্তরা বহিরাগতদের মারধর করতে থাকে। এসময় ঘটনা সম্পর্কে সংবাদ প্রতিবেদক মাহমুদুল হক সোহাগ জানতে চাইলে বহিরাগতরা কান্না করে বিবরন সব বলে দেয়। সোহাগ ও উপস্থিতজনের মধ্যে একপর্যায়ে ছিনতাই চেষ্টার ঘটনার মিমাংসা হলেও কিছুক্ষন পর আরো কিছু নেতা কর্মীরা জিমনেশিয়ামে এসে আবারো অর্তকিত হামলা করে বলে জানা গেছে।

ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন ঘটনার দুইজন ভিকটিম। ঘটনায় যথাযত বিচারের দাবিতে প্রক্টর ও উপাচার্য বরাবর তারা মৌখিক ও লিখিত অভিযোগপত্র প্রদান করেন।

এ বিষয়ে জাবি প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করে তারা কোনভাবেই এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত হতে পারে না। এরা ছাত্রলীগ নামক কুলাঙ্গার। অভিযোগপত্রটি হাতে পেয়েছি। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একই ঘটনায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, আমার জানা মতে মারধরকারীরা ছাত্রলীগের কেউ নয়। তবে অভিযুক্তদের কেউ ছাত্রলীগকর্মী হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অমৃতবাজার/মল্লিক/মিঠু