ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী আইএইচটিতে ছাত্রলীগের হামলা, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ


রাজশাহী সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৪:০৬ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, বুধবার
রাজশাহী আইএইচটিতে ছাত্রলীগের হামলা, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) ছাত্রলীগের হামলায় অন্তত পাঁচ ছাত্রী আহত হয়েছে। বুধবার ষখঅর সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার জের ধরে ইনস্টিটিউট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দুপুর ১টার মধ্যে ছাত্রদের এবং ৩টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বহিরাগতসহ ছাত্রলীগের নেতাদের উৎপাত ও নিরাপত্তার দাবিতে আইএইচটি’র ছাত্রীরা সকালে সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করে। এতে নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা। আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে ছাত্রলীগের একটি অংশ তাদের পাশে ছিল। পরে পুলিশ গিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রীদের অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের করে দেয়। ছাত্রীরা অধ্যেক্ষের কক্ষ থেকে বের হয়ে হলের সামনে অবস্থান নেয়।

এসময় ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক তুহিনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। এর এক পর্যায়ে পুলিশী ব্যারিকেড ভেঙে গিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রীদের মারপিট করে। এসময় ছাত্রদের পাশে থাকা ছাত্রলীগের এক কর্মীকেও মারপিট করে তারা।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন, আইএইচটির ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রুপা (১৯), একই বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজনিন আক্তার (১৮), ল্যাব বিভাগের ছাত্রী নিশাত (১৮), ল্যাবের ১ম বর্ষের ছাত্রী মোহনা, ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী আফরিন শারমিন, ও বৃষ্টি।

একাধিক ছাত্রী অভিযোগ করেন, বুধবার সকালে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অশালীন আচরণ ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে নিরাপত্তার দাবিতে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে যান। তারা স্মারকলিপি দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত অধ্যক্ষের কার্যালয়ে অবস্থান নেন।

এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ছাত্রীদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। ছাত্রলীগ মিছিল নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বের হতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় ও অনেকের চুলের মুঠি ধরে ফেলে দেয়। এতে অন্তুত ১৫ জন আহত হয়। বর্তমানে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রাজপাড়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান, আন্দোলনরত ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ গিয়ে তাদের প্রতিহত করে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ক্যাম্পাসে পুলিশ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অধ্যক্ষ ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন দাবি নিয়ে ছাত্রীরা আমার কাছে এসেছিলো। দাবি মানার আশ্বাস দিয়ে ছাত্রীদের হলে পাঠানো হয়। কিন্তু হলের সামনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়। সভা শেষে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয় বলে জানান তিনি।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/মাসুদ

Loading...