ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রুয়েটে বাসচালক হত্যা: দুই ‘ক্লু’ নিয়ে তদন্তে পুলিশ


রাবি প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:২২ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, মঙ্গলবার
রুয়েটে বাসচালক হত্যা: দুই ‘ক্লু’ নিয়ে তদন্তে পুলিশ

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসচালক আবদুস সালামকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নিহতের ছেলে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে আটককৃতের নাম-পরিচয় জানানো হয় নি।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে কর্মচারিরা। এসময় তারা খুনিদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। আর হত্যার ঘটনায় পুলিশ দুই ‘ক্লু’ নিয়ে মামলার তদন্ত কাজ চালাচ্ছেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কর্মচারিরা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এসময় তারা ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তারা প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। এসময় তারা খুনিদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। এরপরও গ্রেফতার করা না হলে লাগাতার কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দেন কর্মচারী সমিতির নেতারা। এসময় তারা উপচার্যের অপসারণ দাবি করেও বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

আল্টিমেটামের বিষয়টি নিশ্চিত করে কর্মচারি সমিতির সভাপতি মহিদুল ইসলাম মোস্তফা বলেন, বাসচালক আবদুস সালামের খুনিদের গ্রেফতার দাবিতে কর্মবিরতি ঘোষণা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। এরপরও গ্রেফতার না হলে লাগাতার কর্মবিরতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেয়া হবে।

এছাড়া কর্মচারিদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর সাত দফা দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবিগুলো হল- সব রাস্তা ও হাঁটার পথে উজ্জ্বল আলোর ব্যবস্থা করা, সব ফটক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, অগ্রণী গেট বন্ধ করা এবং সব প্রবেশ পথে যানবাহন স্ক্যানিং সিস্টেম চালু করা, খেলার মাঠে রুয়েট শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা, জরুরি প্রয়োজনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়কে এর ক্ষতিপূরণ দেয়া।

মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদত হোসেন খান বলেন, বাসচালক হত্যাকা-ের ঘটনায় নিহতের ছেলে পলাশ বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকালে মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। নিহতের ছেলের সঙ্গে স্থানীয়দের বিরোধের জের ধরে মামলা ও আবদুস সালামের পদন্নতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে মামলার তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

২০১৪ সালে আবদুস সালামের ছেলে পলাশের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের মারামারি হয়। ওই ঘটনায় পলাশ বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। গত রোববার ওই মামলার সাক্ষী দেন আবদুস সালাম। এর পরদিনই খুনের ঘটনা ঘটে- বলছিলেন ওসি শাহাদত হোসেন।

এ বিষয়ে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে খুনিদের আটক করার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে।’

এর আগে সোমবার রাত ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের শেখ হাসিনা হলের সামনে বাসচালক আবদুস সালামকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এসময় তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। এর দুই সপ্তাহ আগে আব্দুস সালাম গাড়ির সহকারী থেকে চালক হিসেবে পদন্নতি পান।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/সুজন