ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

হাবিপ্রবিতে স্বার্থান্বেষী শিক্ষকমহলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন


হাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫:৫৬ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার
হাবিপ্রবিতে স্বার্থান্বেষী শিক্ষকমহলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

আজ মঙ্গলবার হাজী মােহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) তে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী স্বার্থান্বেষী শিক্ষক মহলের বিরুদ্ধে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করন, পােস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডীন প্রফেসর মাে. মিজানুর রহমান। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আপনারা সবাই অবগত আছেন বিগত ২৭/৯/২০১৬ তারিখ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের পদ শুন্য হওয়ার পর অনেক যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর দেশের একজন বরণ্য শিক্ষাবিদ, সৎ ও সাহসী ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেমকে বিগত ০২/০২/২০১৭ তারিখ থেকে চার বছরের জন্য ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়ােগ দান করেন। প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে যােগদান করার প্রথম দিন থেকেই প্রগতিশীল শিক্ষক ফােরামের ব্যানারে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে অসহযােগিতা ও বিরক্ত করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা অবগত আছেন বিগত ৫-৮ নভেম্বর ২০১৭ তারিখের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা-২০১৮ অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সুসম্পন্ন হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে আপনারাসহ সারাদেশবাসী জেনেছে হাবিপ্রবিতে বিগত পরীক্ষা থেকে এবারের ভর্তি পরীক্ষা অত্যন্ত সুন্দর, সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমূখর পরিবেশে সুসম্পন্ন হয়েছে এবং ন্যূনতম সময় ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে প্রগতিশীল শিক্ষক ফােরামের কাল্পনিক তথ্যের ভিত্তিতে ফল বিপর্যের কথা বলে এ বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। সবার জ্ঞাতার্থে জানাছি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ভর্তি পরীক্ষার কােন গাইডের মােড়ক উন্মাচন করেননি। এমনকি তিনি কােন গাইড বাণিজ্যের সাথে জড়িত নন। তিনি পরীক্ষার ১ মাস ৩ দিন পূর্ব প্লাজমিড প্লাস নামের একটি ভর্তি সহায়িকার মােড়ক উন্মােচন অনুষ্ঠানে ছাত্রদের অনুরােধে প্রক্টর হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যার সাথে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের কােন সম্পর্ক নেই। এ ব্যাপারে ইতােমধ্যে তিনি মিডিয়াতে তার বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন।

‘সি’ (বাণিজ্য) ইউনিটের প্রবেশপত্রের সাথে উত্তরপত্রের ধারাবাহিকতার মিল নাই-এটি সত্য নয়। যা করা হয়েছে পরীক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য করা হয়েছে। সিট প্লান নিজেদেরর পছন্দমতাে করা হয়নি, এমনকি কােন জেলা ভিত্তিক নয়। আইটি স্পশালিষ্ট এর সহায়তায় সম্পূর্ণ রেনডােমাইজেশন পদ্ধতিতে করা হয়েছে যা নিয়ে বিতর্কের কােনই সুযােগ নাই।

প্রতি ইউনিটে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিগত ২০১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিফট পদ্ধতির মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছিল সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মাে. রুহুল আমিন-এর সময় থেকে এ পদ্ধতি শুরু হয়।

আপনারা আরও অবগত হয়েছেন হাবিপ্রবি’র ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার পরিচালক প্রফেসর ডা. এস এম হারুন-উর-রশীদ প্রশাসনের একটি গুরত্বপূর্ণ পদ থেকেই প্রশাসনের বিরদ্ধে বিভিন্ন অযৌক্তিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ ব্যাপারে মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর তার সঙ্গে বিভিন্ন সময় কথা বলেন তাকে প্রশাসনিক সহযােগিতা করার বাধ্যবাধকতার বিষয় স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি তাতে কর্ণপাত না করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলনসহ হাবিপ্রবি তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয় যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে গত ২০/১১/২০১৭ তারিখ তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে প্রফেসর ড. মাে. শাহাদাৎ হাসান খানকে ঐ পদে দায়িত্ব দেন। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনার জন্য একটি স্বাভাবিক ঘটনা। গতকাল ২০/১১/২০১৭ বিকালে প্রফেসর ড. মাে. আনিস খান ও প্রফেসর ড. বলরাম রায়ের নেতৃত্বে প্রগতিশীল শিক্ষক ফােরামের একটি দল পূর্বানুমতি ছাড়াই ভাইস চ্যান্সেলর অফিস কক্ষে প্রবেশ করে এবং প্রফেসর ড. এস এম হারুন-উর-রশীদকে পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি পত্র প্রত্যাহার করার দাবি জানায় এবং ভাইস চ্যান্সেলর অফিস কক্ষে অবস্থান করার কথা বলে সকলকে নিয়ে ফ্লােরে বসে ও শুয়ে পড়েন। ভাইস চ্যান্সেলর মহােদয় তাদের পরদিন আলোচনার কথা বললেও তারা তাতে কর্ণপাত না করে অবস্থান করতে থাকেন। এ অবস্থায় প্রায় ৩ ঘন্টা কেটে যায়। ইতা মধ্য ক্যাম্পাসে মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর ও শিক্ষকবৃদ অবরুদ্ধ হওয়ার কথা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ভাইস চ্যান্সেলর অফিস এসে মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর ও অন্যান্য শিক্ষকবৃনদকে মুক্ত করেন। এত ছাত্রদের সাথে প্রগতিশীল শিক্ষক ফােরামের মধ্যে কিছুটা কথা কাটাকাটি হয়।

উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন-ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. মাে. শাহাদাৎ হাসেন খান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের ডীন প্রফেসর ডা. মাে. ফজলুল হক, সহকারী প্রক্টর সৌরভ পাল চৌধুরী, পি এস টু ভাইস চ্যান্সেলর ও সেকশন অফিসার মােহাম্মদ সামসুজ্জােহা বাদশা, ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী নিশাত সুলতানা, কর্মচারী মাে. আব্দুর রহিম, শ্রমিক নেতা রাজু আহমদ, ছাত্রলীগ নেতা ভেটেরিনারি অনুষদের লেভেল-৫ এর ছাত্র মাে. মারুফ, কৃষি অনুষদের লেভেল-৪ এর ছাত্র রিয়াদ খান, কৃষি অনুষদের লেভেল-৩ এর সাধারণ শিক্ষার্থী সাদিয়া ইয়াসমিন প্রমূখ।

অমৃতবাজার/রব/মাসুদ

Loading...