ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতির দেয়া নিয়োগ শর্তের তোয়াক্কাই করছেন না বেরোবি উপাচার্য


বেরোবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬:৩৯ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, রোববার
রাষ্ট্রপতির দেয়া নিয়োগ শর্তের তোয়াক্কাই করছেন না বেরোবি উপাচার্য

ক্যাম্পাসে সার্বক্ষনিক অবস্থান করার শর্তে গত বছরের ১৪ জুন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তার নিয়োগের প্রধান শর্ত হলো সবসময় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। সবসময় ক্যাম্পাসে অবস্থানের লিখিত শর্ত মেনে নিয়েই উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। কিন্তু রাষ্ট্রপতির দেয়া সেই নিয়োগ শর্তের কোন রকম তোয়াক্কাই করছেন না উপাচার্য কলিমউল্লাহ। নিজের ইচ্ছামতো ক্যাম্পাসে যাতায়াত করছেন তিনি। এসব বিষয়ে দেখা বা কথা বলার মত যেন কেউই নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত আগস্ট মাসে মাত্র পাঁচদিন ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন তিনি। যার মধ্যে চার দিনই সকালের বিমানে ক্যাম্পাসে এসে দুপুরে ঢাকায় চলে গেছেন। ১ আগস্ট উপাচার্য সকালে বিমানে করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন। সেদিন মাত্র আড়াই ঘণ্টা অবস্থান করেন ক্যাম্পাসে এবং দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে আবার বিমানে করে ঢাকায় চলে যান। এরপর ৯ দিন আর ক্যাম্পাসে আসেননি উপাচার্য। ১০ আগস্ট সকালে ক্যাম্পাসে এসে আবার বিকেলে বিমানে করে ঢাকায় চলে যান। ১৩ আগস্ট সকালে আবার বিমানে করে ক্যাম্পাসে এসে ঔদিন ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাসভবনে রাত থেকে ১৪ আগস্ট আবার বিকেলে বিমানে ঢাকায় যান তিনি। আবার ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকা থেকে সকালে বিমানে ক্যাম্পাসে আসেন উপাচার্য। পরে কর্মসূচি শেষে বিকেলে আবারও বিমানে করে ঢাকায় চলে যান। এরপর টানা ১৩দিন পর ২৯ আগস্ট আবার সকালে ক্যাম্পাসে আসলে বিকেলে আবার বিমানে ঢাকায় চলে যান। তারপর আগস্ট মাসে আর ক্যাম্পাসেই আসেননি তিনি। এরপর টানা ছয়দিন পর ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে বিকালে আসলেও রাত থেকে আবার সকালে ঢাকায় চলে যান। এরপর চারদিন আর ক্যাম্পাসে আসেননি তিনি।

এর আগে, উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ৩৪০ দিনে তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৯০ দিন ক্যাম্পাসে ছিলেন। হাতে গোনা কয়দিন ক্যাম্পাসে তার বাসভবনে অবস্থান করলেও বেশিরভাগ সময় সকালে ঢাকা থেকে বিমানে এসে আবার বিকেলে বিমানে করে ঢাকায় চলে গেছেন। উপাচার্যের সবসময় বিমানে যাতায়াতের অর্থ নিয়েও বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন উপাচার্য ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কর্মকান্ডের উপর প্রভাব পরছে। বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের গুরুত্বপূর্ন ফাইল দিনের পর দিন আটকে পরে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারি বলেন,‘বেশিরভাগ সময় ক্যাম্পাসে থাকেননা উপাচার্য। সপ্তাহে দু-একদিন ক্যাম্পাসে থেকে আবার ঢাকায় চলে যান। বেশিরভাগ সময় সকালে ক্যাম্পাসে এসে আবার বিকেলে বিমানে ঢাকায় চলে যান তিনি। তারা বলেন,‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মাঝেমধ্যে ঢাকায় যান, কিন্তু আমাদের উপাচার্য স্যার ঢাকায় থাকেন, তার ইচ্ছে হলে মাঝেমধ্যে ক্যাম্পাসে আসেন।

এ ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সভাপতি গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন,‘আমরা উপাচার্য স্যারকে বলবো, যেন তিনি ক্যাম্পাসে উপস্থিতি বাড়ান।

এসব বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইবরাহিম কবীর বলেন,‘এ ব্যাপারে আমি কিছু বলবনা, ওনার (উপাচার্য) সাথেই কথা বলেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর সাথে তার কার্যালয়ে দেখা করতে গেলে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানান এক কর্মচারি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি বরাবরের মতো ফোন রিসিভ করেননি।

অমৃতবাজার/ইভান/শাওন