ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ইবি প্রগতি পরিবর্তন আর উন্নয়নের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি


ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল

প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ১৬ মে ২০১৮, বুধবার
ইবি প্রগতি পরিবর্তন আর উন্নয়নের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠতম বিদ্যাপীঠও। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা থেমে নেই। ক্রমাগত সামনের দিকে এগিয়ে চলছে দীপ্ত শপথে। শৈশব-কৈশরের বেলা শেষে পরিপূর্ণ যৌবনে এ বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের সপ্তম বিশ্ববিদ্যালয় হলেও ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা বিচারে এটির অবস্থান কার্যত ষষ্ঠ। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির নানামুখী কর্মকান্ড সমগ্র বাংলাদেশে এক অনন্য যোগ্যতায় উন্নীত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বয়স পঁচিশ পেরিয়ে গেছে বেশ আগেই। বহুবিধ প্রক্রিয়া-উন্নতির ভেতর দিয়ে এর গতি প্রবাহিত হলেও ২০১৬ সাল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গতিপথ বদলে যেতে শুরু করেছে।

জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ নিপাত যাক:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বলতে এদেশের মানবমনে অজানা এক ভীতির সঞ্চার হতো, অকারণ-অযৌক্তিক ধারণা মনের গহীনে লুকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ভুলবশত মৌলবাদী আখড়ার তকমা সেটে দেয়া হতো। প্রকৃতপক্ষে যা ছিল অনুমান-অজ্ঞানতা নির্ভর। বহুকাল আগের সেই বিষাক্ত দিনযাপনের দিন আতিবাহিত হয়ে গেছে অতলান্তিক অন্ধকারে। এখানে এইসব এখন কল্পনা মাত্র। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ পৃথিবীতে এক ঘৃণ্য প্রক্রিয়া। বাংলাদেশও এর বিরুদ্ধে এখন এক সোচ্চার রাষ্ট্র। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজা, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এইসব অপসৃষ্ট-অনাকঙ্খিত অধ্যায়ের বিষদাত ভেঙে দিয়ে দেশটাকে নতুনতর অধ্যায়ের দিকে ধাবিত করেছেন। তারই ধারাবাহিকতার এক অনন্য দলিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে জঙ্গিবাদ শব্দটিই এখন অজানা শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে। জনমনে যে ভুল চিন্তা বাসা বেঁধেছিল, সেখানে চিরদিনের জন্য পেরেক ঠুকে দেয়া হয়েছে।

 

ইবির স্বর্ণালি সময়:
ইতোমধ্যে জঙ্গি ইস্যু নিয়ে ইবিতে ডীন, সভাপতি ও হল প্রোভস্টবৃন্দের সঙ্গে ইবির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর রশীদ আসকারী, মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শাহিনুর রহমান ও মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সেলিম তোহা আন্তরিক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ৮ জানুয়ারি ২০১৭-তে মাদক, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বিরোধী রালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু তাই-ই নয় জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রচার অভিযান ২০১৭ এখানে উদ্বোধন করা হয়েছে। সভায় মাননীয় উপাচার্য দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছিলেন ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গিবাদের কোনো দাগ পড়ুক সেটা আমরা চাই না।’ এই বক্তব্যের প্রতিফলন যদিও এখানকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মই ধরে রাখার ক্ষেত্রে অগ্রণীয় ভূমিকা হিসেবে পালন করবে। সে কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের ভেতরে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের কুফল সম্পর্কে সকলের উচিৎ বিস্তর ধারণা প্রদান করা।

বিদায় সেশনজ্যাম:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজ্যাম এক ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছিল। মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিল ইবির শরীর। বর্তমান প্রশাসনের মাত্র এক বছরের কর্মপ্রচেষ্টা ও আন্তরিক তৎপরতার ফলে প্রায় প্রতিটি বিভাগ সেশনজ্যামের করালগ্রাস থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন পথের দিশা পেয়েছে। দেখতে না দেখতে বেলা ১টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পরীক্ষা গ্রহণের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের সুফল পাওয়া গেছে। ছাত্র-ছাত্রীরা দীর্ঘকালের হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্দামে তাদের লেখাপড়ায় দৃষ্টিনিবদ্ধ করতে পেরেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সেক্টরে এসেছে আনন্দ ও নতুন পরিবেশ। এখানকার কর্মঘণ্টা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এখন সর্বদা আনন্দ মুখর ও জমজমাট থাকে ইবির ক্যাম্পাস। নতুন কর্মঘণ্টায় দারুণ এক প্রাণচাঞ্চল্য। পাঠদান ও অফিসের সময় এখন সকাল ৯টা থেকে ৪:৩০ মিনিট পর্যন্ত। এ-ধারা অব্যাহত থাকলে সেশনজ্যাম শব্দটিই একদিন ইবি থেকে অপরিচিত শব্দে পরিণত হবে।

