ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

হলের সামনে থেকে রাবি শিক্ষার্থী ‘অপহরণ’


রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:৪২ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার
হলের সামনে থেকে রাবি শিক্ষার্থী ‘অপহরণ’

হল থেকে বের হয়েছিলেন স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। হলের গেট থেকে ৫০ গজ এগোতেই তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। তার ‘স্বামী’ কর্তৃক জোর করে তুলে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর। গত বছরের ডিসেম্বরে তাদের বিয়ে হলেও দুই মাস আগে ডিভোর্স হয়ে যায়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী উম্মে শাহী আম্মানা শোভাকে এভাবেই ‘অপহরণ’ করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

শোভা নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি এলাকার আমজাদ হোসেনের মেয়ে। তার ‘স্বামী’ সোহেল রানা পেশায় একজন আইনজীবী। সোহেলের বাড়ি জেলার আরেক উপজেলা পত্নীতলার নজিপুরে।

ঘটনার বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. লুৎফর রহমান জানান, গত ডিসেম্বরে তারা বিয়ে করে। এর মধ্যে তাদের ডিভোর্স হয়েছে। ডিভোর্সের দুই মাস চলছে। তিন মাস হলে নাকি ডিভোর্স কার্যকর হয়ে যায়। তবে সোহেল চাচ্ছে যাতে ডিভোর্স না হয়। সেজন্য আজ সকালে মাইক্রোবাস নিয়ে আসে সোহেল। সকালে বান্ধবীসহ পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল শোভা। এসময় পথে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে সোহেল। পরে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জোর করে শোভাকে গাড়িতে করে নিয়ে যায়।

তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, র‌্যাবকে জানিয়েছি। আমরা সিসি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেছি, গাড়িটি মেইন গেইট ও কাজলা গেইট দিয়ে বের হয়নি। তবে চারুকলা দিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেয়ের বাবা এসেছে। মামলার বিষয়টি তিনিই দেখবেন।’

বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘যেহেতু সামনে বছর তার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ আছে, আর এটা পাবলিক পরীক্ষা, তাই একজনের জন্য ৯৯ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বন্ধ করা হয়নি। আইনের কাছে আসলে মানবিক বিষয়টি নেই। আমরা সেশনজট কাটিয়ে উঠে বিভাগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি, এখন পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে আবারো বড় ধরনের সেশনজটে পড়তে হবে।’

তিনি আরো বলেন, “পরীক্ষা দিতে আসার সময় তার ‘স্বামী’ এভাবে তাকে তুলে নিয়ে গেছে বিষয়টি খুব দুঃখজনক। এমন সমস্যার বিষয়টি আগে থেকে আমাদের জানানো হলে আমরা তার সিকিউরিটির ব্যবস্থা করতাম। তার ‘স্বামী’ যে তুলে নিয়ে গেছে, এটা আমাদের কয়েকজন ছাত্রীও দেখেছে। দ্রুত তাকে উদ্ধারের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।”

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের জানিয়েছেন তারা স্বামী-স্ত্রী। তার স্বামীই নাকি নিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের বলা হয়েছে তাদের খোঁজাখুঁজি করতে। আমরা সব জায়গায় মেসেজ দিয়েছি।’

অমৃতবাজার/শিহাবুল/মাসুদ

 

Loading...