ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বেরোবিতে আইডি কার্ড বিতরণের নামে তামাশা


ইভান চৌধুরী, বেরোবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮:০৬ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
বেরোবিতে আইডি কার্ড বিতরণের নামে তামাশা

একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়ে চলেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত ক্যাম্পাসে না থাকা, বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত না মেনে কর্মকর্তা নিয়োগ, তুলনামূলক কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান, রাতের বেলায় ক্লাস নেয়া, নিজের কোর্সের পরীক্ষা অন্য শিক্ষক ও কর্মকর্তার মাধ্যমে গ্রহণ করাসহ নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের পর এবার মাস্টার্স পরীক্ষার দুই মাস পর শিক্ষার্থীদের মাঝে মাস্টার্সের ভুলে ভরা আইডি কার্ড বিতরণ করলেন তিনি।

শুক্রবার দুপুর পৌনে তিনটায় সিন্ডিকেট কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের মাঝে আইডি কার্ড বিতরণ করেন উপাচার্য। শিক্ষার্থীরা জানায়, গত ১২ জুলাই তাদের মাস্টার্স পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এর দুই মাস দুই দিন পর তাদেরকে শুক্রবার দুপুর দুইটায় আইডি কার্ড নিতে ডাকা হয়। তারা সময়মত উপস্থিত হলেও পৌনে তিনটায় কার্ড বিতরণ করতে আসেন উপাচার্য। এসময় শিক্ষার্থীদের গলায় আইডি কার্ড পরিয়ে দেন উপাচার্য। পরে নিজেদের আইডি কার্ডে ভুল দেখতে পেয়ে তৎক্ষনাৎ উপাচার্যকে বিষয়টি অবগত করে শিক্ষার্থীরা। এসময় সংশ্লিষ্টদের আইডি কার্ড সংশোধন করে দিতে বলেন তিনি।

শিক্ষার্থীরা জানান, অধিকাংশ আইডি কার্ডে কারো নামের বানানে, কারো বাবা-মায়ের নামে, কারো গ্রাম, পোস্ট এমনকি জেলার নামে ভুল রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় সবার আইডি কার্ডে উপজেলার নাম ঠিক থাকলেও জেলার নাম ভিন্ন। আইডি কার্ডগুলোর মধ্যে একজনের উপজেলা লেখা হয়েছে গাইবান্ধা সদর, কিন্তু জেলার নাম লেখা হয়েছে সিরাজগঞ্জ, আরেকটি কার্ডে উপজেলা পাঁচবিবি ঠিক থাকলেও জেলার নাম লেখা হয়েছে লালমনিরহাট। এছাড়া গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর এক শিক্ষার্থীর কার্ডে জেলার নাম রংপুর, দিনাজপুরের ঘোরাঘাটের শিক্ষার্থীর কার্ডে জেলার নাম রংপুর, আদিতমারী উপজেলার সাথে জেলার নাম কুড়িগ্রামসহ প্রায় সকলের কার্ডেই জেলার নাম রংপুর লেখা হয়েছে।

এদিকে, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের মাঝে আইডি বিতরণে যে ব্যানারটি টাঙানো হয়েছিল সেখানেও ভুল দেখা গেছে। ব্যানারে লেখা হয়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এমএসসি শিক্ষার্থীদের মাঝে আইডি বিতরণ।

আইডি কার্ড বিতরণে বিলম্ব করা এবং আইডি কার্ড ও ব্যানারে এতসব ভুল থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে শিক্ষার্থীরা। কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সামান্য আইডি কার্ড বিতরণে এত সমস্যা। আমাদের মাস্টার্স পরীক্ষার দুই মাস পর কার্ড দিচ্ছে। এই কার্ড দিয়ে আমরা কি করব? আর সবার আইডি কার্ডেই ভুল। আবার নাকি সংশোধনের জন্য দিতে হবে। তারা বলেন, উপজেলা গাইবান্ধা সদর লেখার পর কিভাবে জেলা সিরাজগঞ্জ লেখা হয়েছে তা বুঝে আসছে না। কোন অশিক্ষিত মানুষও অন্তত এই ভুল করবে না।

ওই ব্যাচের শিক্ষার্থী এইচএম নুর আলম বলেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নাকি এমএসসি শিক্ষার্থীদের মাঝে আইডি কার্ড বিতরণ করবে। এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা কিভাবে এমএসসি হয়। সবাইকি এমএসসি পাস করে? এটা কোন ধরনের অজ্ঞতা বুঝে আসছে না। আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই আইডি কার্ডের কোন দরকার নেই। কিন্তু সনদ তোলার সময় লাগতে পারে। তাই ছুটি নিয়ে ঢাকা থেকে রংপুরে আসলাম। এসে যে কার্ড পেলাম তাতে তিনটি ভুল। আবার নাকি এই কার্ড সংশোধন করতে হবে। এটা আমাদের সাথে তামাশা করা হলো।

সূত্রে জানা যায়, উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ অধিকাংশ ছুটির দিনে বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার করে ক্যাম্পাসে আসেন। তিনি ক্যাম্পাসে এসে নিজ হাতে আইডি কার্ড বিতরণ করেন। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখন পর্যন্ত যাদের মাঝে আইডি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে তাদের অনেকের কার্ডেই ভুল রয়েছে। এর আগে সবচেয়ে বেশি ভুল পরিলক্ষিত হয় ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ডে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইডি কার্ড প্রস্তুত করণ কমিটির আহবায়ক ড. রশীদুল ইসলাম বলেন, কার্ডগুলো অনেক আগেই প্রস্তুত হয়েছিল। কিন্তু ব্যস্ততার কারনে বিতরণ করা হয়নি। কার্ডে ভুল থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু কার্ডে ভুল হয়েছে। সংশোধন করে দেয়া হবে।

অমৃতবাজার/মিঠু