ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

হাবিপ্রবিতে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের নাটক ও নেপথ্য ঘটনার ভিডিও


হাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:৫৭ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
হাবিপ্রবিতে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের নাটক ও নেপথ্য ঘটনার ভিডিও

গত ২০ নভেম্বর দিনাজপুরে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রগ্রতিশীল শিক্ষক ফোরাম নামে একটি সংগঠনের কয়েকজন শিক্ষক। পরবর্তীতে তারা মিডিয়ার কাছে অভিযোগ করেছিল তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে হামলা করে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী।

কিন্তু ঘটনার মূলে ও একটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে সে রকম কিছুই পাওয়া যায়নি। সেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রগতিশীল নামধারী কিছু শিক্ষক সেদিন অনুমতি বা কোন পূর্ব নোটিশ না দিয়ে সরাসরি বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় উপাচার্যের কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং প্রক্টর। প্রগতিশীল শিক্ষক নামধারী এই কতিপয় শিক্ষণগণকে সে সময় ভিসি এবং রেজিস্ট্রার এর উপর চড়াও হতে দেখা যায়, এভাবে রাতের ৮টা পর্যন্ত তারা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

উপাচার্য ডায়াবেটিকসের রোগী হওয়ায় ইনসুলিন নিতে বের হতে চাইলেও তাকে আটকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার সময় রেজিস্ট্রার তাদেরকে বার বার পরেরদিন সকালে মিটিং এ বসার কথা বললেও তারা রাজি না হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এক পর্যায়ে উপাচার্য অবস্থানকারী শিক্ষকদের অনুরোধ করেন, এই বলে যে তিনি অসুস্থ আপনারা কালকে আসুন অফিস টাইমে আপনাদের সাথে বসবো, কিন্তু তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাদের দাবি মানা না পর্যন্ত তারা এক পা ও নড়বে না এবং কাউকে এই রুম থেকে বের হতে দিবেন না বলে সেখানে শুয়ে পড়েন। এই ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে উদ্ধার করে তার বাস ভবনে দিয়ে আসে। কিন্তু আজ সাংবাদিকদের হাতে আসা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় ঘটনার পরে শিক্ষকরা স্বাভাবিক ভাবেই বের হোন, কিছুদূর আসার পর আবার ফিরে গিয়ে দুজনকে হাত ধরতে বলেন, কে তার হাত ধরবেন সেটা নিয়েও সংশয় দেখা যায়। যা কিছুটা হাস্যকর। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ফলাও করে খবর প্রচারিত হয়।

উল্লেখ্য যে এসব ঘটনার সুত্রপাত হয় চলতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি ড. মু. আবুল কাসেম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের প্রথম দিন থেকে। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের প্রথম দিন প্রটোকল অনুযায়ী ভাইস চ্যান্সেলর ড. মু. আবুল কাসেমকে এয়ারপোর্টে রিসিভ করার জন্য গাড়ি পাঠানো থেকে বিরত থাকেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক ভিসি প্রফেসর মো. রুহুল আমিন। ভিসির বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য স্বাক্ষাৎকালে বলেছেন যে তাকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভুল সিদ্ধান্ত। এরই ধারাবহিকতায় বিগত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটিতে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের পক্ষ থেকে তাদের মনোনীত প্রতিনিধি রাখা সহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়।

বর্তমান ভিসি ড. মু. আবুল কাসেম সুষ্ঠু ভর্তি পরীক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে তাদেরকে সাথে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেন বলে জানান এবং ভর্তি পরীক্ষা কমিটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সাবেক ভিসি প্রফেসর মো. রুহুল আমিন সমর্থিত প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষদের নিয়োগ দেন। গত ৫ থেকে ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা-২০১৮ অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা, বর্তমান ছাত্র ও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এবং অবিভাবকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত ৭-৮ বছরের চেয়ে এ বছর ভর্তি পরীক্ষা পরিবেশ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল সবচেয়ে ভালো।

অমৃতবাজার/রব/মাসুদ

Loading...