ঢাকা, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি


ইভান চৌধুরী, বেরোবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬:০৭ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার
উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছে মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চেতনা, আদর্শ ও মূল্যবোধে উজ্জীবিত শিক্ষকবৃন্দের সংগঠন নীল দল। মঙ্গলবার দুপুর ২ টায় ক্যাম্পাসের শেখ রাসেল চত্বরে এ মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদের জন্য যোগ্যতা অর্জনকারী ৪জন প্রভাষকের মধ্য থেকে অন্যায়ভাবে রিপুল কবিরকে সাক্ষাৎকারের জন্য চিঠি দেওয়া না দেয়ায় মঙ্গলবারের মধ্যে তাকে সাক্ষাৎকারপত্র না দিলে বুধবার উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেয়া হয়।

নীলদলের সভাপতি ড. শফিক আশরাফের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী ও একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শাহীনুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক এটিএম জিন্নাতুল বাসার প্রমুখ।

মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আপেল মাহমুদ।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন ‘উপাচার্য কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে দিনের পর দিন বাইরে থাকা বন্ধ না করলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্য কর্তৃক তাকে দেওয়া নিয়োগপত্রের ১ (ঘ) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। কিন্তু তিনি রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের দেওয়া চিঠির নিয়োগ শর্ত লঙ্ঘন করে চলেছেন। ’

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, উপাচার্য নয়জন শিক্ষকের প্রমোশন দিতে টালবাহনা করেছেন। আবার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষককে প্রমোশনের জন্য অনুমতি পত্রও দেয়া হয়নি। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ১৫ নভেম্বর সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষকদের প্রমোশনের যে বোর্ড অনুষ্ঠিতহবে প্রয়োজনে তা ঘেরাও করে প্রতিহত করা হবে। তিনি আরও বলেন- ‘উপাচার্য পদের চেয়ে তিনি অনারারি ক্যাপ্টেন পদের বেশি গুরুত্ব দেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি উপাচার্য পদের অমর্যাদা করেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে (১৪নভেম্বর) পর্যন্ত ৩০দিনও ক্যাম্পাসে ছিলেন না । গোলাম রব্বানী তার এহেন কাজের তীব্র নিন্দা জানান।

উল্লেখ্য, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রিপুল কবিরকে সাক্ষাৎকার পত্র না দেওয়ার ঘটনাকে অমানবিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে জঘন্যতম উল্লেখ করে নীল দলের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে উপাচার্যকে মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) সকালে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ পত্র দেওয়া হয়েছে।

অমৃতবাজার/ইভান/মিঠু

Loading...