ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাবি প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক মজিবুর


রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ০৯ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার
রাবি প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক মজিবুর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম মজিবুর রহমান।

২০টি কার্যনির্বাহী সদস্যের মধ্যে এই শিক্ষকের প্যানেল পেয়েছে ১৭টি। দুই বছর মেয়াদী ২১টি কার্যনির্বাহী পদে প্রথমবারের মতো শিক্ষকরা তিনটি প্যানেলে ভাগ হয়ে এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে এ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষকদের এ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. জুলফিকার আলী। তিনি বলেন, সারাদিন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে ৬৬৪ ভোটের মধ্যে কাস্টিং হয়েছে ৫৬৩টি। যার মধ্যে অধ্যাপক মজিবুর পেয়েছেন দুইশ ২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক উপাচার্যপন্থী প্যানেল থেকে আহ্বায়ক প্রার্থী অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম পেয়েছেন ১৭৯ ভোট এবং আরেকটি প্যানেল থেকে অধ্যাপক হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১৬০ ভোট।

এছাড়া আহ্বায়ক বাদে কার্যনিবার্হী ২০ সদস্যের মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মজিবুর রহমানের প্যানেল ১৭টি, আহ্বায়ক প্রার্থী ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলামের প্যানেল ২টি এবং প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের প্যানেল একটি সদস্যপদে জয়ী হয়েছে।

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. জুলফিকার বরাবর বুধবার রাতে নিবার্চনে একটি ‘বিশেষ প্যানেলকে’ ভোট প্রদানের জন্য শিক্ষকদের প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে আহ্বায়ক প্রার্থী অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম ও অন্য প্যানেল থেকে অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।

অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, ‘মুক্তিযোদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ এর স্টিয়ারিং কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই কোনো কোনো মহল শিক্ষকদের ডেকে একটি বিশেষ প্যানেলে ভোট প্রদানের জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। এর ফলে নির্বাচনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

এছাড়াও ভোট প্রদানের সময় বিশেষ প্যানেলে ভোট দেয়ার প্রমাণ হিসেবে মোবাইল ফোনে ছবি তোলে তা দেখানোর জন্য অনেক শিক্ষককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে তাদেরকে কাছে তথ্য আছে। এমনতাবস্থায় অনেক শিক্ষক আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। এতে শিক্ষকরা তাদের পছন্দের প্রতীকে ভোট প্রদান করতে সমর্থ হবে না বলে প্রতিয়মান হয়।

এমন অভিযোগরে পরিপ্রেক্ষিতে ওই দুই প্যানেল প্রাধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ আতঙ্কমুক্তভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার স্বার্থে ভোট প্রদানের সময় শিক্ষকগণ যাতে বুথে মোবাইল ফোন নিতে না পারে তা নিশ্চিত করা এবং বুথের সামনের পর্দা তুলে দিয়ে বুথকে উন্মুক্ত করারও দাবি জানিয়েছে। তবে এ অভিযোগকে অনুমাননির্ভর বলে তা উড়িয়ে দেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. জুলফিকার।

এর আগে ২০১৬ সালে দুইটি প্যানেল ছিল। তৎকালীন উপাচার্য ও বর্তমান উপাচার্যপন্থীদের প্যানেল। তারও আগের নির্বাচনে প্রকাশ্যে কোনও প্যানেলই ছিল না।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/সুজন