ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

হবু পুত্রবধূকে নিয়োগ দিতেই চেয়ারম্যানের তড়িগড়ি!


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:১৬ এএম, ০৯ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার
হবু পুত্রবধূকে নিয়োগ দিতেই চেয়ারম্যানের তড়িগড়ি!

হবু পুত্রবধূকে নিয়োগ দিতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আলী আক্কাস তড়িগড়ি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিভাগে দু’টি স্থায়ী সহযোগী অধ্যাপকের বিপরীতে দু’জন প্রভাষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের কোনো সদস্য নিয়োগ প্রার্থী হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হতে পারবেন না। সে নিয়মের ব্যত্যয় না ঘটাতে অধ্যাপক আলী আক্কাস তড়িগড়ি করে বৃহস্পতিবার (৯আগস্ট) সিলেকশন বোর্ড অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও তিনি এই নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে বলবৎ আছেন।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিভাগটিতে শিক্ষক সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। সংকট রয়েছে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত স্টাডি কক্ষেরও। তাই এখনই বিভাগে অতিরিক্ত দু’জন প্রভাষক নিয়োগের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ এর আগে সহযোগী অধ্যাপকের বিপরীতে সিলেকশন বোর্ড কর্তৃক চূড়ান্ত করা দুইজন প্রভাষক নিয়োগের সুপারিশ গ্রহণ করেনি সিন্ডিকেট। সে সময় সিন্ডিকেট থেকে সিলেকশন বোর্ডকে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বলা হয়েছিল।

এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী একজন প্রভাষক দৈনিক ৪টি, সহকারী অধ্যাপক ৩টি, সহযোগী অধ্যাপক ২টি এবং অধ্যাপক ১টি করে ক্লাস নিবেন। প্রয়োজন পড়লে এর বেশিও নিতে পারবেন তারা। কিন্তু বিভাগটিতে বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা এতো বেশি যে সেখানে কোন কোন প্রভাষক দৈনিক ৪টি ক্লাসের পরিবর্তে মাত্র ১টি ক্লাস নিয়ে থাকেন। সান্ধ্যকালীন কোর্সে পড়ানোর আগ্রহ থেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিয়োগ দিতে বিভাগের চেয়ারম্যানকে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক সমর্থন দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আলী আক্কাস ‘পরিবারের কোনো সদস্য নিয়োগ প্রার্থী হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হতে পারবেন না’ বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কেন তিনি এই  নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে আছেন, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি।

২৩ নভেম্বর তার ছেলে আহমে ফয়সাল ও লামিয়া রহমানের বিবাহ অনুষ্ঠানের কথাটি অস্বীকার করে অধ্যাপক আলী আক্কাস বলেন, এক বছর আগে দেখতে গেছিলাম। পারিবারিক সমস্যা আছে তাই পিছিয়ে আসছি। হবুবধূ সম্পর্কে বলেন, হবু বলে কোন কথা আছে?

এ বিষয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম এবং সিলেকশন বোর্ডের প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। 

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের বাইরে কিছু হবে না।

অমৃতবাজার/জয়