ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ইবিতে ইভটিজিংয়ের দায়ে দুই বখাটেকে ছাত্রলীগের মারধর


ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:৫৯ এএম, ১৩ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার
ইবিতে ইভটিজিংয়ের দায়ে দুই বখাটেকে ছাত্রলীগের মারধর

ছাত্রীদের ইভটিজিং করার দায়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইয়াকুব আল ইমরান ও সাজ্জাদ আকাশ নামের দুই বখাটে শিক্ষর্থীকে মারধর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা। সোমবার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল পুকুর পাড়ে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। উত্ত্যক্তকারী দুইজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে আকাশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও ইমরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় বলে জানা গেছে।

জানা যায়, সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব ও তার বান্ধবীরা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল সংলগ্ন মেম্বার চাচার দোকানে আড্ডা দিচ্ছিল। এসময় ইমরান ও আকাশ পাশ দিয়ে মোটরসাইকেল যোগে যায় এবং দোকানে বসে থাকা ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে। কিন্তু জুনিয়র হওয়ায় ভয়ে তারা তখন কোন প্রতিবাদ করেনি। পরে ব্যক্তিগত কাজে সাকিব তার বান্ধবীদের নিয়ে জিয়া হল মোড়ে আসলে ইমরান ও আকাশ তাকে ডেকে পাঠায়। তাদের ডাকে সাকিব সেখানে গেলে তারা তাকে চড়-থাপ্পড় দেয়।

মার খেয়ে সাকিব সেখান থেকে চলে আসে এবং এই ঘটনা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের কর্মী অনিক ও বিপুলকে জানায়। অনিক ঘটনা জানার জন্য ইমরান ও আকাশকে ফোন করলে তারা ফোন রিসিভ না করে হোল্ড করে রাখে। পরে আকাশ ও ইমরান বঙ্গবন্ধু হল এলাকায় আসলে ছাত্রলীগ কর্মী বিপুল, অনিক, আবির ও নীলরা তাদের উত্তম-মাধ্যম দেয়।

উল্লেখ্য, উত্ত্যক্তকারী ওই দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনসহ আরও অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া চলতি বছরেই গত ২৯ জানুয়ারি আন্ত:বিভাগ ক্রিকেট টুনার্মেন্টর বাংলা ও অর্থনীতি বিভাগের মধ্যকার ম্যাচে আম্পায়ারের সাথে অসদাচারণের অভিযোগ রয়েছে ইমরানের বিরুদ্ধে।

ছাত্রলীগকর্মী অনিক ও বিপুল বলেন, ‘উত্ত্যক্তকারী আকাশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আর ইমরান প্লেয়ার। তাদের কাছে আমরা এমন আচরণ আশা করি না। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করি, ভালবাসি। কিন্তু এমন একজন মানুষের সন্তানের যখন এই ঘটনা শুনি তখন আমরা ব্যথিত হই।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘এই ঘটনায় আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি।’

অমৃতবাজার/আতিকুর/মাসুদ