ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ডিভোর্স বাতিল করতেই রাবি ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছিল


রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৭, রোববার | আপডেট: ০৪:১৯ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৭, রোববার
ডিভোর্স বাতিল করতেই রাবি ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছিল

ডিভোর্স বাতিল করে নতুন করে সংসার করার আশায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রী উম্মে শাহী আম্মানা শোভাকে অপহরণ করা হয়। মেয়েটির পাঠানো ডিভোর্স জোর করে প্রত্যাহারে অপহরণের পর তাকে ঢাকার একটি কাজী অফিসেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে সেখান থেকেই শোভাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

রোববার দুপুরে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মাহবুবর রহমান তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শনিবার বেলা ২টার দিকে ঢাকার রায়েরবাগ এলাকার একটি কাজী অফিস থেকে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এসময় আটক করা হয় অপহরণকারী সোহেলকে। পরে তার দেয়া তথ্যে মাইক্রোবাস উদ্ধার ও এর চালককে আটক করা হয়। রাত ১টার দিকে তাদের ঢাকা থেকে রাজশাহী নিয়ে আসা হয়। রাতেই উদ্ধার ছাত্রীকে নগরীর শাহমুখদুম থানায় অবস্থিত ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়। সেখান থেকে রোববার দুপুরে তাকে রামেক হাসপাতালের ওসিসিতে নেয়া হয়।

পুলিশ কমিশনার বলেন, শুক্রবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তোলা হয়। জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তোলার সময় ওই ছাত্রী চিৎকার করে। কিন্তু লোকজন আসার আগেই দ্রুত তারা ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যায়।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সব থানায় মেসেজ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মাইক্রোবাসের বিবরণে ভুল থাকায় ছাত্রীটি উদ্ধার করতে দেরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিল একটি হায়েস্ট মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ওই মাইক্রোবাসটি ছিল ভক্সি। মাইক্রোবাসের সঠিক বিবরণ পাওয়া গেলে হয়তো রাস্তার মধ্যেই তাদের ধলে ফেলা যেত বলে জানান পুলিশ কমিশনার।

রোববার বিকেলে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিন আদালতে ওই ছাত্রীর জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়। এর আগে সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে-বলছিলেন মাহবুবর রহমান।

মেয়েটিকে নির্যাতন করা হয়েছে, এমন কথা তিনি জানাননি। তবে পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। আদালতে গ্রেফতার তিন আসামির রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি। শুনানি শেষে রিমান্ড মঞ্জুর হলে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। মামলার বাকি তিন আসামিকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আর নগরীর মতিহার থানায় শোভার বাবার দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক ইসমাইল হোসেন।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার সকালে রাবির তাপসী রাবেয়া হলের সামনে থেকে শোভাকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার জন্য ওই দিন শোভা হল থেকে বের হয়েছিলেন। অপহরণের পর তার সন্ধান দাবিতে ওই দিন থেকেই আন্দোলনে নামেন হলের শিক্ষার্থীরা। ঘোরাও করা হয় উপাচার্যের বাসভবনও। পরে শনিবার দুপুরে ঢাকা থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে সোহেল রানার বাবাকেও গ্রেফতার করা হয়। তার নাম জয়নাল আবেদীন। তাকে গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ঢাকা থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। রাজশাহী পুলিশের এই অভিযানে সহায়তা করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। সোহেল রানা পেশায় একজন আইনজীবী। নওগাঁর পত্মিতলা উপজেলার নজিপুর গ্রামে তার বাড়ি।

অন্যদিকে রাবির বাংলা বিভাগের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী শোভা নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি এলাকার আমজাদ হোসেনের মেয়ে। গত ডিসেম্বরে সোহেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সম্প্রতি শোভা তার স্বামীর কাছে তালাকনামা পাঠিয়েছেন। তালাকের বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/সাইফুল

Loading...