সর্বস্তরে জবাবদিহিতা:
প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে জবাবদিহিতামূলক পরিবেশ। একাডেমিক ক্ষেত্রে এসেছে নতুন জোয়ার। প্রশাসনিক ভবনে কাজের ক্ষেত্রে যেমন সৃষ্টি হয়েছে প্রাণচঞ্চলতা তেমনি সৃষ্টি হয়েছে কর্মস্পৃহা ও স্বচ্ছতা। কর্মঘণ্টা বৃদ্ধির ফলে এখানকার শিক্ষক মহোদয়গণ বেশিরভাগ কর্মগুলো ক্যাম্পাসেই শেষ করতে পারছেন। সে ক্ষেত্রে পরীক্ষা গ্রহণের বেলায় কমেছে জটিলতা তেমনি রেজাল্ট দেবার সময়সীমাও বহুগুণে কমে এসেছে। কর্মঘণ্টা বৃদ্ধির যুগান্তকারী পদক্ষেপ ইবিকে নতুন জীবনে ফিরতে দারুণ সহায়ক ভূমিকা হিসেবে কাজ করেছে। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা বিতর্কের উর্ধ্বে নয়, এক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য এক নজীর স্থাপন করেছে। ভর্তি পরীক্ষায় বিতর্ক তৈরির পরিবেশ সৃষ্টি হতে না হতে তার কার্যকরী সমাধান তৈরি করে দেশব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছে। বর্তমান প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দুর্নীতিমুক্ত করা। সে যাত্রায় বেশ সফলতার পরিবেশ ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স হিসেবে দেখছে বর্তমান প্রশাসন।

ইবিকে আন্তর্জাতিকতায় উন্নতিকরণের প্রচেষ্টা:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি করবার প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর রশীদ আসকারী, মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শাহিনুর রহমান ও মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সেলিম তোহাসহ ইবির সমস্ত পর্যায় এক সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্হিবিশ্বের ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির দ্বার উন্মোচন করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিকতায় রূপান্তরিত হতে চলেছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষা পদ্ধতি ও নতুন নতুন বিষয় নির্বাচন। বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০১৭ সালে দেশসেরা ও আন্তর্জাতিকমানের বেশ কয়েকটি বিষয় খুলেছেন। যা আগামী ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র-ছাত্রীরা অধ্যয়ণ করছে। বিষয় খোলার ক্ষেত্রে চাকরি বাজারে চ্যালেঞ্জের দিক বিবেচনায় এনে এক যৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালো পারফরমেন্সের মাধ্যমে মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইকিইএসির নীতিমালা বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মশালা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে ইবি উপাচার্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত এক্সটারনাল পিয়ার রিভিউ টিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত অব্যাহত রয়েছে। যেখানে আলোচনার ভেতর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পদ্ধতি আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবার বিষয়গুলো দৃঢ়ভাবে উঠে আসে। এ সংক্রান্ত অগ্রগতিতে ইবিতে গবেষণা পদ্ধতি এবং ই-গবেষণা পরিচালনা বিষয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণসহ চীনের কনফুসিয়াস ইন্সটিটিউট এবং ইবির মধ্যে শিক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়েও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত গর্বের বিষয় ইবিতে বাংলা বিভাগের অধীনে বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতি নিয়ে নানাবিধ গবেষণা সৃষ্টি হবে। আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুত এই পদে দেশবরেণ্য কোনো এক গবেষককে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ করবেন বর্তমান প্রশাসন।

