ঢাকা, রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

‘চার বছরেও কথা রাখেনি রাবি কর্তৃপক্ষ’: তদন্ত বন্ধ


শিহাবুল ইসলাম, রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:৪৯ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার | আপডেট: ১১:১৬ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, বুধবার
‘চার বছরেও কথা রাখেনি রাবি কর্তৃপক্ষ’: তদন্ত বন্ধ ফাইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বর্ধিত ফি প্রত্যাহার ও বাণিজ্যিক সান্ধ্যকোর্স বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ‘হামলা’ ও ‘সংঘর্ষের’ ঘটনায় পুলিশের দায়েরকৃত মামলার হাজিরার দিন ছিল মঙ্গলবার।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের এ মামলায় আসামিদের হাজিরার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ এপ্রিল।

হাজিরা দিতে গিয়ে মামলার আসামি উৎসব মোসাদ্দেক বলেন, ‘ভিত্তিহীন ওই মামলায় যাদেরকে আসামি করা হয়েছে, তারা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যুক্ত রয়েছে। এ অবস্থায় কিছুদিন পর পর হাজিরা দিতে আসা আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে। অর্থ ও সময় ব্যয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি আমরা।’ এ অবস্থায় মামলা দ্রুত বিচার শেষ করার দাবি জানান তিনি।

‘ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের করা তদন্ত কমিটি যদি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতো, সেখানে আমরা নির্দোষ প্রমাণিত হতাম। আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্দোষ বললে পুলিশের মামলা অগ্রহণযোগ্য হয়ে যেত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে বারবার অঙ্গিকার করলেও তারা মামলা প্রত্যাহার ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না। চার বছরেও তারা আমাদেরকে দেওয়া কথা রাখেনি’- বলছিলেন উৎসব মোসাদ্দেক।

বিচারকাজের বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুন্না সাহা বলেন, ‘বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়ের করা দুইটি মামলার বিচার কাজ চলছে। দশজনের মতো আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আগামী ২৬ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিল হবে। ওইদিন আদালত অভিযোগ গঠনের তারিখ দেবেন। বাকি আসামিরা ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত জামিনে রয়েছেন।’

ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা তদন্ত কমিটির কাজ এক বছরের মাথায় বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান কমিটির আহ্বায়ক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ওই সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেও তাদের পাওয়া যায়নি। হলে নোটিস দেয়া হয়েছে, ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে ও কয়েকজনের বাড়ির ঠিকানায় চিঠি পাঠানোর পরও তারা কেউ যোগাযোগ করেনি।’

‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও হল কর্তৃপক্ষের সাক্ষ্য নিয়েছিলাম। তারা তাদের মতো ভাঙচুর করেছে বলে সাক্ষ্য দিয়েছিল। এ অবস্থায় তদন্ত চালিয়ে গেলে একপাক্ষিক ও শিক্ষার্থীদেরই বিপক্ষে যেত। আর সেসময় শিক্ষার্থীরা যোগাযোগ করলে হয়তো তারা নির্দোষ প্রমাণ হতো। তাই বাধ্য হয়ে কমিটির সবাই মিলে বসে একবছরের মাথায় আমরা তদন্ত বন্ধ করে দেই।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এমএ বারী ওইদিনের (২ ফেব্রুয়ারি) ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৭ মে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ১৬ জন নেতাকর্মী, রাবি শিবিরের তৎকালীন সভাপতি আশরাফুল আলম ইমন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীসহ মোট ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাবিতে বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিলের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ধর্মঘট পালন করছিলেন। ওইদিন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিলে ছাত্রলীগ ও পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। ওই ঘটনায় সাংবাদিকসহ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ এবং ছাত্রলীগ বাদি হয়ে পৃথকভাবে দুইটি করে মোট ৬টি মামলা করে। সেইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলায় বেআইনি সমাবেশ, মারামারি, সরকারি কাজে বাধাদান ও ভাঙচুরের অভিযোগে ২শ জনকে এবং বিস্ফোরক আইনে আরো ২শ জনকে আসামি করা হয়। তবে বাদিপক্ষের অনুপস্থিতিতে মামলাটি ‘অটোমেটিক’ খারিজ হয়ে গেছে বলে দাবি করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রশাসন।

একই অভিযোগে ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৩শ জনকে আসামি করে আরও দুইটি মামলা করে মতিহার থানা পুলিশ। এ দুই মামলার বিচার শুরু হয়েছে। তবে একই ঘটনায় ছাত্রলীগের দায়ের করা মামলা কিছুদিন পরে তারা তুলে নেয়।

অমৃতবাজার/মিঠু