ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় দিনের মত বন্ধ গণবি’র প্রশাসনিক কার্যক্রম


বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২:১৩ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
দ্বিতীয় দিনের মত বন্ধ গণবি’র প্রশাসনিক কার্যক্রম

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডাঃ লায়লা পারভিন বানুকে (চলতি দায়িত্ব) তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনার পর আজ বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার সময় আবারো প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে সকল ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সকালবেলায় স্ব স্ব কর্মে যোগ দিতে আসা কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের বাইরে অবস্থান করেন।

গতকাল মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর ১ টা থেকে নিজ কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা বন্ধ অবস্থায় অবরুদ্ধ থাকার পর বিকাল ৪ টার দিকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডাঃ লায়লা পারভিন বানু। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতা এবং শিক্ষার্থীদের বারবার আশ্বাস দেয়া সত্ত্বেও তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশংকার ব্যাপারে উদাসীনতার অভিযোগের সূত্র ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

গত ২৬ এপ্রিল গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া বিবিএ সহ ৭ টি কোর্সে শিক্ষার্থীদের ভর্তি না হবার অনুরোধ জানিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিভাগটির অনুমোদন জটিলতা ও তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশংকার সুরহার দাবী জানিয়ে আসছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়ের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৯ মে ইউজিসির বিজ্ঞাপনের ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ জারি করে হাইকোর্ট।

উপাচার্য ডাঃ লায়লা পারভিন বানু বলেন, ‘ইউজিসির সাথে ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সরাসরি সাক্ষাত করতে চাইলে ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাড়া না পাওয়ায় কোন অগ্রগতি সম্ভব হয়নি’। এমতাবস্থায়  শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের সাথে  বাকবিতণ্ডা করে উপাচার্যের কক্ষ থেকে বেড়িয়ে যায় এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেয়।

এরপর আবারো ভেতরে ঢুকে উপাচার্যের দরজা লাথি দিয়ে ভেঙ্গে উপাচার্যের ব্যবহৃত চেয়ার বাইরে এনে ভাঙচুর চালায়। প্রশাসনিক ভবনের নিচতলার সিসি ক্যামেরা ও বেশকিছু গ্লাস ভেঙে দেয় এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে অবস্থান নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের স্টোর কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেনঃ দৈনিক কাজগুলো সময় মত শেষ করতেই হিমশিম খেতে হয়। এর উপর এমন ভাবে সকল কাজ আটকে থাকলে পরে কিভাবে কাজ শেষ হবে ? অনেক বিল আটকে আছে। যেসকল প্রতিষ্ঠান আমাদের সাথে লেনদেন করে তাদের টাকা পরিশোধ করার কোন পথ নেই।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ` আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালাসহ আরও কঠোরতর আন্দোলনে যাবেন তারা।

অমৃতবাজার/সারোয়ার/সাজ্জাদ