ইবির উন্নয়নের চালচিত্র:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রবল উন্নতির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র খুবই সৌন্দর্য। `বাঁচো এবং সবুজে বাঁচো` এমন এক প্রতিজ্ঞাকরণে আবদ্ধ যেন ইবির প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের রুচি ও তার আভিজাত্যের প্রকাশ ঘটে তার রূপলাবণ্যের ভেতর দিয়ে। মাত্র দুবছর আগের সেই ইবি ক্যাম্পাসটিকে আর চেনা যায় না। এর দেহে এখন সবুজের সমারোহ। সবুজের বুকে বেঁচে থাকবার প্রাণান্তকর যে প্রচেষ্টা প্রশাসনের, সেখানে এক অসাধারণ সাফল্য বিরাজমান। ইবিতে অবকাঠামোগত উন্নয়নকে প্রচণ্ড অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের সবুজ জমিনে নতুন নতুন ভবনের কাঁচা গাঁথুনির গন্ধে মাতোয়ারা এখন। চোখ ঘুরালে সর্বত্রই নতুনের আহ্বান। প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শহীদ মিনার ও শহীদ স্মৃতি সৌধ সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজের সমাপ্তি ঘটেছে। দ্রুতগতিতে শেষ হতে চলছে রবীন্দ্র-নজরুল অনুষদ ভবন ও শেখ রাসেল হলের নির্মাণ কাজ। ইবিতে দীর্ঘ ১৫ বছর পর ৪র্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহীদ মিনার সংলগ্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে মনোরম ফোয়ারা। পশ্চিম পার্শ্বের লেকটিকে ঘিরে নেয়া হয়েছে মহাপরিকল্পনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি নতুন রাস্তা নির্মাণের চিত্র এখন দৃশ্যমান। এর মাঝে নতুন করে উদ্বোধন করা হয়েছে আরো পাঁচটি প্রকল্পের। দীর্ঘকালের জরাজীর্ণ পরিবেশ ভেঙে নতুন পরিবেশ তৈরির অদম্য প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবি রাখে।

ইবির সাম্প্রতিক উন্নয়ন:
বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদপ্রাপ্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের নেতৃত্বে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে নতুন অত্যাধুনিক ৮ টি বিভাগ চালু করেছেন এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে আরো ৮টি নতুন বিভাগ চালু প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি জায়গায়ই উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১. প্রধান ফটকের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর দৃষ্টিনন্দিত মু্রাল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার, বঙ্গবন্ধু কর্ণার, একুশে কর্ণার স্থাপন ২. ধারাবাহিকভাবে মাদক-সন্ত্রাস- জঙ্গিবাদ বিরোধী সচেতনতামূলক সভা সেমিনার ও দেশের সর্ববৃহৎ রালির আয়োজন। সার্বিক নিরাপত্তায় পুরো ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা ৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম ৫৯টি বিভাগ সম্বোলিত অর্গানোগ্রাম পাশ হয়েছে ৪. চীন-জাপান-ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর, বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি, এমফিল-পিএইচডির অর্ডিনেন্স আন্তজার্তিক মানে উন্নয়ন, ইনোভেশন হাব গঠনের মাধ্যমে খুদে বিজ্ঞানীদের উৎসাহ প্রদান, সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যাপক কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সর্বোপরি প্রায় সকল বিভাগে সেশন জট প্রায় শুন্যের পথে ৫. ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে ৬টি ভবন, পাওয়ার স্টেশন, নতুন পানির লাইন স্থাপনের কাজ একসঙ্গে চলছে যা প্রায় শেষ পর্যায়ে ৬. দীর্ঘ ১৬ বছর পর মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের উপস্থিতিতে দেশের সর্বোবৃহৎ সফল সমাবর্তন আয়োজন ৭. এবং এই প্রথম ৫০০ কোটি টাকার মেগা প্রোজেক্ট বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিজিটাল পদ্ধতির প্রচলন:
বাংলাদেশ সরকারের মহৎ এক পরিকল্পনার নাম ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ। সে যাত্রায় পিছিয়ে নেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-ছাত্রছাত্রী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমানউন্নয়নে বহু আগে থেকেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে, ইবিতে বর্তমান প্রশাসনের নতুন সংযোজন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ির ব্যবহার। বাংলাদেশ সরকার সর্বত্রই ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর ক্ষেত্রে বদ্ধপরিকর। সেদিক দিয়ে ইবিও বেশ এগিয়ে। এখানে পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত করা হয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে। সম্প্রতি পরীক্ষার ফলাফল অনলাইনে প্রস্তুত ও প্রকাশের বিষয়ে সফটওয়ার উপস্থাপন করেছে ইবি প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করবার আন্তরিক প্রচেষ্টা উল্লেখ করার মতো। তাছাড়া এখানে সরকারের বিভিন্ন প্রজেক্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন ফ্যাকাল্টীর শ্রেণিকক্ষগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে।

জাতীয়-আন্তর্জাতিক ও সাংস্কৃতিক দিবস উদযাপন:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়-আন্তর্জাতিক দিবস পালনসহ নানাবিধ সামাজিক কর্মসূচিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে থাকে। কিছুদিন আগে দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব ড. খুরশীদা বেগম সাঈদ-এর অংশগ্রহণে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ বিষয়ক জনঅবহিতকরণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যের আবশ্যকতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। ইবিতে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে, যেখানে উপাচার্য মহোদয় বলেছেন- ‘জননেত্রী ফিরে এসেছিলেন বলেই দেশ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’ পালিত হয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জাতীয় শোক দিবস, বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মদিবস, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবসসহ নানাবিধ দিবস। ইবিতে আয়োজন করা হয়েছে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস, ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবসের অনুষ্ঠান এবং ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠান। মুক্তিযোদ্ধারা যে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, তাদেরকে সম্মান জানানো যে আমাদের পবিত্র দায়িত্ব তা গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাপক জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে ইবির জন্মদিনও পালিত হয়েছে। বরাবরের মতই বাংলা বিভাগের আয়োজনে ইবিতে বর্নাঢ্য বসন্তবরণ উৎসব আয়োজিত হয়। প্রাণের এই উৎসবের আলোচনায় উঠে আসে বসন্তের ঐতিহাসিক তাৎপর্য। বসন্ত আমাদের পুরোনো জরাজীর্ণকে অগ্রাজ্য করে নতুনকে আলিঙ্গন করার প্রতীক হিসেবে কাজ করে, সে কথা বারবার ধ্বনিত হয়। ইবিতে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাণের দাবি বৈশাখী মেলা, তিনদিনব্যাপী বৈশাখী মেলা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এখানে উদ্যাপিত হয়েছে।

দুঃখ ও প্রত্যাশা:
পরিতাপের বিষয় বর্তমান প্রশাসনের দুই বছরের কম সময়ে এত উন্নয়নের পরেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। শিক্ষকদের মাঝেও রয়েছে প্রবল অনৈক্য ও আদর্শবিচ্যূতি, শিক্ষার্থীদের ভেতরেও তেমন জাগ্রত হয়নি দেশপ্রেম, কথায় কথায় জাতীয় সম্পদের বিনষ্টি সে কারণে মাঝে মাঝে হতাশার সৃষ্টি করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু সিনিয়র শিক্ষক বলেন- জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন দেখে আমরা মুগ্ধ যে-কোনো মূল্যে ইবির এই পরিস্থিতি সবার ধরে রাখা উচিত। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও মনে করেন কারো ব্যক্তিগত এজেন্ডা নয় বরং সকল সুচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের লক্ষে আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি। এর গতি যেন কেউ ব্যাহত করতে না পারে সেজন্য সকলের সহযোগিতা আমরা কামনা করি। আমরা এসবের ভেতরেও স্বপ্ন দেখি বহুদূরে যাবার, যেমন আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা পৌঁছে গেছি মহাকাশের শেষপ্রান্তে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ স্থাপনের ভেতর দিয়ে। পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডটি এখন তুমুল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দেশ। সফলতার ভাগও নেহায়েৎ কম নয়। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে এদেশ প্রবল চ্যালেঞ্জিং। এই স্বভাব যদিও বাঙালির চিরন্তন। যাদের যোগ্যতা থাকে তারাই চ্যালেঞ্জে অংশ গ্রহণ করে। বাংলাদেশের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই চ্যালেঞ্জের এক অগ্রদূত এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নময় বাংলাদেশ বিনির্মাণের দক্ষ কারিগর। আর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সেক্ষেত্রে তার পূর্ণ স্বপ্নপূরণের পার্থসারথী হয়ে থাকতে চায়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিকীকরণ, দেশপ্রেম, বিজ্ঞানমনস্ক মানবসমাজ, মানবতাবাদী মনন সৃষ্টি, বাঙালির চিরন্তন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের চর্চা এবং জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ-ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিসহ বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনানির্ভর মানবসম্প্রদায় সৃষ্টি করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমাগত অবকাঠামোগত উন্নয়নে বর্তমান প্রশাসন তার দৃশ্যমান চরিত্র অক্ষুন্ন রাখবে। কারো সঙ্গে অমূলক-অগ্রহণীয় প্রতিযোগিতা নয়, যোগ্যতানির্ভর ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে ক্রমাগত সামনের দিকে এগিয়ে যাবে নিশ্চয়ই।

ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল
সহযোগী অধ্যাপক,বাংলা বিভাগ।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।

অমৃতবাজার/ইকরামুল